টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামের জাতিসংঘ পার্কের সুইমিং পুল উন্মুক্ত হয়নি দু’বছরেও

চট্টগ্রাম, ০৭ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): জাতিসংঘ পার্কে নির্মিত সুইমিং পুল দুটিনির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে দুই বছর আগে। এতদিনে যেখানে অসংখ্য কিশোর-কিশোরীর সাঁতার শেখার কথা সেখানে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্তই করা হয়নি জাতিসংঘ পার্কে নির্মিত সুইমিং পুল দুটি। দীর্ঘ এ সময়ে সাঁতার শেখাতো দূরের কথা পার্কে প্রবেশের সুযোগই পাননি নগরবাসী। এতে একদিকে নগরবাসী বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার প্রকল্পটি কোনও কাজেও আসছে না।

এদিকে নগরীর সাধারণ কিশোর-কিশোরীরা সুইমিং পুলটি ব্যবহার করতে না পারলেও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তার সন্তানরা ঠিকই তা ব্যবহার করছে। কয়েকদিন আগেও কয়েকজন কর্মকর্তাকে ওই সুইমিং পুলে সন্তানদের সাঁতার শেখাতে দেখা গেছে।

গত শুক্রবার (২ জুন) সুইমিং পুলে সন্তানদের সাঁতার শেখানোর কয়েকটি ছবি ফেসবুকে আপলোড করেন সিটি করপোরেশনের সহযোগী প্রকৌশলী সুদীপ বসাক। ছবি আপলোডের পরপরই ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে বাধ্য হয়ে ওই কর্মকর্তা ফেসবুক থেকে ছবিগুলো সরিয়ে নেন। এরপর থেকে সুইমিং পুল দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি আরও জোরদার হয়েছে।

নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, নগরীর শিশু-কিশোরদের সাঁতার শেখার জন্য সিটি করপোরেশন পার্কে সুইমিং পুলটি নির্মাণ করেছে। এখন যদি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্তই না করে তবে এটি নির্মাণ করা আর না করা একই কথা। তিনি দ্রুত সুইমিং পুলটি সাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।

তার মতো আরও অনেক নগরবাসী একই দাবি জানিয়েছেন।

২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর পাঁচলাইশ এলাকায় অবস্থিত জাতিসংঘ পার্কের একটি অংশে সুইমিং পুল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যায়ে পার্কের ওই অংশে ২টি সুইমিং পুল ও একটি জিমনেশিয়াম নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ১২০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৫০ ফুট প্রস্থের সুইমিং পুলগুলোর একটি পুরুষ এবং অন্যটি নারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়। এছাড়া ৭ হাজার বর্গফুটের একটি জিমনেশিয়ামও নির্মাণ করা হয়। ২০১৫ সালে জিমনেশিয়াম ও সুইমিং পুল নির্মাণের কাজ শেষ হয়। দু’বছর আগে কাজ শেষ হলেও এখনও পার্কটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি।

২০১২ সালে সুইমিং পুলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সিটি মেয়র এম মনজুর আলম। ওই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ‘নগরীতে কিশোর-কিশোরীদের সাঁতার শেখার কোনও সুযোগ নেই। তাই নগরবাসীর শরীরচর্চা এবং কিশোর-কিশোরীদের সাঁতার শেখার জন্যই সুইমিং পুলটি নির্মাণ করা হচ্ছে।’

কিন্তু বাস্তবে এর কোনও প্রতিফলনই ঘটছে না। কাজ শেষ হওয়ার পর চালু না করে উল্টো একবার ২৫ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সিটি করপোরেশন। অবশ্য নগরবাসীর দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত তারা আর করতে পারেনি।

ওই সময় মেয়র মনজুর আলম আরও বলেছিলেন, সুইমিং পুল নির্মাণের পাশাপশি পার্কটির উন্মুক্ত অংশটিও সাজানো হবে। গড়ে তোলা হবে নান্দনিক বিনোদন পার্ক। কিন্তু ২০১২ সালে প্রকল্প গ্রহণের চার বছর পরেও পার্কটি এখনও যেন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দিন দিন জৌলুস হারিয়ে বার্ধক্যে পৌঁছেছে পার্কটি।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি এ সুইমিং পুল এবং জাতিসংঘ পার্ককে ঘিরে বাণিজ্যিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। ওই সময় ২৫ বছরের ইজারা দেওয়ার জন্য টেন্ডারও আহ্বান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে একটি রিটের প্রেক্ষিতে একই বছরের ২৯ জুন বিচারপতি এমদাদুল হক ও বিচারপতি জাফর আহমদ পার্কটির ইজারা প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ দেন। সেই থেকে সুইমিং পুলটি ব্যবহার করা হয়নি।

তবে গত ৬ মে এই সুইমিং পুলে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

ওই সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছিলেন, ‘কোনও জিনিস ফেলে না রেখে ব্যবহার করাই ভালো। যদিও সুইমিং পুলটির গভীরতা বেশি। এক্ষেত্রে পানি কমিয়ে প্র্যাক্টিস উপযোগী করার চিন্তা করছি। কেউ সাঁতার শিখতে চাইলে শিখতে পারবে। এক্সপার্ট-এর পরামর্শ নিয়ে যা করার করবো।’

এ ব্যাপারে জানতে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘জাতিসংঘ পার্কের প্রকল্পটি সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী রেজাউল করিমের অধীন রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ভালো বলতে পারবেন।’

একই কথা জানান সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছি এক বছর হলো। আমার সময়ে প্রকল্পটি নিয়ে কোনও কাজ হয়নি। তাই এ ব্যাপারে আমার ধারণা নেই। আপনি আমাদের নগর পরিকল্পনাবিদ রেজাউল করিম সাহেবের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ভালো বলতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু কাজ শেষ হওয়ার দু’বছরেও তা চালু হয়নি তাহলে হয়তো কোথাও ত্রুটি থাকতে পারে। উনার সঙ্গে কথা বললে আপনি এ ব্যাপারে ধারণা পাবেন।’

এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রকল্পটি প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন তদারকি করছেন। আপনি উনার সঙ্গে কথা বলেন।’

বিষয়টি জানতে প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।- বাংলা ট্রিবিউন

মতামত