টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাতকানিয়ায় শঙ্খের ভাঙ্গনে দিশেহারা মানুষ

ভাঙ্গনরোধে কার্যকর উদ্যেগের অপেক্ষা

শহীদুল ইসলাম বাবর
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক


চট্টগ্রাম, ২১ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): ভাই এসব লিখে কি হবে ? ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের মন্ত্রী এমপিসহ বিভিন্ন দপ্তরে অনেক দেন দরবার করেছি। পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত ফলাফল পাইনি। চলতি বছরও ভাঙ্গনের মুখেই থাকতে হবে আমাদের। এর আগে করালগ্রাসী শঙ্খে বিলীন হয়েছে মসজিদ,দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানা। বসত ঘর আর ফসলী জমি কত গেছে তার কোন ইয়াত্তা নেই।

শঙ্খনদীর ভাঙ্গন বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিক এমনটিই বলছিলেন সাতকানিয়া উপজেলার দ্বীপ চরতী এলাকার বাসিন্দা আইনজীবি দেলোয়ার হোসেন। শুধু দেলোয়ার হোসেন নয়, একই এলাকার বাসিন্দা সাতকানিয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার রমিজ উদ্দিন আহমদও বললেন একই কথা।
জানা যায়,সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড়, বাজালিয়া,ধর্মপুর, কালিয়াইশ, নলুয়া, আমিলাইশ ও চরতী ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে শঙ্খনদী। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুম আসলেই প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে শঙ্খনদে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়। ফি বছরই হারিয়ে যায় মসজিদ,মাদ্রাসা, কবরস্থান, বসতঘর, ফসলী জমিসহ শত শত গাছ পালা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বিগত কয়েকটি সরকারের শাসনামল থেকে ভাঙ্গনরোধে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা রয়েছে। তবে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা ভাঙ্গনের কবলে পড়ছে। ্আর এতে করে নিঃশ্ব হচ্ছে হাজারো বনি আদম।

সর্বশেষ গত কয়েক দিন আগে সৃষ্ট প্রবল বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আর পানি কমার সাথে সাথে দেখা ভাঙ্গন। এ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে চরতী ইউনিয়নের দ্বীপ চরতী দক্ষিন পাড়া শাহী জামে মসজিদ,দ্বীপ চরতী ছিদ্দিকিয়া (রাঃ) এতিমখানা ও হেফজখানা। এছাড়াও ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে আহমদুর রহমান. হাফেজ আবক্দুল হালিম,মোহাম্মদ ইয়াছিন, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মাহবুবুর রহমান, মো. ইউনুছ নুর. ইসমাঈল শহিদ, সামশুল ইসলাম, মো. হারুন, মো. ওসমান, বেলায়েত হোসেন সওদাগর, আবুল কাসেম ও মো. ইলিয়াছের বসত ঘর। এসব পরিবারের সদস্য বর্তমানে অনেকটা মানবেতর কাল যাপন করছে। দ্বীপ চরতীর ভাঙ্গনের বিষয়ে জানতে চাইলে চরতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডাঃ রেজাউল করিম বলেন, দ্বীপ চরতী হচ্ছে সাতকানিয়া উপজেলার মূল ভুখন্ড থেকে একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। নানা নাগরিক সুবিধা থেকে যুগের পর যুগ বঞ্চিত হয়ে আসছে এ গ্রামের মানুষ। এর উপর আছে আবার নদী ভাঙ্গন। নদী ভাঙ্গনে বিশালাকৃতির কয়েকটি কবরস্থান, মাদ্রাসা, সুরম্য মসজিদ, দ্বীপ চরতীবাসীর চলাচলের একমাত্র মাধ্যমে দ্বীপ চরতী-বৈলতলী সড়ক, এতিমখানা ও শত শত বসত ঘর। ভাঙ্গনরোধের জন্য আমি উপজেলা প্রশাসন বরাবরে বার বার আবেদন নিবেদন করে যাচ্ছি। সরকারের মাননীয় এমপি মহোদয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরির্দশন করে ভাঙ্গনরোধে অতি তদ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

ভাঙ্গনের বিষয়ে জানতে চাইলে আমিলাইশ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সারওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমিলাইশ ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন রোধের জন্য দীর্ঘ দিন থেকে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সরকারী তরফ থেকে কিছু বরাদ্ধ দেওয়া হলেও তা ভাঙ্গন অনুপাতে তুচ্ছ। এখনো ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে দেন দরবার করছি। শঙ্খনদের ভাঙ্গনের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সাতকানিয়ার চরতী, আমিলাইশ, নলুয়া, কালিয়াইশ, ধর্মপুর, বাজালিয়া ও পুরানগড় ইউনিয়ন হচ্ছে শঙ্খনদের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা। পুরানগড়, বাজালিয়া, কালিয়াইশ ইউনিয়নে ভাঙ্গনরোধে পাথরের বøক বসালেও চরতী, আমিলাইশ, নলুয়া ও খাগরিয়া ইউনিয়নে ভাঙ্গরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমি ভাঙ্গনরোধে প্রকল্প গ্রহনের জন্য বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

মতামত