টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

গাজীপুরে বয়লার বিস্ফোরণে মিরসরাইয়ের নিহত ৩ জনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

এম মাঈন উদ্দিন
সিটিজি টাইমস

চট্টগ্রাম, ০৪  জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  গাজীপুরের কাশিমপুরের নয়াপাড়া এলাকায় মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেড কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে নিহত ১০ জনের মধ্যে ৩ জনের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। সোমবার (৩ জুলাই) বয়লার বিস্ফোরণে অন্যদের সাথে তারাও মারা যায়। নিহতরা হলো উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ৭ নম্বর কাটাছরা ইউনিয়নের পূর্ব বামনসুন্দর গ্রামের মকসুদ আহম্মদের ছেলে আব্দুস ছালাম (৪৭), একই ইউনিয়নের পূর্ব কাটাছরা গ্রামের আবদুল্লাহ মুন্সী বাড়ির লুৎফুল হকের ছেলে মনসুরুল হক (৪০), ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়নের নুরুল মোস্তফা চৌধুরীর ছেলে আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী প্রকাশ আসাদ। নিহত মনসুরুল হক উপজেলার সুফিয়া নুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে প্রথম ফাজিল পাশ করেন। পরে সীতাকুন্ড আলীয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৯৬ সালে কামিল পাশ করেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধওে বয়লার অপারেটর হিসেবে কাজ করছিলেন। তার স্ত্রী, দুই ছেলে এক ময়ে রয়েছে।

কাটাছরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী হুমায়ূন জানান, গাজীপুরের কাশিমপুর নয়াপাড়া এলাকায় ‘মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেড’ নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে সোমবার সন্ধ্যায়। এতে তার ইউনিয়নের আব্দুস সালাম ও মনসুরুল হক নামে দুইজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।

ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা জানান, ঢাকার গাজীপুরে তৈরি পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে তার ইউনিয়নে নুরুল মোস্তফা চৌধুরীর ছেলে আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী প্রকাশ আসাদ মারা গিয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন।

নিহত আশরাফ চৌধুরী আসাদের ভাতিজা আলি আহসান চৌধুরী পাশা জানান, আমার চাচা গাজিপুরের ওই কারখানায় প্রায় ১০ বছর ধরে বয়লার অপারেটরের কাজ করতো। দুর্ঘটনার ২০ মিনিট পরেই এই খবর শুনে মিরসরাই থেকে আমাদের পরিবারের লোকজন ও আমার চাচী ঢাকা গিয়েছে। সেখানে আমার চাচার পরনের শার্টের কলার দেখে আমার চাচি তার লাশ শনাক্ত করেন। বিস্ফোরণে তার লাশ ছিন্নবিচ্ছিন হয়ে গিয়েছিলো।
মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় গাজিপুর জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও এলএ) মাহমুদ হাসান নিহতদেও লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তবে সন্ধ্যা ৭ টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ এখনো বাড়িতে এসে পৌছায়নি।

বয়লার বিস্ফোরণে পাশাপাশি দুটি ইউনিয়নের ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে। মাত্র তারা ঈদের ছুটি শেষ করে কাজে যোগ দেয়ার কয়েক দিনের মধ্যে না ফেরার দেশে চলে যাবে কেউ ভাবতে পারেনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহম্মদ সুমন জানান, তিনি গাজীপুরের ঘটনায় মিরসরাইয়ের কোন লোক মারা গিয়েছেন কিনা জানেন না। তবে খোঁজ খবর নেবেন। যদি নীতিমালা অনুসারে কোন সাহায্যের প্রয়োজন হয় তাহলে তিনি তা করবেন।

মতামত