টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজিই রামগড়ে পাহাড়ী-বাঙ্গালী উত্তেজনার কারণ

নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপনের দাবী গ্রামবাসীর

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ০২ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  জেলার রামগড় উপজেলার দুর্গম সোনাইআগা, ব্রতচন্দ্রপাড়া ও কালাডেবা এলাকায় বসবাসরত পাহাড়ি ও বাঙ্গালীদের মাঝে সৃষ্ট উত্তেজনার নৈপথ্যে সন্ত্রাসীদের অব্যাহত চাঁদাবাজীই মূল কারন বলে দাবী করছেন স্থানীয় জনগন ও প্রশাসন। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত চাঁদাবাজী বন্ধ এবং এলাকাবাসীর জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য স্থায়ীভাবে পুলিশ বা বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের দাবী স্থানীয়দের। ঐ এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি বা বর্ডার আউট পোষ্ট (বিওপি) স্থাপন করার ব্যাপারে দ্রুত উধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপ চাওয়া হবে বলে স্থানীয়দের আশ্বস্থ করেছেন প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তিরা। রোববার দুপুর ১২.০০ ঘটিকা হতে ৩.০০ ঘটিকা পর্যন্ত রামগড় উপজেলার সোনাইআগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা প্রশাসন ও শতাধিক গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত শান্তি-সম্প্রীতি বৈঠকে এসব আশ্বাস দেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। এর আগে গতকাল শনিবার দুপুরে একই বিদ্যালয়ে রামগড়ের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পাহাড়ি এলাকাবাসীর পক্ষে মিউপ্রু মারমা, আমিয়া মারমা, চাইলাপ্রু মারমা, মংসাথোই মারমা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার ক্যাওরী মারমা বক্তব্য রাখেন। তারা সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজীর কারণে এলাকায় শান্তি শৃংখলা নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন তারাও সন্ত্রাসীদের হাতে প্রতিনিয়ত জিম্মি। সন্ত্রাসী কারা তা এলাকাবাসী ভালো করেই জানেন। জীবন ও নিরাপত্তার অজুহাতে এককভাবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারেন না এক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি বাঙ্গালীদের সহযোগীতার কথা উল্লেখ করে তারা তাদের ঐ এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি অথবা একটি বর্ডার আউট পোষ্ট (বিওপি) স্থাপনের দাবী জানান।

বাঙ্গালীদের পক্ষে এই সভায় বক্তব্য রাখেন হাফিজুর রহমান, আমির হোসেন, মীর হোসেন, পৌর কাউন্সিলর আবুল বশর, ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ হোসেন। তারা আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজীর জন্য দায়ী উল্লেখ করে বলেন চাঁদা দিতে দেরী হলে বসত বাড়ীতে হামলা ও স্ত্রী সন্তানদের উপর নির্যাতনের হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। তাদের দাবী সন্ত্রাসীরা দিনে দুপুরে অস্ত্র সজ্জিত হয়ে ব্রতচন্দ্রপাড়া ও টিলাপাড়ার পাহাড়ি এলাকায় গুরে বেড়ায় প্রশাসন ও স্থানিয় পাহাড়িরা সহযোগীতা করলে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করা গ্রেফতার করা সম্ভব। তারা আরো বলেন, শান্তিচুক্তির পর থেকে এসব এলাকায় পাহাড়ী-বাঙ্গালীরা সহ-অবস্থানে বসবাস করছে কিন্তু সম্প্রতি সময়ে সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজী, হুমকি এসব এলাকার পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের মাঝে অবিশ^াস তৈরী করেছে। আর এ দূরত্ব থেকেই শুক্রুবার রাতের অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য ইউপিডিএফের চাঁদাবাজীকেই ফাঁকাগুলি বর্ষণ ও হুমকী-দামকিকে দায়ী করেছেন।

এসময় রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজী কারণেই শুক্রুবার রাতে অনাকাংখিত ঘটনা। পাহাড়ি-বাঙ্গালীদের মাঝে সম্প্রীতি মেলবন্ধন থাকলে এসব গুটি কয়েক চাঁদাবাজকে প্রতিহত করা সম্ভব। চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দিয়ে অন্যায় হতে দিবেন না তেমনি গুজবে কান দিয়ে কেউ কারো উপর আক্রমনাত্বক কিছু করবেন না। এসময় তিনি ফেসবুকে অপ-প্রচার বন্ধ করে এলাকার শান্তি ও শৃংখলা রক্ষায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

রামগড় পৌরসভার মেয়র কাজী মোহাম্মদ শাহজাহান রিপন বলেন, শান্তিচুক্তির আগে আমরা অনেক কিছু হারিয়েছে। চুক্তির পর থেকে পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের মধ্যে একটি সম্প্রীতি তৈরী হয়েছে। গুটি কয়েক সন্ত্রাসীদের জন্য এ অর্জন ¤øান হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়। পাহাড়ী-বাঙ্গালী বলে কিছু নেই আমরা সকলেই ভাই, বোন আপনজন হয়ে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরী করলে এসব চাঁদাবাজ জায়গা করে নিতে পারবেনা। তাই সকলকে ঐক্যবন্ধ থেকে প্রশাসনের সহযোগীতা নেয়ার আহবান জানান।

রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল-মামুন মিয়া বলেন, চাঁদাবাজেরা আইনের উর্ধে নয়। আপনারা সাহস করে আইন-শৃংখলা বাহিনীর নিকট সন্ত্রাসীদের নাম, ঠিকানা ও অবস্থান জানান আপনাদের পরিচয় গোপন থাকবে। পাহাড়ী-বাঙ্গালী সবাই এদেশের সবারই শান্তিতে বসবাসের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। চাঁদাবাজ প্রতিহত করতে হবে যেমন, তেমনি সহ অবস্থান, সহমর্মিতা, পরষ্পর পরষ্পরের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। যারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবার চেষ্ঠা করবেন, তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করা হবে। সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম নেই এরা সকলের শত্রæ গ্রামবাসী এক থাকলে প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, ফাঁকাগুলি ছুড়লে সন্ত্রাসীদের ধাওয়াকে কেন্দ্র করে গত শুক্রুবার রাতে রামগড় উপজেলার সোনাইআগা, বতচন্দ্রপাড়া ও কালাডেবা এলাকায় পাহাড়ি ও বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের মাঝে উত্তেজনা ও আতংক সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে বিজিবি ও পুলিশ এবং স্থানিয় নেতৃবৃন্দ আসলে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘনেটি।

মতামত