টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে আপিলের রায় কাল

চট্টগ্রাম, ০২ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে অর্পণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের রায় কাল সোমবার ঘোষণা করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ওয়েবসাইটে সোমবারের কার্যতালিকায় রায় ঘোষণার জন্য এক নম্বরে রয়েছে মামলাটি।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবে। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

গত ৮ মে পেপার বুক থেকে রায় পড়ার মাধ্যমে এই মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়। গত ১ জুন ১১তম দিনের শুনানি নিয়ে বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন আপিল বিভাগ। শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এছাড়া আদালতের নিয়োগকৃত ১২ জন অ্যামিকাস কিউরির মধ্যে ১০ জন তাদের মতামত দেন। তাদের বেশিরভাগই বিচারপতির অপসারণ ক্ষমতা সংসদের বদলে সেনা শাসনের সময় প্রবর্তিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে রাখার মত দেন।

বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংসদে পাস হয়। একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ হয়।

সংবিধানের এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১৬ সালের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন।

মামলাটির সঙ্গে সাংবিধানিক বিষয় জড়িত থাকায় হাইকোর্ট সরাসরি আপিলের অনুমতি দেয়। ওই বছরের ১১ আগস্ট ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ, বাতিল ও সংবিধানপরিপন্থী ঘোষণা করে দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইনসভার কাছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। দেশের সংবিধানেও শুরুতে এই বিধান ছিল। তবে সেটি ইতিহাসের দুর্ঘটনা মাত্র।

উচ্চ আদালতে আপিল শুনানিতেও অ্যাটর্নি জেনারেল ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন। তবে রিটকারী আইনজীবী এবং শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এবং অন্য বিচারক আশঙ্কা করেন, এই বিধান থাকলে উচ্চ আদালতকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
বাংলাদেশের জন্মের পর করা সংবিধানে বিভিন্ন উন্নত বিশ্বের মতো বিচারপতির অপসারণের ক্ষমতা সংসদে রখো হয়। কিন্তু জিয়াউর রহমানের সেনা শাসনের সময় এই বিধান পরিবর্তন করে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই বিধান অনুযায়ী কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অভিযোগ এলে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে এই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হবে। প্রধান বিচারপতি এবং প্রবীণতম দুই বিচারপতির নেতৃত্বে এই কাউন্সিলই তদন্ত করে রাষ্ট্রপতিকে প্রতিবেদন দেবেন এবং তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

মতামত