টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ট্রাম্পের আমন্ত্রণ, কাতারের না

চট্টগ্রাম, ০৯ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ‘অবরোধ অবস্থা’ থাকাকালীন সময়ে দেশ ছেড়ে কোথাও সফরে যাবেন না। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত মধ্যস্থতায় অংশগ্রহণ করছেন না তিনি। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল জাজিরার সাথে একটি সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।

সৌদি জোট গত সোমবার ‘সন্ত্রাসে মদদ দেওয়ার’ অভিযোগে কাতারের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে। কাতার সেসব অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে। এতে গত অর্ধশতকের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় মধ্যপ্রাচ্যে। অবরোধে প্রথমে টুইটে উল্লাস প্রকাশ করে পরবর্তীতে কাতারের আমিরকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে বিবাদমান পক্ষ নিয়ে মধ্যস্থতা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন ট্রাম্প। কিন্তু শুক্রবার ট্রাম্পের সে আমন্ত্রণকে প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। চলমান অবরোধ অবস্থায় দেশ ছেড়ে যাওয়ার কোন পরিকল্পনা নেই আমিরের।

এদিকে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান আরব প্রতিবেশীদের চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না কাতার এবং তারা তাদের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে কোনো আপস করবে না।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল থানি আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা নতি স্বীকার করতে প্রস্তুত নই, আমরা কখনোই নতি স্বীকার করবো না এবং আমাদের পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা বজায় রাখতে কখনো আপস করবো না।’

তিনি আরও বলেন ‘আমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে কারণ আমরা সফল ও প্রগতিশীল। আমরা একটি শান্তির প্লাটফর্ম।’

কাতার হচ্ছে পেনিনসুলাতে অবস্থিত একটি দেশ যার সৌদি আরবের সাথে ভূ-সীমানা রয়েছে। সৌদি আরব অবশ্য সকল সীমানা সিল করে দিয়েছে। আকাশপথ, নৌপথ বা স্থলপথে কাতারের সাথে সকল যোগাযোগ বন্ধ। খাদ্য ও অন্যান্য জিনিসের জন্য সৌদি আরবসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর উপর নির্ভর করতো কাতার্।

নতুন উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান খাদ্য স্বল্পতা নিয়ে কাতারের ভয় নেই। কারণ ইরান পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করছে। ‘আমরা ভালোভাবে প্রস্তুত আছি। এভাবে আমরা আজীবন থাকতে পারবো।’

ইরানের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে সৌদি জোট কাতারের উপর জোর প্রয়োগ করলেও চলমান পরিস্থিতি কাতারকে ইরানের আরও কাছে নিয়ে আসবে বলে বিশ্লেষকদের মত।

কাতারে সামরিক ঘাঁটি রয়েছে তুরস্কের এবং সেখানে সেনা মোতায়েন করেছে তুরস্ক। এছাড়া খাদ্য ও পানি সরবরাহ করে যাচ্ছে তুরস্ক।

এদিকে প্রথমদিকে কাতার সংকটে সৌদির পক্ষ নেওয়া এবং ফলাফলের ক্রেডিট নিলেও ট্রাম্প এখন মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিচ্ছেন।

মতামত