টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে জমে উঠেছে ঈদ বাজার

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১০ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রামে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। রোদের হাসির সাথে হাসি ফুটেছে বিক্রেতাদেরও। গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামের আকাশে রোদ জলমল করছে। এ সুযোগে ক্রেতারা নেমে পড়েছেন ঈদের কেনাকাটায়।

ক্রেতাদের ভাষ্য, ঘুর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে বৃষ্টিপাত হওয়ায় ক্রেতারা নামতে পারেনি ঈদের কেনাকাটায়। শেষ মুহূর্তে পছন্দের কাপড় ফুরিয়ে যাবে, দামও থাকবে চড়া। তাই মধ্য রোজার আগে থেকে কেনাকাটা শুরু করেছেন তারা।

ক্রেতাদের কাছে টানার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন ব্যবসায়ীরাও। ক্রেতাদের প্রতি লক্ষ রেখে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন পোশাক ও অলংকারে সাজানো হয়েছে নগরীর শপিংমলগুলো। বর্ণিল আলোক সজ্জায় বিপণি বিতানগুলোকে সাজানো হয়েছে নতুন করে।

তবে এবার গরমের মাত্রা বেশি থাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিং মলগুলোতে ভিড় একটু বেশি ক্রেতাদের। তবে সাধারণ মানের মার্কেটগুলোতেও কমতি নেই। এসব মার্কেটে এখনই ক্রেতা উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত শপিংমল, সবখানে চলছে কেনাকাটা।

দেশীয় জামদানি, টাঙ্গাইল ও তাঁতের নতুন ডিজাইনের শাড়িসহ নারীদের বিভিন্ন পোশাক বিক্রি হচ্ছে ভালো। ফ্যাশনের পাশাপাশি র্ট্যাডিশনকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন নারীরা। আর প্রচুর কালেকশনের পাশাপাশি দাম এখনো কম থাকায় খুশি তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর প্রতিটি শপিং মলেই উপচেপড়া ভিড়। তরুণ-তরুণীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। তরুণীরা কাপড় কিনে তাতে বুটিকস শপ থেকে পছন্দের নকশা তৈরি করাচ্ছেন। ফ্যাশন সচেতন রুচিশীল ছেলেরাও পিছিয়ে নেই। তারাও ছুটছেন সমানে। অভিজাত মার্কেটের মধ্যে সানমার ওশান সিটি, আমিন সেন্টার, আফমি প্লাজা, মিমি সুপার মার্কেটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারি আড়ত নগরীর টেরিবাজারেও দম ফেলার ফুরসত নেই বিক্রেতাদের। সব শ্রেণীর ক্রেতাই ছুটছেন এ মার্কেটে। টেরিবাজারে দেশীয় কাপড়ের চেয়ে ভারতীয় কাপড় বেশি মিলছে। চীনা র্ব্যান্ডের কাপড়ও মিলছে বেশ।

টেরিবাজারে গুজরাটি চিকেন র্ব্যান্ডের কাপড় প্রতি গজ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়, জয়পুরী কটন ৪৭০ থেকে ৫০০, সিল্কের কাশ্মীরি কাতান ৩০০ থেকে ৩৫০, বোটা জর্জেট ১৮০ থেকে ২০০, মুম্বাই নেট ৫০০ থেকে ৫৫০, স্টোন নেট ৪৫০ থেকে ৫০০, ভেলভেট ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০, বোম্বে বুটিকস ৭০০ থেকে ৭৫০ এবং দিল্লি কটন ৬৫০ থেকে ৮৫০ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, প্রতি বছর ক্রেতাদের পছন্দের ধরণ পাল্টাচ্ছে। সেইসঙ্গে বদলাচ্ছে চাহিদার হিসাব-নিকাশ। এবার লিনেন, সুতি, জর্জেট, কাতান, জামদানি কাপড়ের প্রতি বেশি আগ্রহ ক্রেতাদের। এবার বাজারে আসা নতুন ডিজাইনের মধ্যে রয়েছে বাহুবলী ক্রেজ, লেহেঙ্গা ও সারারা।

টেরিবাজারের বিক্রেতা নওশাদ হোসেন জানান, নগরীর যে কোনো বিপণিবিতানের চেয়ে টেরিবাজারে পোশাকের দাম সস্তা। পোশাক বলতে শাড়ি, শার্ট, পাজামা-পাঞ্জাবি থেকে থ্রিপিস সবই পাওয়া যায়। পাইকারি দোকান থেকে ক্রেতারা চাইলে খুচরা ঈদের পোশাক কিনতে পারেন। তাই ক্রেতাদের বড় অংশের পছন্দ এ মার্কেট। ঈদে প্রতিবারের মতো আমরা সব শ্রেণীর ক্রেতার চাহিদা পূরণ করতে চাই।

বিক্রেতারা জানান, টেরিবাজারে প্রতি গজ লিনেন কাপড় বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। জর্জেট কাপড় ১৩০ থেকে ১৫০ ও ভারতীয় কাতান ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। জামদানি কাপড় বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

নগরীর বহদ্দারহাট মোড়ের স্বজন সুপার মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, বড় বিপণিবিতানের চেয়ে এখানে কাপড়ের মূল্যে বিস্তর ফারাক। জিইসি মোড়ের সেন্ট্রাল প্লাজায় যে থ্রিপিসের দাম ৩ হাজার টাকা, একই মানের থ্রিপিস এ মার্কেটে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় মিলছে।

ক্রেতারা জানান, বড় মার্কেটে দাম নিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে ক্রেতাদের সঙ্গে। তাই ছোট মার্কেটেই তারা পোশাক কিনতে এসেছেন।

নগরীর চান্দগাঁও সমশের পাড়া এলাকা থেকে আসা রেশমি (২৭) নামে এক ক্রেতা বলেন, ছোট মার্কেটগুলোতে দাম এখনো যৌক্তিক। তাই দাম নিয়ে খুব একটা দরকষাকষি করতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, বাচ্চাদের জন্য বেশি কেনা হয়, বড়দের চাইতে। ওদের চাওয়া পাওয়াটা আমাদের কাছে অনেক বড়।

বহদ্দারহাট স্বজন সুপার মার্কেটের চয়েস এন্ড ফ্যাশনের বিক্রেতা মুরাদ হোসেন বলেন, গরমে ভারী না নিয়ে হালকার মধ্যে..কিছুটা, কিন্তু লং ড্রেসগুলো কিছুটা প্রিফার (পছন্দ) করছে মেয়েরা। আর ছেলেদের ক্ষেত্রে গতানুগতিক।

মতামত