টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

টেকনাফে বিস্ফোরণ: হাসপাতালে দগ্ধ রোগী, উধাও চিকিৎসক!

চট্টগ্রাম, ০৯ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): কক্সবাজার সদর হাসপাতালে টেকনাফের বাহারছড়া থেকে চিকিৎসা নিতে এসেছে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিদগ্ধ কয়েকজন। কিন্তু তাদের দেখার মতো কোনো চিকিৎসক নেই। আছেন মাত্র একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক। তিনিও রোগীদের সঠিক কোনো পরামর্শ না দিয়ে পাঠিয়ে দেন ওপরে। ওপরে গিয়েও কোনো ডাক্তার পাননি রোগীরা। এতে রোগীরা পড়ে যান আরো বিপাকে। ফলে শুরু হয় দগ্ধ রোগীর স্বজনদের চিৎকার-চেঁচামেচি। শুক্রবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে এই অবস্থা দেখা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল তিনটায় ইমার্জেন্সি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন ডা. শামিম আল মামুন। কিন্তু তিনি সঠিক সময়ে আসেননি। আর তাতেই বিড়ম্বনায় পড়েছেন দগ্ধ রোগী ও তাদের স্বজনরা। বারবার চিৎকার করেও কোনো সঠিক চিকিৎসা পাননি এসব রোগীরা। এমনকি শরীরের কতভাগ পুড়ে গেছে সেটাও বলতে পারছেন না দায়িত্বরত চিকিৎসক!

দগ্ধ এক রোগীর স্বজন শামসুল আলম বলেন, এসেছি অনেকক্ষণ আগে। কিন্তু চিকিৎসক শুধু বলছেন ওপরে নিয়ে যান। আগে তো প্রাথমিক চিকিৎসাটা দিতে হবে। সেটা বলার পরও তারা শুধু বলছে ওপরে নিয়ে যান। ওপরে নিলে চিকিৎসা পাবেন। ওপরে নেয়ার পরও কোনো কিছু না করে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন কিভাবে অন্যত্র প্রেরণ করা যায়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আকতারুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি শুনেনি। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের টেকনাফের শাপলাপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে ৭ জন গুরুতর আহত হয়। শুক্রবার বিকেল পৌনে তিনটার দিকে শাপলাপুর ইউনিয়নের জাহাজপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ওই এলাকার হেদায়তুর রহমানের ছেলে ছৈয়দ নুর (৩৫), আব্দুস শুক্কুরের বড় ছেলে শাহজাহান (২৩) ও ছোট ছেলে জাফর আলম (১৮), লাল মিয়ার ছেলে নুরুল আলম (৬০), আব্দুল লতিফের ছেলে সৈয়দুল আলম (২৬), এরশাদুর রহমানের ছেলে হামিদুর রহমান (৩০) এবং নজির আহমদের ছেলে আবু ছিদ্দিক (৩০)।

বাহারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল আজিজ বিবার্তাকে জানান, তারা সবাই নামাজ পড়ে চায়ের দোকানের সামনে বসে ছিল। হঠাৎ গ্যাস বের হচ্ছে দেখে দোকানদার সেটাকে বন্ধ করতে গেলে গ্যাস সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। এতে তারা আগুনে দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।

মতামত