টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে বারইয়ারহাট লাকী ফ্যাশন মলে

এম মাঈন উদ্দিন


চট্টগ্রাম, ০৭ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে জমে উঠেছে উত্তর চট্টগ্রামের অন্যতম বড় ও সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান বারইয়ারহাট লাকী ফ্যাশন মল। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এখানে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। ঈদকে ঘিরে মহা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। মিরসরাই উপজেলা ছাড়াও এই প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত কেনাকাটা কওে থাকেন পাশ্ববর্তি ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী, ফটিকছড়ি, রামগড় উপজেলার লোকজন। ৩ দশক ধরে বারইয়ারহাট পৌর বাজারে সুনামের সাথে ব্যবসা করে মানুষের শতভাগ আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সারা বছর ব্যস্ততা থাকে এখানে। তবে ঈদকে ঘিরে ব্যস্ততা অনেকগুন বেড়ে যায়। বানিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র বারইয়ারহাট পৌরসভার মসজিদ গলিতে বিশাল স্পেস নিয়ে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে এবারো হরেক রকম নিত্য নতুন কালেকশান রয়েছে।

ঈদ ঘিরে নতুন নতুন পণ্যের সমাহার নিয়ে বসেছে প্রতিষ্ঠানটি। শাড়ির মধ্যে রয়েছে ফাঞ্জিবরন কাতান, বেংলোর কাতান, সফট সিল্ক, পিওর সিল্ক কেটালক, জর্জেট, শিপন, কাতান, কেটালক সুতি, তাঁতের শাড়ি, ঢাকাই জামদানি, মসলিন জামদানি। থ্রি-পিসের মধ্যে কাটা থ্রি-পিস, গাউন, পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান থ্রি পিস, জপটপ, পানসু ফ্রগ, টপস্, সারারা ইত্যাদি।

শিশুদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে বাবা সেট, মোদি সেট, পাঞ্জাবি-শেরওয়ানিসহ বিভিন্ন নতুন আইটেম। ৩৫০ থেকে ৪৫,০০০ টাকা পর্যন্ত শাড়ি রয়েছে এখানে। ৪০০ থেকে ১৮০০০ হাজার টাকার মধ্যে থ্রি-পিস রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে কমপক্ষে ৩০০ টাকা পণ্য কিনলে দেয়া দেওয়া হচ্ছে একটি লাকি কুপন। মোটরসাইকেল, ফ্রিজ-টিভিসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তিন তলা বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিচতলায় রয়েছে থ্রিপিস, পাঞ্জাবী, লুঙ্গী, গেঞ্জি সহ বিভিন্ন আইটেম। ২য় তলায় রয়েছে শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবী ও পাটি পাঞ্জাবী, শেরোয়ানী, পাগড়ি ও ছোট বাচ্চাদের পাঞ্জাবী সেট। তৃতীয় তলায় রয়েছে শাড়ি, থ্রি-পিস, থান কাপড়, বেবি সপ, গার্মেন্টস, (লেডিস) কসমেটিকস, ইমিটেশন জুয়েলারি, গিফট্ আইটেম, লাগেজ, জুতা ক্রোকারিজ। উত্তর চট্টগ্রামের মধ্যে এত বড় শপিং মল আর কোথাও নেই। একদামে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতারা প্রতারিত হওয়ার ভয় নেই। সর্বনিম্ম ৫টাকা থেকে শুরু করে ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য রয়েছে লাকি ফ্যাশনে।

কথা হয় ঈদের কেনাকাট করতে আসা উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের সাহেবদী নগর গ্রামের গৃহবধু জেসমিন সুলতানার সাথে। তিনি বলেন, আমি এবং আমার পবিারের সদস্যদের জন্য প্রতি বছর লাকী থেকে কেনাকাটা করে থাকি। রোজার শেষের দিকে আরো ঝামেলা বেশি হবে। তাই এখন কেনাকাট সেরে ফেলতে এসেছি।

করেরহাটের ছত্তরুয়া গ্রামের গৃহিনী কাজল হাজেরা বলেন, এখানে বিভিন্ন আইটেমের কালেকশান বেশি থাকায় পচন্দ করে কেনা যায়। এছাড়া একদাম হওয়াতে কোন দরদাম করতে হয়না। এবার আরো ভালো হয়েছে শাড়ি থ্রি-পিস ছাড়া অন্য সব আইটেম এখান থেকে ক্রয় করতে পেরেছি।

চট্টগ্রামে একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরী করা বারইয়ারহাট জামালপুর এলাকার জয়নাল আবেদীন বলেন, শহরে থাকলেও কেনাকেটা লাকী থেকে করে থাকি। এখানে পচন্দমত দেখে শুনে ক্রয় করা যায়।

লাকী ফ্যাশন মলের স্বত্ত¡াধিকারী মোঃ শামসুদ্দিন বলেন, রমজানের শুরতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বেচাকেনা কম হলেও এখন ভালো বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি ১৫ রমজানের পর আরো বেশি বিক্রি হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রায় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বারইয়ারহাট বাজারে সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছি। যদিও আগে প্রতিষ্ঠান ছোট্ট পরিসরে ছিলো। এখন বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এবং গ্রাহকদের স্থান সংকুলান ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে ১ম, ২য়, ও ৩য় তলায় সু-বিশাল পরিসরে সম্পুন্ন শীতাতপ পরিবেশে শো-রুম সাজিয়েছি।

মতামত