টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রামগড়ে পাহাড় ধস: ক্ষতিগ্রস্থরা অনিশ্চয়তায় ফিরতে চান না বসত-বাড়িতে

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ০৪ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  খাগড়াছড়ির রামগড়ে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। পাহাড় ধসে বাড়ি-ঘর, স্বজন ও সম্পদ হারানোর ২০দিন পেরিয়ে গেলেও তারা জানেন না তাদের পরবর্তী গন্তব্য কোথায়? ফিরতে চাননা ঝুঁকিপূর্ন বাড়িতে। তারা অন্যের জায়গায় অস্থায়ীভাবে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনতিপাত করলেও সামান্য সহযোগীতা ছাড়া স্থায়ী কোন সহায়ক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি সরকারী ও বেসরকারী কোন প্রতিষ্ঠানকে।

রামগড় উপজেলার বুদংছড়া এলাকার মোঃ মোস্তফা মিয়া জানান গত ১৮ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রামগড় উপজেলার বুদংছড়ায় একটি মাটির ঘরের ওপর পাহাড় ধসে তার ঘর সম্পূর্ন বিধ্বস্থ হওয়ার পাশাপাশি তার চৌদ্দ ও দশ বছর বয়সী ছেলে নুরুন্নবী ও মোঃ হোসেন মাটি চাপা পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ১৮জুন সকাল বেলায় যে পাহাড় ধস আতংক জীবনে ভর করেছে, তা থেকে এখনো বেরোতে পারিনি আমরা।

প্রশাসন আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন রামগড় উপজেলা প্রশাসন থেকে ৪০ হাজার টাকা, ৬০ কেজি চাল, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি থেকে ১০ হাজার টাকা, খাগড়াছড়ি ব্লাড ডোনার এসোসিয়েশন থেকে ৫ হাজার টাকা, সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছি।

রামগড় উপজেলার নাকাপা এলাকার জয়নাল আবেদীন জানান পাহাড় ধসে তার ঘরটি বিধ্বস্থ হবার পর তিনি তার আত্মীয়ের বাড়িতে আছেন। তার বসত বাড়ির জায়গাটুকু ছাড়া আর কোন জায়গা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন তার ভবিষ্যত সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। এই পর্যন্ত শুধু বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, খাগড়াছড়ি ইউনিটের পক্ষ থেকে ১০ হাজার এবং খাগড়াছড়ি ব্লাড ডোনারস এসোসিয়েশন থেকে ৩ হাজার টাকা পেয়েছেন, তবে সরকারীভাবে তিনি কোন সহযোগিতা পাননি।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, খাগড়াছড়িতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এমন কয়েকটি পরিবারের পাশে প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্চাসেবী সংস্থা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে পূনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া যারা অধিক ঝুঁকিপূর্ন এলাকায় বসবাস করছে, তাদের তালিকা প্রনয়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সকল পরিবারকে নিরাপদে বসবাসের লক্ষ্যে পূনর্বাসন করবো।

মতামত