টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিশ্বের এক নম্বর ধনী দেশ কাতারকে কী দমাতে পারবে সৌদি?

চট্টগ্রাম, ১০ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  কাতারের রাজধানী দোহায় একের পর এক গড়ে উঠছে সুউচ্চ ভবন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদশালী দেশ । মাথাপিছু জিডিপি ও ক্রয়ক্ষমতার সমতার ভিত্তিতে গ্লোবাল ফাইন্যান্স ম্যাগাজিন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ হিসেবে কাতারকে নির্বাচিত করেছে।

বিশ্বের ১৮৯টি দেশের এ তালিকায় বাংলাদেশ আছে ১৪৩ নম্বরে। সবচেয়ে ধনী দেশ কাতার থেকে ১৪২ ধাপ পেছনে আছে বাংলাদেশ। সৌদি আরবের মাথাপিছু জিডিপি ৫৬ হাজার ২৫৩ ডলার।

ধরা যাক, বাংলাদেশে ৫০ টাকা দিয়ে একগুচ্ছ পণ্য ও সেবা ক্রয় করা যায়, যা কিনতে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয় হয় ১ ডলার। এই হিসাবে মার্কিন ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় মূল্য দাঁড়াবে ৫০ টাকা।

ধনী দেশ নির্বাচনের ব্যাখ্যায় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি দেশের নাগরিকেরা আসলেই কতটুকু সম্পদশালী সেটা বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তাদের ক্রয়ক্ষমতা কতটুকু। মাথাপিছু আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বেশি হলে ধরে নেওয়া হয় একটি দেশের নাগরিকেরা তাঁদের জীবন চালানোর প্রয়োজনীয় সব চাহিদা নিজেরাই পূরণ করতে সক্ষম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে কাতারের মানুষের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার। ধনী দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারলেও জ্বালানি তেলের দরপতনে গত এক বছরে কাতারের মানুষের মাথাপিছু আয় ১৫ হাজার ডলার কমেছে। যদিও তা তালিকার দ্বিতীয় ধনী দেশ লুক্সেমবার্গের মাথাপিছু আয়ের প্রায় ২৮ হাজার ডলার বেশি।

মধ্যপ্রাচ্যের উপদ্বীপখ্যাত কাতারের অর্থনীতি জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। মাত্র ২৬ লাখ জনসংখ্যার দেশটির জিডিপির আকার ৩৩ হাজার ৩৯৩ কোটি ডলার। দেশটির রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে পেট্রোলিয়াম রপ্তানি থেকে। এ ছাড়া কাতারের বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যের পাশাপাশি কাতারের অর্থনৈতিক উন্নতিতে বড় অবদান আছে বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া প্রবাসী নাগরিকদের।

কাতার কয়েক বছর ধরেই সবচেয়ে ধনী দেশ। ভবিষ্যতে তা ধরে রাখতে পারবে কি না, এটি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশ কাতারের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এ সব দেশের অভিযোগ, কাতার মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরি ও সন্ত্রাসবাদ উসকে দিচ্ছে।

সমস্যার সমাধান না হলে কাতারের অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়বে। ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে কাতারে এখন যে উন্নয়নকাজ হচ্ছে সে সবকিছু অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে এ ঘটনায়।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বর্তমানে কাতার ইস্যু সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে। গত সোমবার সৌদি আরব এবং বেশ কয়েকটি দেশ কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও ভ্রমণ সম্পর্ক ছিন্ন করার পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নানা মেরুকরণ শুরু হয়েছে।

একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কলকাঠি নাড়ছেন, অন্যদিকে রাশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে কাতারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সবমিলেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি নিয়ে বিশ্বে ফের নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে।

এদিকে চরমপন্থার সঙ্গে কথিত যোগসাজশের যে অভিযোগ কাতারের বিরুদ্ধে উঠেছে, তা থেকে মুক্তি পেতে নিজস্ব পররাষ্ট্র নীতিকে বাদ দিয়ে বশ্যতা স্বীকার করা হবে না বলে দেশটি প্রতিজ্ঞা করেছে।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি বলেছেন, সঙ্কট সমাধানে তিনি কূটনৈতিক সমাধান চান।

বিবিসি,আনাদোলু নিউজ এজেন্সি অবলম্বনে

মতামত