টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

টানা বৃষ্টি ও লোডশেডিংয়ে চট্টগ্রামে সীমাহীন দুর্ভোগ

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১২ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):   টানা ১৬ ঘন্টা ধরে চলমান বৃষ্টির পানিতে থই-থই করছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম শহর। ফলে ভোগান্তি বেড়েছে নগরীর মানুষের। সেই সাথে টানা ১৬ ঘন্টার লোডশেডিংয়ে সিমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী।

বিশেষ করে ঈদ বাজারকে ঘিরে কেনাকাটায় ব্যন্ত মানুষ ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ ও হতাশা বাড়ছে বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা ও লোডশেডিংয়ের তীব্রতায়।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্মচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম জুড়ে রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয় মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত। আজ সোমবার বিকেল ৪ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৃষ্টির যেন থামার কোন ইচ্ছেই নেই।

হয় একটু কমে বৃষ্টির তীব্রতা, পরক্ষণেই শক্তি সঞ্চয় করে আবার টিনের চাল ফাঁটা বৃষ্টি। এতে নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় থই-থই করছে বৃষ্টির পানি। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমর সমান। ফলে সড়কে যানবাহন চলাচলে
যেমন ভোগান্তি পোহাচ্ছে। পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরাও পড়েছে নানা দুর্ভোগে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতে নগরীর নিম্মাঞ্চল বিশেষ করে আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক, শান্তিবাগ, হালিশহর, ছোটপুল, চকবাজার, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বাকলিয়া, চকবাজার, মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেটসহ বিভিন্ন এলাকার কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমে গেছে।

এই জলাবদ্ধতার কারণে সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। খানাখন্দে ভরা বেশিরভাগ রাস্তা ডুবে থাকায় পথে পথে বিকল হয়েছে গাড়ি। বেশ কয়েকটি স্থানে রিকশা উল্টে আহত হয়েছেন যাত্রীরা।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের সাথে সমানতালে চলছে বিদ্যুতের লোডিশেডিং। ফলে নগরীর সবকটি বড় বড় মার্কেটসহ অলিগলি অন্ধকারে ডুবে থাকে দিনভর। বৃষ্টির কারনে ক্রেতা যেমন ছিল না; তেমনি বিদ্যুত লোডশেডিংয়ে বেচাকেনাও করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

শুধু তাই নয়, টানা বিদ্যুত লোডশেডিংয়ে নগরবাসীর ফ্রিজ, এসি থেকে পানি ঝরতে শুরু করে। নগরীর মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকার গৃহীণি তারিন সুলতানা (২৭) জানান, রোববার রাত ১২টা ৫০ মিনিটে বিদ্যূত গেছে এখনো পর্যন্ত আসার খবর নেই। বৃষ্টির সাথে টানা ১৬ ঘন্টা বিদ্যুত না থাকায় সিমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন এই আবাসিকের বাসিন্দারা। একইভাবে টানা বিদ্যুত না থাকার কথা জানান চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দারাও।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যুত উন্নয়ন বোডর্ (পাউবো) এর আঞ্চলিক সহকারী ব্যবস্থাপক হুমায়ুন আজাদ জানান, টানা ১৬ ঘন্টা বিদ্যুত না থাকার কারন লোডশেডিং নয়। চান্দগাঁও, মোহাম্মদপুর, মুরাদপুর, বাকলিয়াসহ নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুত সরবরাহ লাইনে ত্রæটি, ট্রান্সফরমার বিকল, বা ফিউজ পুড়ে যাওয়ার কারনে বিদ্যুত সরবরাহ পায়নি। তবে বিকেলের দিকে এসব ত্রæটি নিরসনে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

এদিকে আজ সোমবার (১২ জুন) বিকেল ৩ টা পর্যন্ত পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস ১৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করার কথা জানিয়েছে। এর আগে সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড হয় ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে কর্তব্যরত আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল হাসান জানান, মৌসুমি নিম্মচাপের কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। দুপুর থেকে চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এরপর থেমে থেমে রাতভর ভারী বৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি।

মতামত