টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে প্রভাবশালীদের লালসার শিকার পাহাড়

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১৬ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম মহানগরীর মতিঝর্ণার পাহাড়ে গত ৮ বছর ধরে বসবাস করছেন আরব আলী। তার বাড়ী হাতিয়া দ্বীপে। পেটের দায়ে কাজের সন্ধানে আরও ৫ বছর আগে আসেন তিনি চট্টগ্রামে। পেটের খোরাক জোগানোর ঝামেলা মেটানোর পর পরিবার-পরিজনকেও নিয়ে আসেন তিনি চট্টগ্রামে।

তবে নিম্ম আয়ের মানুষ হিসেবে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে নেন মতিঝর্ণার পাহাড়ে। গ্যাস-বিদ্যুৎ বিলসহ মাসিক সাড়ে ৫ হাজার টাকা ভাড়ায় পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে তোলা বাসায় থাকেন তিনি। কিন্তু ২০১৪ সালে পাহাড় ধসে তার ছোট মেয়ে নাজনিন আকতারকে হারান তিনি। একথা বলতেই চোখ মুছেন আরব আলী।

এরপরও মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে কেন এখানে থাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরচেয়ে কম পয়সায় চট্টগ্রাম শহরের কোনো কলোনীতেও বাসা পাওয়া যায় না। তাই নিরুপায় হয়ে থাকি। বাসাগুলো কার জানতে চাইলে তিনি মুখ বন্ধ রাখেন। অনেক পীড়াপিড়ির পর তিনি বলেন, পার্টির লোক ছাড়া তো পাহাড়ে বাসা করার ক্ষমতা কারো নাই। ক্ষমতা যাদের আছে তারাই বানাইছে।

তিনি বলেন, তার মতো একই মালিকের বাসায় আরও ১৭টি পরিবার মৃত্যু ঝুঁকিতে আছেন। যারা বসবাস করেন তাদের সবাই চট্টগ্রামের বাইরের মানুষ। নিরুপায় হয়ে বসবাস করছেন সবাই।

বসবাসকারীরা জানান, মতিঝর্ণার পাহাড়ে কম করে হলেও ১০ হাজার পরিবার বসবাস করে। যারা প্রত্যেকেই পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পাহাড় কেটে কাচা ঘরবাড়ি যেমন তৈরী করা হয়েছে তেমনি বহুতল ভবনও রয়েছে। এ পাহাড়ে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরের মালিকানাধীন ভবনও আছে। যারা ঘরবাড়ি তৈরী করেছে তারা সবাই স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। যাদের লালসার শিকার এই পাহাড়।

বসবাসকারীরা আরও জানান, এই মতিঝর্ণা পাহাড় গত দুই দশকে একাধিকবার বড় ধরণের পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। গরিব মানুষের অভাব-অনটনের সুযোগ নিয়ে ঘরবাড়ি তৈরী করে মাসে লাখ-লাখ টাকা আয় করলেও ঘরবাড়িগুলোর নিরাপত্তায় কোনো পদক্ষেপ নেই মালিকদের।

গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম মহানগরীর ঝুঁিকপূর্ণ বসতি পরিদর্শনে নগরীর লালখান বাজারের মতিঝর্ণা ও বাটালি হিলে যান। পাহাড়ে লাখো মানুষের বসতি দেখে তিনি বিস্মিত হন। এ সময় পাহাড়ে অবৈধ বসতি উচ্ছেদে রাজনৈতিক প্রভাবের কথা জানেন।

এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, পাহাড় থেকে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করে মৃত্যুঝুঁকিতে থাকা লাখো মানুষকে উদ্ধারে রাজনৈতিক কোনো বাঁধা আসলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী ও পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

এদিকে নগরীর বাইরে বিরাজ করছে আরও ভয়াবহ পরিস্থতি। বিশেষ করে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া, সীতাকুন্ড, চন্দনাইশ, বোয়ালখালীসহ অধিকাংশ উপজেলার পাহাড়ে ঝুঁিকপূর্ণ বসবাস করছে হাজার-হাজার বসতি। নগরীর পাহাড়গুলোর মতো স্থানীয় প্রভাবশালীরা পাহাড় দখল করে কেটে কেউ ঘরবাড়ি বানিয়ে ভাড়ায় টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কেউ দখল হিসেবে মৌখিক চুক্তি এমনকি লিখিত চুক্তির মাধ্যমে লাখ টাকায় পাহাড়ি জমি বিক্রী করে দিয়েছে। যেখানে কেটে ঘরবাড়ি তৈরী করে বসবাস করছে বসবাসকারীরা। আবার কেউ পাহাড়ের মাটি কেটে ইটভাটাগুলোতে সরবরাহ করে টাকা আয় করছে। এমনকি প্রাকৃতিক ও বনবিভাগের লাগানো গাছ কেটে সাবাড় করে ইটভাটায় সরবরাহ করে রাতারাতি পুঁিজপতি হয়ে উঠছে।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রাণহানীর ঘটনায় খবর নিতে গিয়ে কথা হয় ইসলামপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পেয়ারাবাগান পাহাড়ে হোসেন তালুকদারের সাথে। তিনি বলেন, বাৎসরিক ১০ হাজার টাকা ভাড়ায় জায়গা নিয়ে ঘর তুলেছেন তিনি।

কিন্তু গত মঙ্গলবার ভোরে পাহাড়ধ্বসে তার ঘর মাটির নিচে চাপা পড়লেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি ও তার পরিবার। বুধবার দুপুরে আবার সে ঘর মেরামত করছিলেন। ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে থাকা কেন জানতে চাইলে হোসেন বলেন, কম টাকায় মাথা গোঁজার ঠাই পাইছি। বাড়ি ভাড়া করে থাকার সামর্থ্য তো আমার নাই।

এভাবেই পেয়ারাবাগানসহ পাহাড়বেষ্টিত রাঙ্গুনিয়ায় বাৎসরিক অর্থের বিনিময়ে পাহাড়ে জায়গা ভাড়া দিয়েছেন এলাকার প্রভাবশালীরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দরিদ্র শ্রেণির লোকেরা এখানে ঘর তুলে বসবাস করছেন। একই পাহাড়ে প্রায় কয়েকশ পরিবারের বসবাস। প্রত্যেককেই বছর শেষে জায়গার মালিককে ভাড়া দিতে হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এলাকার প্রভাবশালীরা সরকারী এ পাহাড়ের জায়গাগুলো দখল করে ভাড়া দিচ্ছে। এছাড়াও পাহাড়ের মাটি কেটে রাঙ্গুনিয়ায় গড়ে উঠা অসংখ্য ইটের ভাটায় কাজে লাগানো হচ্ছে। পাহাড় থেকে গাছ কেটে নিয়ে গিয়েও পোড়ানো হচ্ছে ইটভাটায়। আর এসব অপকর্মের সবগুলোই হচ্ছে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও উত্তর বনবিভাগের সংরক্ষিত বনের ভেতর রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর, উত্তর রাজানগর, দক্ষিণ রাজানগর, লালানগর, হোসনাবাদ, কোদালা, সরফভাটা, বেতাগি ও চন্দ্রঘোনা কদমতলি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ১৪৪টি ইটভাটা রয়েছে। যেখানে প্রতিনিয়ত পোড়ানো হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল সহ বিভিন্ন বনাঞ্চল উজাড় করে কেটে আনা কাঠ।

সরেজমিনে দেখা যায়, রানিরহাট কোদালা, সরফভাটা, বেতাগী সহ বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে অনেকটা প্রশাসনের নাকের ডগায় নির্বিঘেœ ইটের ভাটায় যাচ্ছে বন উজার করা এই সব কাঠ। মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, পোমরা, চন্দ্রঘোনা, কোদালা, রানিরহাট সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বিঘেœ চলছে পাহাড় কাটার ধুম।

একইভাবে রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নে স্কেলেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে প্রতিদিন শতশত ট্রাক মাটি আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ভরাট করা হচ্ছে ফসলি জমি, পুকুর ও ডোবা। প্রথমে রাতের বেলায় ট্রাকে করে মাটি বিক্রি করা হলেও পরবর্তীতে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। পূর্ব জয়নগর বড়–য়া পাড়া ইট সলিং করা সড়কটির উপর মাটি পরিবহনের ট্রাক চলাচলের ফলে রাস্তাটি বিভিন্ন জায়গায় দেবে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পাহাড় কেটে ও পাহাড়ের ছড়ায় বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। কয়েক বছর ধরে পাহাড়বেষ্টিত এ তিন উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় এভাবে প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করে আসছে। পাহাড় কাটায় এবং পানির গতিরোধ করায় এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সচেতনমহল। তবে এ ব্যাপারে প্রশাসনের ভ‚মিকা রহস্যজনক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাত উপজেলার মধ্যে চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার কিছু প্রভাবশালী ভ‚মিদস্যু বেশ কয়েক বছর ধরে সরকারি সংরক্ষিত পাহাড় জবরদখল ও নিয়মবহির্ভ‚তভাবে লিজ নিয়ে স¤পূর্ণ অবৈধভাবে পাহাড় কেটে পানির প্রবাহে বাঁধ দিয়ে মাছের প্রজেক্ট করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে বিভিন্ন পাহাড়বেষ্টিত উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যানরা এসব পাহাড় বিভিন্নদামে বাৎসরিক লিজ দিয়ে থাকে। আর এ ভাগ দিতে হয় উপরমহল পর্যন্ত।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার এক ইউপি চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে স্থানীয় অনেকে পাহাড়ে বসতি গড়ে তুলেছেন। কিন্তু পাহাড়ের পাদদেশে বাস করা এতোটা ভয়ঙ্কর জেনেও বসবাসকারীরা কেন ভাড়া নেয়, তা তিনি বোঝেন না বলে জানান।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, আমরা আসলে পাহাড়ের পাদদেশে বাস করা লোকদের সচেতন করা ছাড়া আর কোনো কর্মকান্ডে যেতে পারিনা। মাঝে মাঝে স্থানীয় প্রতিনিধিদের ডেকে সতর্ক করে দেওয়া হয় যাতে পাহাড়ের পাদদেশে কেউ বসতি স্থাপন না করে। আর বনবিভাগকে সতর্ক করি পাহাড় থেকে গাছ কেটে যেন ইটভাটার মালিকরা নিয়ে যেতে না পারে। আসলে এলাকার প্রভাবশালীদের সাথে পারা যায়না বলেও জানান তিনি।

এদিকে ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ১২৯ জনের প্রাণহানির ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি ২৮টি কারণ নির্ধারণ করে ৩৬টি সুপারিশ প্রণয়ন করলেও তা আজো বাস্তবায়ন হয়নি।

শক্তিশালী পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিল, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে পাহাড়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকা, পাহাড়ে কাঁটাতারের ঘের দেওয়া এবং সামাজিক বনায়নের আওতায় আনা, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য আধুনিক ও উন্নতমানের সরঞ্জামাদি ক্রয় করা, পাহাড়ের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে হাউজিং প্রকল্প না করা, গাইডওয়াল নির্মাণ, নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও মজবুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা, পাহাড়ের পানি ও বালি অপসারণের ব্যবস্থা করা, বসতি স্থাপনাসমূহ টেকসই করা, যত্রতত্র পাহাড়ি বালি উত্তোলন নিষিদ্ধ করা, পাহাড়ি এলাকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা নিষিদ্ধ করা, মতিঝর্ণা ও বাটালি হিলের পাদদেশে অবৈধ বস্তি উচ্ছেদ করে পর্যটন ¯পট করা, বর্তমানে যেসব পাহাড় প্রায় খাড়া অবস্থায় রয়েছে সেসব পাহাড়ে স্বাভাবিক বনায়ন সম্ভব নয় বিধায় সেখানে মুলি বাঁশ, মিতিঙ্গা রোপণ করা।

এছাড়া পাহাড় ধস এড়াতে এবং পাহাড় ব্যবস্থাপনায় সভায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পাহাড় দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, সরকারি মালিকানাধীন ঝুঁকিপূর্ণ যেসব পাহাড়ে বা পাদদেশের অবৈধ বসতি স্ব স্ব মালিক কর্তৃক উচ্ছেদসহ কমিটির অধিকাংশ সিদ্ধান্ত এখনো কাগজে কলমেই রয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মূলত বসতি উচ্ছেদ জরুরী। কিন্তু বসতিদের সকালে উচ্ছেদ করলে বিকেলে আবার ফিরে আসে। গত কয়েক বছর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সেখানে গাছের চারা রোপন করলেও সেগুলো ধ্বংস করে পুনরায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছে প্রভাবশালীরা। তবে এ ব্যাপারে এখন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পণা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ৮ বছরে নগরী ও জেলায় ৩৫৩ মানুষের প্রাণহানি ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ২০০৭ সালের ১১ জুন নগরীর মতিঝর্ণায় পাহাড় ধসে স্মরণকালের ভয়াবহ ১২৭ জন, ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট ১১ জন, ২০০৯ ও ২০১০ সালে নগরীর পাহাড়তলী, সিআরবি, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে মারা যান আরও ১৫ জন। ২০১১ সালের ১ জুলাই পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৮ জনসহ বাটালি পাহাড়ের রিটেইনিং দেয়াল ১৭ জন, ২০১২ সালে ১৭ জুন নগরীর ফিরোজ শাহ কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় ২৩ জন, ২০১৩ সালে পাহাড় ও দেয়াল ধসে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম ও পাহাড়ি অঞ্চলে পাহাড় ধসে কমপক্ষে ১৫৩ জন লোক প্রাণ হারান। ২০০৭ সালের পর পাহাড় ধসে বড় বিপর্যয়ের ঘটনা এটি।

মতামত