টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নিউইয়র্কে আরেক বাংলাদেশী কূটনীতিক গ্রেফতার

চট্টগ্রাম, ২১ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  ভিসা জালিয়াতি ও গৃহকর্মীকে মজুরি না দেয়ার অভিযোগে জাতিসংঘে কর্মরত বাংলাদেশী কর্মকর্তা ড. হামিদুর রশিদ গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি ঢাকায় পররাষ্ট্র দফতরের মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি লিয়েনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মেধাবী কর্মকর্তা।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এ ধরনের একের একের পর ঘটনা রহস্যজনক। মনে হচ্ছে, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি মহল সচেষ্ট। তিনি এ ধরনের ঘটনাকে ‘স্যাবোটাজ’ বলে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, শ্রমিক পাচার, গৃহপরিচারককে নির্যাতন, বেতন না দেয়ার অভিযোগে গত ১২ জুন নিউইয়র্কের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম গ্রেফতার হন। পরদিন ৫০ হাজার ডলার বন্ড দিয়ে ছাড়া পান তিনি।

এর আগে ২০১৪ সালে নিউইয়র্কের তৎকালীন কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ আনেন তার গৃহকর্মী। অভিযোগ দাখিলের দিনই খবর পেয়ে সপরিবারে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন মনিরুল ইসলাম। ওই গৃহকর্মী পরবর্তীতে আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

হামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সপ্তাহে ৪২০ ডলার মজুরিতে গৃহকর্মী নিয়োগের চুক্তি করে তার ভিসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে চুক্তিপত্র দাখিল করেন। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে গৃহকর্মী যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালে হামিদ নতুন একটি চুক্তিতে তার সই নেন, যেখানে সাপ্তাহিক মজুরি ২৯০ ডলার লেখা হয়।

হামিদুর রশীদ ওই গৃহকর্মীর পাসপোর্ট নিয়ে নেন এবং অন্য কোথাও কাজ করলে তাকে প্রথমে কারাগারে ও পরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে বিভিন্ন সময় হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় বলা হয়েছে, হামিদুর রশীদ প্রথম দিকে ওই গৃহকর্মীর হাতে কোনো টাকা দেননি। ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত কাজের জন্য বাংলাদেশে তার স্বামীকে মাসে ৬০০ ডলারের সমপরিমাণ টাকা পাঠান। ওই বছর অক্টোবরে সরাসরি তার হাতে ৬০০ ডলার দেন।

ইউএনডিপির এই বাংলাদেশি কর্মকর্তা কখনোই তার গৃহকর্মী বা তার স্বামীকে মূল চুক্তি অনুযায়ী সপ্তাহে ৪২০ ডলার করে দেননি বলে অভিযোগে বলা হয়।

এছাড়া গৃহকর্মীকে যথাযথ বেতন দিচ্ছেন বলে জাতিসংঘে প্রমাণ দিতে তার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুললেও তা হামিদ ও তার স্ত্রী নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে মামলায় বলা হয়েছে।

ওই গৃহকর্মী ২০১৩ সালেই হামিদের বাসা থেকে চলে যান এবং আর ফেরেননি বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মতামত