টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আমরা বসে নেই, জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছি: সংবাদ সম্মেলনে নাছির

চট্টগ্রাম, ০৩ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): সাম্প্রতিক বর্ষণে ৫০০ কোটি টাকার সড়কের ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৪১টি ওয়ার্ডের কোনো না কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে আমাদের কাজ চলছে। আমরা বসে নেই। কাজ করছি। কাজ করছি বলেই কিছু কিছু জায়গায় রেজাল্ট পেয়েছি। এসব কাজ আরও বেগবান হবে।

সোমবার (০৩ জুলাই) দুপুরে নগর ভবনের কেবি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এ মন্তব্য করেন। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও সাম্প্রতিক বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতকরণে চসিকের উদ্যোগ-কার্যক্রম জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সম্প্রতি ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর চিত্র ও সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন মেয়র।

মহেশখালকে ঘিরে নেওয়া বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ খালের দুই পাশের এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে বলে আশ্বাস দেন নগর আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক। এই মহেশখাল ঘিরে বেশকিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মেয়র নাছির।

আ জ ম নাছির বলেন, “চট্টগ্রাম শহরের ৩৪ খালের মধ্যে কয়েকটি অস্তিত্বহীন হয়ে গেছে, অনেকগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর খালগুলোতে খনন করে পানিধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছি।”এসব স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের ফলে আগে জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে বেশকিছু এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়েছে দাবি তার।

মেয়র বলেন, “এসব স্বল্পমেয়াদি বেশকিছু পদক্ষেপের ফলে নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রিনভিউ এলাকা, নাজিরপাড়া, মোহাম্মদপুর, খতিবের হাট, নাঙ্গলপাড়া, বড়বাড়ি, বিবিরহাট পশ্চিম পাড়া এসব এলাকায় গত বছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা হলেও এ বছর আর হয়নি। এটা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি। ৪১টি ওয়ার্ডের কোনো না কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে আমাদের কাজ চলছে। আমরা বসে নেই। কাজ করছি। কাজ করছি বলেই কিছু কিছু জায়গায় রেজাল্ট পেয়েছি। এসব কাজ আরও বেগবান হবে।”

মেয়র আরো বলেন, “কয়েকশ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। রাস্তা উঁচু করা হবে, ড্রেন নির্মাণ করা হবে, কালভার্ট হবে। খালের আটটি পয়েন্টে মাটি উত্তোলন করা হবে যতবেশি সম্ভব।”

বাঁধ অপসারণের কারণে মহেশখাল দিয়ে জোয়ারের পানি এসে পুরো এলাকা প্লাবিত করছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‍“মহেশখালে অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। এখন জোয়ারের পানি আসছে। জোয়ার আর বৃষ্টির পানি একসঙ্গে হলে পানি উঠার মাত্রাটা বাড়ে। মহেশখালের পানি বঙ্গোপসাগরে যাওয়ার যে পথটা ছিল, সেটা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। পথটি আবার আবার ফাংশনাল করব আমরা। জায়গা অধিগ্রহণ করে দিয়েছি, যাতে পানিগুলো সরাসরি বঙ্গোপসাগরে ফেলা যায়।”

মহেশখালের পানিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে কর্ণফুলি ও বঙ্গোপসাগরে ফেলতে পারলে এ খাল ঘিরে থাকা পুরো এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস মেয়রের।

চট্টগ্রাম যে খালগুলোর অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে আরএস নকশার ভিত্তিতে ডিজিটাল জরিপ হচ্ছে বলেও জানান মেয়র। এছাড়া খালের উপর ও পাড় থেকে যত অবৈধ স্থাপনা আছে সেটাও পর্যায়ক্রমে অপসারণ করা হবে বলে জানান নাছির।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শহরে অনেক জলাশয় ও জলাধার ছিল, যার অধিকাংশ এখন বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট যেগুলো আছে সেগুলো যাতে ভরাট না হয় সে ব্যাপারে নগরবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।

“কোনো পুকুর বা জলাশয় ভরাট হতে দেখলে সিটি করপোরেশনকে খবর দেবেন। আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নেব।”

সড়ক নষ্ট হয়ে ক্ষতি ৫০০ কোটি টাকা

সম্প্রতি ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর ৩০ শতাংশ সড়কের ক্ষতি হয়েছে, যার আর্থিক পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা বলে মেয়রের সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়।

ভারি বর্ষণে নগরীর মোট ৫৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে মেয়র নাছির বলেন, এসব সড়ক ব্রিক সলিং ও খোয়া দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অনুকূলে আসলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো কার্পেটিং করা হবে বলে জানান তিনি।

পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি) চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ার চায়না’র সঙ্গে ২৭টি স্লুইস গেইট নির্মাণ, বড় খালগুলোর ‍দুইপাশে রিটেইনিং ওয়াল এবং খালসমূহের ড্রেজিংয়ের জন্য পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, বর্তমানে প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। প্রকল্পটি জি টু জি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য ইআরডিতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্টে কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ, কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক ও হাসান মুরাদ বিপ্লব উপস্থিত ছিলেন।

মতামত