টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

প্রস্তুত কক্সবাজার, পর্যটক সংকটের আশংকা

চট্টগ্রাম, ২৫ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): বর্ষা মৌসুমে ঈদ হওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটক সংকটের আশংকা করছেন ব্যবসায়ীরা।

তারকা মানের হোটেলগুলোতে শতভাগ বুকিং হলেও বাকি ৩ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস ও রিসোর্টগুলোতে তেমন সাড়া মেলেনি। তবে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফ গার্ড।

রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে।কিন্তু বর্ষা মৌসুম হওয়ায় পর্যটক সংকটের আশংকা করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য বছর এই সময়ে হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ ও রিসোর্টগুলোতে শতভাগ বুকিং হলেও এবার অগ্রিম বুকিং হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ।

জিয়া গেস্ট ইন এর স্বত্বাধিকারী শফিকুর রহমান জানান, গত বছর এই সময়ে গেস্ট হাউসের শতভাগ রুম বুকিং হয়েছিল। কিন্তু এ বছর দশটি রুমও অগ্রিম বুকিং হয়নি।

ওয়াল্ড বিচ রিসোর্টের এজিএম কলিম উল্লাহ জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর বর্ষা মৌসুম হওয়ায় রুম বুকিং নিয়ে হতাশ হতে হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত রিসোর্টের মাত্র ৩০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। একই অবস্থা অন্যান্য হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস ও রিসোর্টগুলো।

তবে তারকা মানের হোটেলগুলোর চিত্র ভিন্ন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সব রুম শতভাগ বুকিংয়ের পাশাপাশি পর্যটকদের আনন্দ দিতে গ্রহণ করা হয়েছে নানা পরিকল্পনা। বার্মিজ মার্কেটের দোকানিরাও শেষ করেছেন তাদের প্রস্তুতি।

হোটেল কক্স-টুডে’র ম্যানেজার আবু তালেব শাহ বলেন, ইতিমধ্যে হোটেলের সবরুম বুকিং হয়েছে। ফলে যারা কক্সবাজারে বেড়াতে আসবে তাদের স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত আমরা।

 

হোটেল লং বিচ এর ম্যানেজার সরওয়ার আলম বলেন, হোটেলের সবকটি রুম যখন বুকিং হয়েছে; তাই আগত পর্যটকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য হোটেলে নানা ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে। যাতে পর্যটকরা ঈদের ছুটিতে আনন্দ-উল্লাস করতে পারে।

সৈকতের ছাতা মার্কেটের ব্যবসায়ী আবু মুছা বলেন, দোকানের সব পুরাতন মালামাল সরিয়ে নতুন পণ্য আনা হয়েছে। যাতে পর্যটকদের বার্মিজ পণ্যের দিকে আকৃষ্ট করা যায়। সব প্রস্তুতি শেষ; এখন পর্যটকদের জন্য প্রহর গুণছি।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শতাধিক প্রশিক্ষিত লাইফ গার্ডের পাশাপাশি প্রস্তুত রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

রবি লাইফ গার্ডের সিনিয়র লাইফ গার্ড মো. সালাউদ্দিন বলেন, এবারের ঈদ যেহেতু বর্ষা মৌসুমে হচ্ছে; তাই পর্যটকদের সমুদ্র স্নানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হয়েছে। মূলত রবি, ইয়াছিন ও সি-সেইভ লাইফ গার্ডের শতাধিক লাইফ গার্ড সৈকতের সবকটি পয়েন্টে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত নয়; দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, টেকনাফ সৈকত, রামু বৌদ্ধসহ সবকটি পর্যটন স্পর্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্বপালন করবে। এ ছাড়া এবার নতুন করে ট্যুরিস্ট পুলিশে লাইফ গার্ড কর্মী যুক্ত হয়েছে। ফলে আশা করি, কোনো ধরনের দুর্ঘটনা হবে না। পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দে কক্সবাজার ভ্রমণ করে নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে পারবে।

মতামত