টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নানুপুর লায়লা-কবির কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ

মীর মাহফুজ আনাম
সিটিজি টাইমস


চট্টগ্রাম, ০১ জুলাই ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর লায়লা কবির ডিগ্রী কলেজে ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনের জের ধরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখে কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজটিতে ছাত্র রাজনীতি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে। কলেজের অধ্যক্ষ আ ন ম সরোয়ার আলম বৃহস্পতিবার সকালে তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিষয়টি জানান দেন। মূলত ঈদের কয়েকদিন পূর্বে ছাত্রলীগের কলেজ কমিটি গঠনের পর পাল্টা কমিটি গঠন নিয়ে উত্তাল কলেজটির রাজনীতি। রাজনীতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার বিঘœ ঘটাসহ ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের তিন দিনের মাথায় ঈদের ছুটি শেষে শনিবার (আজ) কলেজ কার্যক্রম শুরু ও এইচ এস.সি প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া নবাগত শিক্ষার্থী বরণের দিন কলেজ গেইটের বাহিরে বহিরাগতদের নিয়ে এসে কলেজে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ স্বশস্ত্র মহড়া দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

একই দিন কলেজের ভেতর অধ্যক্ষকে রাজনীতি নিষিদ্ধের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করে স্মারকলিপি দেন উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটি কর্তৃক প্রদত্ব কলেজটির ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ লিমন।

সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন মাসুম বলেন, ‘আমরা ছাত্রদের কল্যাণের রাজনীতি করি। অতীতেও এ কলেজে রাজনীতি ছিল। এ কলেজে পড়ে উত্তর চট্টগ্রামে ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্বে দিচ্ছেন বখতিয়ার সাঈদ ইরান ভাই। আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করে স্মারকলিপি দিয়েছি।’

সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ লিমন বলেন, ‘বহিরাগতদের নিয়ে এসে কলেজ গেইটের সামনে সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে একটি পক্ষ। তারা আমরা গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাচিত সভাপতি-সম্পাদককে কলেজে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বহু পায়তারা করে। আমরা কোন বিশৃঙ্খলাতে নেই।’

জানা যায়, ঈদের কয়েকদিন পূর্বে উপজেলা সদরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম উত্তরজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বখতিয়ার সাঈদ ইরানের উপস্থিতিতে নানুপুর লায়লা-কবির ডিগ্রী কলেজের সভাপতি –সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সরাসরি ব্যালটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত করা হয় মোজাম্মেল হোসেন মাসুমকে। তার প্রতিদ্বন্ধিতা করেন পাবেল উদ্দিন। সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন সৈয়দ লিমন। যেখানে ভোটার ছিল উপজেলা আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়করা সহ কলেজটি থেকে উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য হওয়া মোরশেদসহ মোট ১০ জন । ১০ জনের মধ্যে যুগ্ম আহবায়ক রাকিবুল ইসলাম রাব্বি প্রবাসে থাকায় ও যুগ্ম আহবায়ক আসাদুজ্জামান তানবীর ও বাবলু অদৃশ্য কারণে সেদিন উপস্থিত ছিলেন না। বাকি সাতজনে সরাসরি ব্যালটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত করেন। কমিটি নির্বাচিত হওয়ার পর পর যুগ্ম আহবায়ক আসাদুজ্জামান তানবীর তার ফেইসবুক টাইমলাইনে অন্য দু‘জনকে সভাপতি-সম্পাদক করে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেন। যেখানে সভাপতি-সম্পাদক করা হয় যথাক্রমে রাশেদুল ইসলাম ও সৌরভকে। পাল্টাপাল্টি কমিটি দেওয়ার পর থেকে উত্তাল হয়ে উঠে কলেজটির রাজনীতি।

চট্টগ্রাম উত্তরজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বখতিয়ার সাঈদ ইরান বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্র মোতাবেক সভাপতি-সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছিল। একটি পক্ষ নানুপুর লায়লা কবির কলেজের রাজনীতিকে কুলষিত করতে পাল্টা কমিটির নামে বিশৃঙ্খলা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংঘটনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

কলেজের অধ্যক্ষ আ ন ম সরোয়ার আলম বলেন, ‘তাদের পাল্টা পাল্টি কমিটি দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে এমন আভাস পেয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ছাত্রলীগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। আমি কলেজ পরিচালনা কমিটির মিটিং এ বিষয়টি তুলে ধরবো। সেখানে যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত আসে তাহলে প্রত্যাহার হবে, অন্যথায় পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।’

মতামত