টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘বাংলাদেশকে সবসময় এখানেই দেখতে চেয়েছিলাম’

চট্টগ্রাম, ১১ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): ভাগ্যদেবতা পাশেই ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রায় হারতে যাওয়া ম্যাচে হঠাৎ কোত্থেকে উড়ে আসা বৃষ্টি বাংলাদেশকে দিয়ে গেল মহামূল্যবান ১ পয়েন্ট। সেই একটি মাত্র পয়েন্টের মূল্য যে কতটা সেটি এখন হয়তো আরও ভালো করে বুঝতে পারছে টাইগার শিবির। তার পর প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। ২৭৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুকতে থাকা বাংলাদেশের ত্রাতা হয়ে যে এদিন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ আবির্ভূত হবেন সেটিই বা কে আচ করতে পেরেছিল। তাদের রেকর্ড পার্টনারশিপ দলকে এনে দিলো স্মরণীয় এক জয়।

সেমির সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেল। অপেক্ষা ছিল ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ পর্যন্ত। সেই ম্যাচে অজিরা হারলেই শেষ চারে পৌঁছে যাবে তামিম-মুশফিকরা। শেষ পর্যন্ত তাই হলো। স্টোকস-মরগানের দারুণ এক জুটিতে অজিদের হারানোর পর সে জয়ের স্বাদ যেন সমান তালে পেল বাংলাদেশ। বরং ইংল্যান্ডের চেয়েও একটু বেশিই পেল। কেননা, ম্যাচটি ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি ইংলিশদের চেয়ে বাংলাদেশের কাছেই অধিক গুরুত্বের ছিল।

হ্যা, সেটিই হলো। কাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয়ে সেমিফাইনালে পা রাখলো বাংলাদেশ। আইসিসি আয়োজিত কোন টুর্নামেন্টে এটিই টাইগারদের এখন পর্যন্ত সেরা সাফল্য। তবে কি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপার দিকে চোখ এখন মাশরাফিদের। মাশরাফি অবশ্য মনে মনে যাই ভাবুক মুখে তা বলতে রাজি নন। বাংলাদেশের সেমিতে ওঠা নিয়ে অতটা অতিআবেগীও হতে চান না এই টাইগার ক্যাপ্টেন।

গতকাল বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে বাংলাদেশের সর্বকালের সফল অধিনায়ক ম্যাশ বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি গর্বিত। বাংলাদেশকে সবসময় এখানেই দেখতে চেয়েছিলাম।’

১৬ কোটি মানুষের অ্যাক্সপেক্টেশন নিয়ে কি বাড়তি চাপ আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘দেশের দর্শকদের-সমর্থকদের প্রতি আহ্বান থাকবে- দয়া করে আমাদের চ্যাম্পিয়ন করে দিয়েন না। এটা বাড়তি প্রেসার। যেটা আমাদের জন্য নেয়া ঠিক হবে না। দেশবাসীর সমর্থন আর দোয়াটাই শুধু চাই।’

অতীতের স্মৃতিচারণ করে মাশরাফি বলেন, ‘আমরা ২০১৫ বিশ্বকাপে শেষ আটে খেলেছিলাম। কিন্তু আমি বরাবরই বলে এসেছি, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ম্যাচ জেতা এত সহজ কাজ নয়। আমরা কঠিনেরে জয় করার জন্যই প্রস্তুত হচ্ছি। এবং আশা করি সেটি করবো।’

টাইগার সেনাপতি বলেন, ‘আজ দলে অনেক তারকা আছে। এই ধরুন সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, মুস্তাফিজ, তাসকিন, সৌম্য, সাব্বির কিংবা রুবেল। এরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গায় সেরা। কিন্তু এটি বাংলাদেশের ধারাবাহিক ক্রিকেটেরই ফসল।’

বাংলাদেশের সেমিতে ওঠার পথে প্রকৃতিও অন্যতম সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মাশরাফি বলেন, ‘অভিয়াসলি বৃষ্টিটা আমাদের সেমিফাইনালে ওঠার পথে সহায়ক ছিল। অতীতেও অনেক বড় টুর্নামেন্টে এর চেয়ে বাজে অবস্থা হয়েছে। এগুলো ম্যাচেরই অংশ। এ নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই।’

সেমিফাইনালে কোন দলকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেতে চান? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যাশ একটু জোক করে বলেন, ‘আমরা নিজেরাই তো নিশ্চিত ছিলাম না। আর এখন আমরা কী করে অন্য দলকে বাছাই করি। এটা করা ঠিকও হবে না। প্রতিপক্ষ যেই হোক, আমরা শুধু সেরাটা খেলতে চাই।’

উল্লেখ্য, শনিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ৪০ রানের পরাজয়ে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়। এর আগে নিজেদের শেষ ম্যাচে কিউইদের ৫ উইকেটে হারায় টিম বাংলাদেশ। বিপর্যয় সামাল দিয়ে ২২৪ রানের দারুণ এক পার্টনারশিপ গড়ে দলকে জয় এনে দেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ৮ উইকেটে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে খেলা পরিত্যক্ত হলে ১ পয়েন্ট পায় বাংলাদেশ। সব মিলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার আপ হয়ে সেমিতে পা রাখলো মাশরাফিরা।

আগামী বৃহস্পতিবার গ্রুপ ‘বি’-এর চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আজ ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে যে দল জিতবে সম্ভাব্য তাদের বিপক্ষেই লড়তে হবে তামিম-সাকিবদের। সেমির দৌড়ের ‘বি’ গ্রুপে প্রতিপক্ষ অপর দুই দল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এদিকে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ রানার আপ হয়ে সেমিতে গেলেও ৩ ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ চারে আছে ইংল্যান্ড। গ্রুপ ‘বি’-এর রানার আপ দলের বিপক্ষে সেমিতে লড়তে ইংলিশরা।

মতামত