টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে বন্যায় চার জনের প্রাণহানি, বিপর্যস্ত জনজীবন

মীর মাহফুজ আনাম
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম, ১৫ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিভিন্ন খাল ও হালদার ভাঙ্গন দিয়ে পানি ঢুকে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পনির নিচে তলিয়ে গেছে। এখনো পানিতে বন্দি কয়েক হাজার পরিবার। বন্যায় পাহাড় ধ্বসে একজন নারী, পানিতে তলিয়ে এক শিশু ও দুই যুবকসহ সর্বমোট চার জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

নিহতরা হলেন, খিরাম বড়ইতলীর কালেনদি চাকমা (৪৫)। তার স্বামী চন্দ্র মোহন চাকমা। ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড় ধ্বসে তিনি মারা যান।

চা বাগান থেকে ফেরার পথে পাশে ফেনী নদীতে পানির স্রোতে ভেসে যান উপজেলার বাগান বাজার ইউনিয়নের রামগড় চা-বাগানের শ্রমিক ধনা কর্মকার (২২)। বুধবার দুপুরে আন্ধার মানিক এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের কুন্ডা কর্মকারের ছেলে।

বাড়ির পেছনে বন্যার পানি দেখতে গিয়ে বুধবার সকালে মারা যান উপজেলার জাফতনগর তেলপারই গ্রামের মঈনুদ্দিন ইমতিয়াজ (২০)। তিনি ওই গ্রামের নাছির উদ্দিনের পুত্র। তবে, তিনি মগি রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানা যায়।

এদিকে বুধবার বিকালে ঘরের উঠোনে জমে থাকা বন্যার পানি দেখতে গিয়ে হঠাৎ করে পানিতে পড়ে ডুবে মারা যায় নাজিরহাট পৌরসভাধীন পূর্ব ফরহাদাবাদ গ্রামের শাহ্ চৌমুহনী এলাকায় প্রবাসী রফিকুল আলমের একমাত্র ছেলে আবির (৫)।

নিহত পরিবারগুলোর মধ্যে চলছে শোকের মাতম। অন্যদিকে পানিবন্দি হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত উপজেলার হাজার হাজার মানুষের। সোমবার থেকে একটানা বৃষ্টির ফলে উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ধুরুং, লেলাং, তেলপারই, সর্তা ও হালদা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে ওঠে। এতে ভাঙ্গনকবলিত বিভিন্নস্থান দিয়ে পানি ঢুকে গ্রামগুলো তলিয়ে যায়। ভেঙে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এদিকে, গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে নাজিরহাট-কাজিরহাট, গহিরা-হেঁয়াকো, মাইজভাণ্ডার-নাজিরহাট, ছাড়ালিয়াহাট-লেলাং সড়কসহ শতাধিক অভ্যন্তরীণ সড়ক পানিতে ডুবে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এলাকার লোকজন নৌকায় চলাচল করছে। তবে বৃষ্টি বন্ধ হলে আজ বুধবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে।

প্রাকৃতিক দুর্গোগ মনিটরিং সেলের প্রধান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তরিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন ভাঙ্গন দিয়ে পানি ঢুকে অন্তত কয়েক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এছাড়া, কিছু ঘর, কাঁচা-পাকা রাস্তা ও কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া মৃত পরিবারের সদস্যদের নগদ অর্থ ও খাদ্যশষ্য দেওয়া হয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমরা রায় জানান, বন্যার পানি এখন কমতে শুরু করেছে। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে ক্ষয়-ক্ষতির বিবরণ সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসনে পাঠানো হবে।

 

মতামত