টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

লতিফুর রহমান আর নেই

চট্টগ্রাম, ০৬ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান আর নেই। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিচারপতি লতিফুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে ভুগছিলেন।

মৃত্যুকালে লতিফুর রহমানের বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি স্ত্রী আয়েশা রহমান, তিন মেয়ে- শম্পা, রুম্পা ও নিপাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

লতিফুর রহমান ১৯৩৬ সালের ১ মার্চ যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। তার আইনজীবী বাবা লুৎফর রহমান তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ উপাধি পান।

লতিফুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি অনার্স কোর্সে ভর্তি হয়ে ১৯৫৪ সালে সাবসিডিয়ারি ও ১৯৫৫ সালে বিএ (অনার্স) পাস করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে এমএ করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে বিচারপতি লতিফুর রহমান বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অ্যাটর্নি জেনারেল এম এইচ খন্দকারের অধীনে শিক্ষানবিশ হিসেবে ঢাকা হাইকোর্টে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন।

১৯৭৯ সালে তিনি বারের সদস্য হিসেবে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে অস্থায়ী বিচারপতি নিয়োগ পান। তিনি ১৯৮১ সালে স্থায়ী বিচারক হন। ১৯৯০ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক ছিলেন। এরপর তিনি সুপ্রিমকোর্ট আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ পান।

২০০০ সালের ১ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন লতিফুর রহমান। ২০০১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি অবসরে যান।

লতিফুর রহমান ২০০১ সালের ১৫ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। তার অধীনে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বিচারপতি লতিফুর রহমানের লেখা বইগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলি ও আমার কথা’, ‘Illumined hope’ ও ‘Constitution of Bangladesh’।

মতামত