টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

২৯ জুলাই বিয়ে তানিমার, কিন্তু…

চট্টগ্রাম, ১৫ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের নর্থ কেনসিংটনে ২৪ তলা এক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১২ জন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাত ‘টার দিকে ৬০০ থেকে ৮০০ লোকের আবাস গ্রেনফেল টাওয়ার নামের ওই আবাসিক ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

এ পর্যন্ত ৭৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লন্ডন ফায়ার সার্ভিস অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এ অগ্নিকাণ্ডকে নজিরবিহীন বলে আখ্যায়িত করেছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে দেশটিতে বাংলাদেশি এক পরিবারের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজ ওই পরিবারটি টাওয়ারটির একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, নিখোঁজ ওই পরিবারের সবাই বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের বাসিন্দা। ভবনটির ১৭ তলার ১৪৪ নম্বর ফ্ল্যাটে স্ত্রী রাজিয়া বেগম (৬৫), দুই ছেলে আবদুল হানিফ (২৯), আবদুল হামিদ (২৬) ও এক মেয়ে হোসনা বেগম তানিমাকে (২২) নিয়ে বসবাস করতেন কমরু মিয়া (৮২)। মেয়ে তানিমার বিয়ের তারিখ আগামী ২৯ জুলাই।

নিখোঁজ পরিবারটি এক আত্মীয় আজিজুল হক জানান, লন্ডনে যে বহুতল ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে, সেখানে থাকেন তার খালা রাজিয়া বেগম। মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে ওদের (খালার পরিবার) সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। ওরা কোরআন শরিফ পড়ছিলেন। বাসার বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এরপর আর ফোন করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কেউ ফোন ধরেনি।

তিনি আরও জানান, খালাতো বোন তানিমার বিয়ের দিন নির্ধারণ করা রয়েছে আগামী ২৯ জুলাই। ওর বিয়ের কার্ড বিতরণ করা হচ্ছিল। আমার কাছেও একটি কার্ড আছে। বিয়ের সব কেনাকাটাও প্রায় শেষ। এখানে মোমুন সেন্টারে বিয়ের জন্য হল বুকিং দেয়া হয়েছে। খালার পরিবারের কারও লাশ উদ্ধার হয়নি বলে তাঁদের মৃত বলা যাচ্ছে না নিশ্চিতভাবে। কিন্তু তারা কি জীবিত আছেন?

আগুন লাগার পর থেকে আজিজুল হক প্রায় সারাক্ষণই সেখানে অবস্থান করছেন ভবনটির পাশে। তার বাড়ি ওই ভবনের কাছাকাছি। পুলিশের কাছ থেকে ক্ষণে ক্ষণে তথ্য নিচ্ছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ইউকে বাংলা প্রেস ক্লাবের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মুনজের আহমদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, মায়াভরা হাসিমুখের বোনটির নাম হোসনা বেগম। ডাকনাম তানিমা। মা-বাবার পছন্দেই আসছে ২৯ জুলাই বিয়ের দিন ঠিক ছিল। মৌলভীবাজারে পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানলাম, হোসনার শাড়িসহ বিয়ের সব কেনাকাটাও সম্পন্ন ছিল। বিয়ের হল বুকিংসহ সব কিছু রোজার আগেই শেষ হয়েছে।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘না, বোনটির আর বিয়ের পিড়িতে বসা হবে না। বৃহস্পতিবার ভোরে লন্ডনের গ্রীনফেল টাওয়ারের লেলিহান বিভীষিকাময় আগুন হতভাগ্য বাসিন্দারের মতো পুড়িয়ে দিয়েছে তানিমার সব স্বপ্নও।’

মতামত