টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রামগড়ের ৩টি প্রাথমিক স্কুল পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ২৪ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে খাগড়াছড়ির রামগড়ের তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত ১৮ জুন পাহাড় ধসে পাতাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছোট কালাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশের ওপর পাহাড় ধসের কবলে পড়ে। তবে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে আবারো পাহাড় ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষকসহ অভিবাবকরা। এদিকে পৌরসভার সোমাচন্দ্র কারবারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পাহাড় কেটে নির্মাণ করায় শুরু থেকেই এটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১ একর ৪০ শতাংশ জমির ওপর ১৯৬৮ সালে সোমাচন্দ্র কারবারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জন শিক্ষক এবং ১৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অভিভাবক সুরেন্দ্র ত্রিপুরা ও আলী আজম জানান, ২০০৪ সালে পাহাড় ধসে টিনশেড বিদ্যালয়টি বিধ্বস্ত হয়েছিল। পরে এর পাশেই অপরিকল্পিতভাবে বর্তমান বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণ করা হয়, যা খাড়া পাহাড় ঘেঁষে নির্মিত। ভবনের পূর্ব দিকের শ্রেণি কক্ষের মেঝেতে ২-৩ ফুট উঁচু মাটির স্তর পড়েছে। সামান্য বৃষ্টির পানিতে ভবন দিয়ে চুইয়ে ভেতরে পানি ঢুকছে। এমনি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ১৯৮০ সালে পাহাড় ঘেঁষে নির্মিত পাতাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

পাতাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রু¤্রচাই কারবরী বলেন, আমি স্কুলগুলোর সমস্যা নিজেই উপলব্ধি করছি। বৃষ্টি হলে শ্রেণি কক্ষে পাহাড়ের পানি ও মাটি ঢুকছে। সম্প্রতি পুরাতন ভবনের পেছনের অংশে পাহাড় ধসে পড়ে। পাঠদান চালু হলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়গুলো সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাতাছড়া বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোস্তফা করিম জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সহযোগিতায় পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করা হলেও এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-মামুন মিয়া জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আগেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আগামীতে যাতে বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতামত