টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বান্দরবানে বোন হত্যার অভিযোগে বোন গ্রেফতার

চট্টগ্রাম, ০২ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): বান্দরবানে বড় বোন নাছিমা আক্তারকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ ছোট বোন সুমি আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে বান্দরবানের ভরাখালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। সদর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন তাদের বাবা নুরুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, গত এক বছর আগে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়া এলাকার নুরুল ইসলামের মেয়ে নাছিমা আক্তারের সাথে বিয়ে হয় বান্দরবানের বালাঘাটার ভরাখালি এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের। বিয়ের পর পরই নাছিমার ছোট বোন সুমি আক্তারের দিকে নজর যায় আনোয়ারের। এ নিয়ে পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝড়গা বিবাদ লেগেই ছিল। বেশ কিছুদিন আগে আনোয়ার সুমিকে পদুয়া থেকে বান্দরবানে নিয়ে এসে অন্য একটি বাসায় তুলে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝড়গার একপর্যায়ে নাছিমাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায় আনোয়ার। এতে নাছিমা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে সে মারা যায়। এই ঘটনার পর আনোয়ার নাছিমার লাশ রেখে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়।

নাছিমার পরিবারের অভিযোগ, আনোয়ার নাছিমাকে পিটিয়ে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল।

এদিকে হত্যার অভিযোগ এনে নাছিমার বাবা নুরুল ইসলাম তার জামাই আনোয়ার হোসেন ও মেয়ে সুমি আক্তারকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ শনিবার বিকেলে সুমি আক্তারকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনাটি নিয়ে বান্দরবানে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন হত্যাকান্ডের সময় নিহত নাছিমা আক্তারের তিন শিশু সন্তান ঘরে থাকলেও শনিবার সকাল থেকে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। মার হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ায় আনোয়ার তাদের সরিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের মা জয়নাব বেগম জানান, “আমার মেয়েকে সবসময় মারধর করতো, এ নিয়ে অনেকবার বিচার শালিস হয়েছে, আর কোনদিন মারধর করবেনা বলে স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর দিয়েছে, তবুও মেয়ে প্রাণে বাঁচলোনা, আমি এই হত্যার বিচার চাই।”

বান্দরবান সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ওমর শরীফ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই নাছিমার তার মৃত্যু হয়েছে, তবে কি কারণে হয়েছে তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে বলা যাবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের আপন ছোট বোন সুমি আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মতামত