টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কক্সবাজারে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো

চট্টগ্রাম, ০৪  জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানির কারণে কক্সবাজারের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিপদসীমার উপর পানি চলাচল করছে। ভেঙে খানখান হয়ে গেছে চলাচলের রাস্তাঘাট। বসতবাড়ীতে ঢুকে পড়েছে ঢলের পানি। টানা বর্ষণে অনেক জায়গায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। উপড়ে গেছে গাছপালা-ক্ষেতখামার। স্বাভাবিকের চেয়ে বানি বেড়েছে ৪/৫ ফুট। সদরের জালালবাদ রাবার ড্যাম সংলগ্ন বিরাট এলাকা এখন পুরোপুরি ঝুঁকির মুখে। প্রবল স্রোতে স্থানীয় মনজুর মেম্বারের ঘাটা পয়েন্ট ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গন এলাকা দিয়ে ঈদগাঁও খালের বন্যার পানি অনুপ্রবেশ করায় ২ নং ওয়ার্ডের পূর্ব লরাবাক, ছাতিপাড়া এবং বৃহত্তর পালাকাটা ও বাহারছড়া এলাকার শত শত ঘরবাড়ী পানিতে তলিয়ে যায়। জলছেনা চুলার আগুন। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও পানীয় জলের সংকট। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ওই ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ড এবং ১নং ওয়ার্ডের তেলী পাড়া ও মাছুয়াপাড়ার বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন এলাকা। জালালাবাদের রাবার ড্যাম এলাকার ভাঙ্গন এলাকাটি শ্রীঘ্রই মেরামতের ব্যবস্থা করা না হলে ২ নং ওয়ার্ডের কয়েকশ পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। প্লাবিত এসব এলাকা গতকাল পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম রহিমুল্লাহ, পানি উন্নয়নবোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান। কবলিত এলাকা রক্ষায় তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান।

জালালাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান রাশেদ জানান, ঈদগাঁও বাজার ফরাজীপাড়া সড়কের পূর্ব লরাবাগের হাফেজখানা পয়েন্ট দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ভেঙ্গে গেছে জালালাবাদের পালাকাটা এলাকায় অনেকের বসত বাড়ি। ভেসে গেছে গৃহস্থালী সামগ্রী। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ তৎপরতা শুরুর দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এদিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় ঈদগাঁও বাজারের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। সড়ক, উপ-সড়কগুলোতে জমে আছে ময়লাক্ত পানি। ডিসি সড়কের তেলীপাড়া রাস্তার মাথা থেকে বঙ্খিম বাজার পয়েন্টটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এই সড়কে বড় বড় গর্তের কারণে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আলমাছিয়া মাদ্রাসা গেইট পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা খুব নাজুক।

উপকুলীয় জনপদ পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলী গ্রাম জোয়ারের পানিতে আবারও তলিয়ে গেছে। বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কার্যত পানিবন্দী অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। ইসলামপুর, চৌফলদন্ডী এবং ভারুয়াখালীর নিম্নাঞ্চল এখন পানির নিচে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
এদিকে টানা ভারী বর্ষণে মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মাতামুহুরীরর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন উপজেলার হাজারো পরিবার।

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে পৌরসভার একাধিক নিমাঞ্চল। গতকাল দুপুর থেকে এক নম্বর বাঁধ এলাকা হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে নদীর পানি। স্থানীয় মজিদিয়া মাদরাসাসহ আশপাশ এলাকার অন্তত শতাধিক পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ার কারনে লোকজন দুর্ভোগে পড়েছে।

উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, ভারী বর্ষণের কারনে মাতামুহুরী নদীতে বেড়ে চলছে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি। ইতোমধ্যে নদীর পানি ঢুকে তাঁর ইউনিয়নের শতাধিক পরিবারের বসতঘর প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতে মাতামুহুরী নদীতে গতকাল সকাল থেকে পানি প্রবাহ বেড়েছে। এ অবস্থার কারনে নদীর শাখা খাল হয়ে তাঁর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, ডেইঙ্গাকাটা, রসুলাবাদসহ একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেছে। এলাকার দুর্গত জনসাধারণ বর্তমানে পানিবন্দি হয়ে পড়ার কারনে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার ও বিএমচর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে মাতামুহুরী নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী নীচু এলাকার লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে পানি। এ অবস্থার কারনে দুই ইউনিয়নের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

চিরিঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন বলেন, দুইদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢলের প্রবাহ বেড়েছে। এ অবস্থার কারনে উপজেলার চিংড়িজোনের শত শত চিংড়ি প্রকল্প পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে চিংড়ি প্রকল্প তলিয়ে গেলে মাছ ভেসে গিয়ে বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হবে চিংড়িজোনের হাজারো চাষী।

কক্সবাজার পানি উন্নয়নবোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সবিবুর রহমান জানান, হঠাৎ ভারী বর্ষণের কারণে পুরো জেলার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকায় প্রায় দেড়শ ফিট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। চকরিয়ার মাতামুহুরীর নদীর পানি ৯৬ সে.মি এর উপরে বেড়েছে। প্লাবিত এলাকার খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। একটু পানি কমলে সংস্কার করা হবে বলে তিনি জানান।

মতামত