টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে সালমাকে ধর্ষণের পর হত্যা, আরেক তরুণ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম, ২৩ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রামে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুই তরুণেরঅন্যজনও গ্রেপ্তার হয়েছেন। শুক্রবার সকালে নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে মো. জীবনকে (১৮) গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালি উদ্দিন আকবর।

এদিকে, চট্টগ্রামে খেলনা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু সালমা আক্তারকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মো. জীবন নামের এক যুবক।

শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ পারভেজ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

১৩ জুন নিখোঁজ হন চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট আতাতুল ক্যাডেট মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সালমা আক্তার। ৯ বছর বয়সী সালমা বাদুরতলার শাহ আমানত সোসাইটি এলাকার মো. সোলায়মানের মেয়ে। সোলায়মান অটোরিকশা ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক।

গত ১৫ জুন ভোরে নগরীর পাঁচলাইশ থানার বাদুরতলায় নঈমিয়া ভবন নামে একটি মার্কেটের তিনতলায় ময়লার স্তূপে কাঠের বাক্সভর্তি সালমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত ইমন হাসান নামের এক যুবক গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এদিকে শিশু সালমাকে ধর্ষণের পর হত্যার পরিকল্পনাকারী জীবনকে শুক্রবার ভোররাতে নগরের কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে গ্রেফতার করে পাঁচলাইশ থানার পুলিশ।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালি উদ্দিন আকবর বলেন, মাছ কাটাকে পেশা হিসেবে নেয়া ইমন ও ধর্ষণের ঘটনাস্থল জোয়াম করপোরেশন নামে একটি সেনিটারি দোকানের কর্মচারি জীবন এ ঘটনায় জড়িত। ওই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে তারা। এ ঘটনার পরিকল্পনাকারী ছিল জীবন। এসব বিষয় শুক্রবার আদালতে জবানবন্দিতে জানিয়েছে জীবন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে জীবন জানিয়েছেন, লোহা কলোনীতে একসময় বসবাসের সূত্রে পরিচয় হয় জীবন ও সালমার মধ্যে। পরে সালমার পরিবার শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটিতে বসবাস শুরু করে। তবে জীবনের কর্মস্থল নঈমিয়া ভবনের জোয়াম করপোরেশনের সামনে দিয়ে চলাফেরা করে সালমা। গত ১৩ জুন সালমাকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে জীবন। এ কথা বন্ধু ইমনকেও জানায় জীবন। পরিকল্পনা মোতাবেক ১৩ জুন বেলা সোয়া ১২টার দিকে জীবনের কর্মস্থলে আসে ইমন। এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জোয়াম করপোরেশনের সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে সালমাকে ডাক দিয়ে জীবন বলে, আমার সাথে আস, আমি তোমাকে কতগুলো খেলনা দেব। এরপর নঈমিয়া ভবনের তিনতলায় জোয়াম করপোরেশনের গোডাউনের তালা খুলে সালমাকে ভেতরে নিয়ে যায় জীবন। এসময় তৃতীয় তলার সিঁড়িতে পাহারা দিচ্ছিল ইমন। এই সুযোগে জীবন জোরপূর্বক সালমাকে ধর্ষণ করে। এরপর তাকে দ্বিতীয় দফা ধর্ষণ করে ইমন।
আদালতে জীবন আরও জানান, এরপর বিষয়টি বাবাকে জানিয়ে দেবে বলে জানায় সালমা। সালমার বাবা সিএনজি অটোরিকশা ইউনিয়নের নেতা হওয়ায় ভয় পেয়ে যায় ইমন ও জীবন।

ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয় জীবন; কানে কানে বিষয়টি ইমনকে সে জানায়। এরপর সালমার মাথার থাকা স্কার্ফ গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে জীবন। নাক-মুখ চেপে ধরে ইমন। সালমা মারা গেলে জীবন ওই ভবনের নিচতলায় দোকানে চলে যায়। ইমন স্বাভাবিকভাবে বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে চলে যায়। ওইদিন রাত ৮টার দিকে আবারও দুজন এসে তৃতীয় তলায় রাখা একটি কাঠের তৈরি কার্টনে আর্বজনা চাপা দিয়ে রাখে সালমার মরদেহে। এরপর দুইজন বাসায় চলে যায়।

পুলিশ পরিদর্শক ওয়ালি উদ্দিন আকবর বলেন, শিশু সালমা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল জীবন। এ ঘটনায় তার বন্ধু ইমনও অংশ নেয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। পরে জড়িত দুইজনকে সনাক্ত করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। ইতিমধ্যে উভয়েই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

মতামত