টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে নারী ক্রেতাদের ঘিরে তৎপর বখাটেরা

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস

চট্টগ্রাম, ২২ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): আর মাত্র কদিন বাকি ঈদের। কেনাকাটায় ধুম পড়েছে চট্টগ্রামের বিপণিবিতান ও প্রসাধনি সামগ্রীর দোকান গুলোতে। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠছে ঈদের কেনাকাটা। বিপণিবিতানগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। তবে ক্রেতাদের অধিকাংশই নারী, কিশোরী ও তরুণী।

যাদের ঘিরে নগরীর মোড়ে মোড়ে ও বিপণিবিতানগুলোতে তৎপর হয়ে উঠেছে বখাটেরাও। যাদের ইভটিজিংয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন নারী ক্রেতারা। এসব বখাটেদের নিয়ন্ত্রণ করার মত যেন কেউ নেই। বিপনিবিতানগুলোতে দুই-তিন জন পুলিশ দেখা গেলেও তারা এক জায়গায় বসেই থাকেন।

চট্টগ্রামের নিউমার্কেট, শপিং কমপ্লেক্স, মিমি সুপার মার্কেট, চকবাজারের মতি টাওয়ার, গুলজার টাওয়ার, বহদ্দারহাট স্বজন সুপার মার্কেটসহ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে নারী ক্রেতার আধিক্য ও বখাটেদের তৎপরতার দেখা গেছে। এসব মার্কেটের দোকানের বিক্রয়কর্মীরাও নারী ক্রেতাদের কুরুচিপূর্ণ কথা বলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আলাপকালে নারী ক্রেতারা জানান, বছর জুড়ে তারা মার্কেটে কেনাকাটা করতে না আসলেও বাহারি রঙের পোশাক ও প্রসাধনি কিনতে ঈদে কেনাকাটা করেন। কিন্তু মার্কেটগুলোর দোকানে কতিপয় বিক্রয়কর্মী কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলেন। যেখানে একবার ঢুকলে আর দ্বিতীয়বার যাই না। তাছাড়া মার্কেটগুলোর সিঁড়ি ও ফ্লোরে বখাটেদের উৎপাত বেশি। যেখানে ঘুরাফেরায় নানারকম টিজ ও কুরুচিপূর্ণ কথা শুনে নাজেহাল হতে হচ্ছে।

গতকাল বুধবার রাতে নগরীর অভিজাত নিউমার্কেটের পোশাক দেখার সময় চার-পাচজন বখাটে তরুণের কবলে পড়ে নাজেহাল হওয়ার কথা জানান নগরীর শুলকবহর আবাসিক এলাকা থেকে আসা তিন তরুণী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)। তারা বলেন, বখাটেদের ব্যাপারে যে নালিশ করব তারও কোন জো নেই। সব হজম করেই কেনাকাটা সারতে হচ্ছে।

নগরীর স্বজন সুপার মার্কেটে জুতো কিনতে গিয়ে বখাটে বিক্রয়কর্মীর উত্যক্তের অভিযোগ করেন চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার গুলজার বেগম(২৭)। তিনি বলেন, বাচ্চার জুতো কেনার সময় ওই বিক্রয় কর্মীর কুরচিপূর্ণ ভাষা শুনে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। শেষে তার গায়ে জুতো ছুড়ে মেরে চলে এসেছি। ওই দোকানের মালিক ব্যাপারটি দেখেও নিশ্চুপ ছিলেন।

এ ব্যাপারে স্বজন সুপার মার্কেট ও নিউমার্কেটের কয়েকজন দোকানদারের সাথে কথা হয়। কেনাকাটার ব্যস্ততার মাঝেও তারা বলেন, দোকানে অধিকাংশ বিক্রয় কর্মী মৌসুমি শ্রমিক। এক মাসের চুক্তিতে তারা কাজ করছে। তাই অনেকে বখাটেপনা করলেও বেচাকেনার স্বার্থে কিছু বলতে পারছি না। এসবের হিসাব হবে মাস শেষে। তাছাড়া মার্কেটের সিড়ি ও ফ্লোরে বাইরের বখাটে ছেলেদের দৌরাতেœ্য চললেও কেনাকাটার চাপে সেদিকে খেয়াল রাখতে পারছি না। এ বিষয়টি দেখার জন্য মার্কেটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ক্রেতারা তাদের কাছে অভিযোগ করতে পারে।

কিন্তু নিউমার্কেটে কর্তব্যরত কোতোয়ালি থানার এসআই মবিনুল হক বলেন, ক্রেতাদের কাছ থেকে বখাটেদের বিষয়ে আমরা কোন অভিযোগ পায়নি। তবে বখাটেদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চালানো হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর সবকটি বিপণিবিতানে এখন চলছে ঈদের পোশাক কেনাকাটা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত শহরের প্রতিটি বিপণিবিতান। আর এর সিংহভাগই নারীদের দখলে।

নারী ক্রেতাদের পছন্দের মধ্যে কটন, খাদি, ভাটিকা, বেক্সি ফ্যাব্রিকস, সেলফি, সিল্কসহ দেশি-বিদেশি নানা নকশা ও কারুকাজের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ভিন দেশীয় থ্রিপিস, বাহুবলী-১, বাহুবলী-২, সর্বমঙ্গলা, সরোজা ও হুররামসহ একাধিক নামের পোশাক রয়েছে। এসব পোশাক তিন থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়া ফতুয়া, ওড়না, স্কার্পসহ ছোট ছেলেমেয়েদের হরেকরকম ডিজাইনের কাপড়-চোপড় রয়েছে মার্কেটগুলোতে। বিশেষ করে দেশীয় তাঁত, নেট, সুতি, হাফসিল্ক, ফুলসিল্ক, কাতান, জামদানি, বেনারসি, টাঙ্গাইল তাঁত, বালুছড়ি, মিরপুরি সিল্ক, ঢাকাই মুসলিন ও ঢাকাই জর্জেট। অপরদিকে বিদেশি পণ্যের মধ্যে গাড়ওয়াল, কাঁচপুরি, জয়পুরি, তছর, মসলিন, ইতালিয়ান ক্রেপ্ট সিল্ক, মাইসের রেশম, চেত্তিনাদ, কাঞ্চিপুরি, কটিদুরিয়া, চিকন পাইর, বাঁধুনী, কাঁথা, মুর্শিদাবাদী সিল্ক, জুট কাতান, অপরা কাতান, সানন্দা সিল্ক, শান্তিপুরি সিল্ক, নেপালি শাড়ি, পাকিস্তানি, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, চায়নাসহ বহু দেশের হরেকরকম কাপড় বিক্রি করছেন দোকানিরা। নারীদের এসব পোশাক ৫০০ থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

মতামত