টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এখনো সেমিতেই চোখ মাশরাফির

চট্টগ্রাম, ০৬ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::কেনিংটন ওভালে সোমবার বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ম্যাচ। তাতে অবশ্য লাভটা হয়েছে টাইগারদের। আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়া বাংলাদেশের খাতায় যোগ হয়েছে মূল্যবান ১ পয়েন্ট। তাতে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা টিকে আছে এখনো। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও গাইলেন আশার গান। জানিয়েছেন, এখনো সেমিতে খেলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

২ ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপে তৃতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ২। আগের ম্যাচেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছিল অজিরা। ১ ম্যাচে পূর্ণ ২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। সমান সংখ্যক ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের অর্জন ১ পয়েন্ট। তাতে জটিল হয়ে উঠেছে এই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ। সব দলেরই সুযোগ রয়েছে শেষ চারে খেলার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফির কণ্ঠে তাই ইতিবাচক সুর, ‘আমরা এখনো টুর্নামেন্টে টিকে আছি। দেখা যাক কি ঘটে।’

এ ম্যাচের হারের শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশ। টসে জিতে বাংলাদেশের করা ১৮২ রানের জবাবে ১৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়া তুলে ফেলেছিল ১ উইকেটে ৮৩ রান। এরপর বৃষ্টিতে ম্যাচ পণ্ড হয়ে যায়। তাতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারের শঙ্কা তৈরি হলেও বাংলাদেশ পেয়েছে ১ পয়েন্ট। এ বিষয়ে মাশরাফি বলেছেন, ‘দেখুন, আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের আমাদের মতো একই পরিস্থিতিতে ছিল অস্ট্রেলিয়া। আবহাওয়ার উপর তো আমাদের হাত নেই।’

বাংলাদেশের পরের ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেমিফাইনালে যেতে সে ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের। ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’খ্যাত মাশরাফি কিউইদের হারিয়ে সেমিতে যেতে আশাবাদী, ‘আমি ২০১৫ বিশ্বকাপের কথা মনে করতে পারি। আমরা অস্ট্রেলিয়ার কাছে থেকে ১ পয়েন্ট পেয়েছিলাম। জায়গা করে নিয়েছিলাম কোয়ার্টার ফাইনালে। এবারও আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি। আমাদের নিউজিল্যান্ডকে হারাতে হবে। পাশাপাশি কিছু ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তাই আমাদের কাজ হলো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেরাটা উজাড় করে দেয়া।’

যেভাবে সেমিতে যেতে পারবে বাংলাদেশ

একেই বলে ভাগ্য! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সুবিধাজনক অবস্থায় থেকেও পেতে হলো এক পয়েন্ট। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে তো নিশ্চিত জয়ের ম্যাচে হারাল এক পয়েন্ট। অন্যতম ফেভারিট অস্ট্রেলিয়া এখন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায়ের পথে। ইংল্যান্ডের কাছে শেষ ম্যাচে হারলেই বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে স্টিভেন স্মিথদের।

সোমবার কেনিংটনের ওভালে দিনের শুরুটা বাংলাদেশের ভালো যায়নি। টস জিতেও অস্টেলিয়ার বিপক্ষে করে মাত্র ১৮২ রান। কিন্তু দিন শেষে আবহাওয়া বাংলাদেশের জন্য সুখবর বয়ে এনেছে।

ডাকওয়ার্থ-লুইস কার্যকরে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ ওভার খেলতেই হতো। অস্ট্রেলিয়ান ইনিংসের ১৬ ওভার শেষে যখন বৃষ্টি নামে তখন তাদের স্কোর ১ উইকেটে ৮৩। অথচ ডাকওয়ার্থ-লুইসে ম্যাচ জিততে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ ওভারে করতে হতো ৮৫ রান।

শেষ চার ওভারে আরো দুই-তিনটি উইকেট পড়লেও জিততে তাদের কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তু বৃষ্টি অস্ট্রেলিয়ানদের সর্বনাশ ডেকে বাংলাদেশের সামনে পৌষ মাসের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে।

এই ম্যাচের পর জটিল সমীকরণে পড়া ‘এ’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশকে এখন শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারাতেই হবে। আবার ইংল্যান্ডকেও অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাকি দুটি ম্যাচে জিততে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে সেমিফাইনালে!

বাংলাদেশের সম্ভাবনার আভাস মঙ্গলবারের ম্যাচে কিছুটা হলেও পাওয়া যাবে। এদিন কার্ডিফে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। ইংল্যান্ড জিতলে বাংলাদেশের পথ এক ধাপ পরিষ্কার হবে।

পরের ম্যাচে যদি অস্ট্রেলিয়াকে ইংল্যান্ড হারাতে পারে। আর বাংলাদেশও যদি তাদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জেতে, তাহলে ‘এ’ গ্রুপ থেকে সহজ হিসাবে ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশ যাবে সেমিফাইনালে।

আর ইংল্যান্ড বাকি দুই ম্যাচ হেরে গেলেও বাংলাদেশের সম্ভাবনা থাকবে। কারণ বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের কারণে ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ২। দুই ম্যাচে ভাগাভাগির কারণে অস্ট্রেলিয়ারও পয়েন্ট ২। নিউজিল্যান্ড এবং বাংলাদেশের পয়েন্ট ১ করে।

ইংল্যান্ড বাকি দুই ম্যাচ হারলে তাদের পয়েন্ট থাকবে ২। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলে তাদের পয়েন্ট হবে ৩। নিউজিল্যান্ডেরও পয়েন্ট থাকবে ৩। আর অস্ট্রেলিয়ার ৪। সেক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দল হিসেবে যারা রানরেটে এগিয়ে থাকবে, তারাই যাবে সেমিফাইনালে।

এজন্য শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতে রান রেট বাড়াতে হবে মাশরাফিদের।

এতসব সমীকরণের মধ্যে একটিই স্পষ্ট বার্তা, বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে খেলতে হলে সব ক্ষেত্রেই নিউজিল্যান্ডের বারোটা বাজতে হবে।

মতামত