টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ড হাসপাতালে নার্সদের দৌরাত্ম: অতিষ্ট রোগী-ডাক্তাররা

মোঃ ইমরান হোসেন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ০৫ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: দায়ীত্বে অবহেলা, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে সীতাকুণ্ড উপজেলা হাসপাতালের নার্সদের বিরুদ্ধে। দিনের পর দিন সেবাদানকারীর নামে নাম মাত্রে সেবিকাদের র্দুণীতির দৌরাত্ম বেড়ে যাওয়ায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছে রোগী ও ডাক্তাররা। ফলে হাসপাতালে সেবার পরিবর্তে জনগনকে পোহাতে হয় চরম বিড়ম্বন ও লাঞ্চনা।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী বৃদ্ধির সাথে বৃদ্ধি করা হয়েছে সিট, জনবল, সরঞ্জাম ও ঔষুধপত্র। রোগীদের সেবাদানে ৪টি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত নার্স ও আয়া নিয়্গো দেয়া হলেও বাড়েনি সেবা মান। ফলে সেবা নিতে এসে পদে পদে বিড়ম্বনা ও লঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের। তাছাড়া দায়ীত্ববোধ কাকে বলে তা তো জানেই না নার্সরা। সে সাথে নার্সদের উদৌত্তপুর্ন আচরনে অভাব-অভিযোগ বলার চেষ্টা করেও সাহস হারিয়ে ফেলে রোগীরা। আর এটাই নাকি দায়ীত্বরত নার্স দৈনন্দিন আচরনের একটি বিশেষ দিক বলে অভিযোগ রোগীদের।

পেশকার পাড়ার রোগীর অভিবাবক সোহাগ বলেন,‘ সরকারী ঔষুধ তো দুরের কথা বেড সিট দিতে করে গড়িমসি নার্সরা। নার্স স্টেশনে এসে কাত্রালেও প্রয়োজনী ব্যবস্থা নিতে নেয়ার প্রয়োজন মনে করে না। আর রাত হলে তো কথায় নেই, কে কোথায় কোরো খবর রাখে না কেউ। পুরো রাত কেটে গেলেও লঞ্চনার ভয়ে মমূর্ষ রোগীকেও পড়ে থাকতে হয় বিছানায়। তাছাড়া বেড সিট না থাকার কথা বলে নার্স বাড়ি থেকে আনার নির্দেশ দেন বলে জানান তিনি।

এদিকে যেনতেন সেবা প্রদানের ফলে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য সেবা। দিনের হাসপাতাল যা-তা রাতের বেলা আরো করুন অবস্থা। যে কারণে রাত হলে জীবন-মরনের দ্বার প্রান্তে দাড়াঁয় ভর্তি রোগীরা। হাসপাতালের নার্স সুলতানাসহ কয়েকজন নার্সের দৌরাতেœ স্বাস্থ্য সেবায় করুন পরিনতি বলে অভিযোগ ডাক্তার ও নার্সদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নার্সরা বলেন, চাকুরীতে যোগদানের পর থেকে নিজের ইচ্ছা কর্তব্য পালন করছেন নার্স সুলতানা। রোগীদের সেবা না করলেও শোনিয়ে দেন কর্কট শদ্বের বকুনী। তাঁর দাফট এতো বেশী ব্যবস্থা নেয়ার লোক নেই হাসপাতালে। ফলে হাসপাতালটি হয়ে উঠেছে নার্সের একক নিয়ন্ত্রীত ব্যাক্তিগত প্রতিষ্টানে। অথচ হাসপাতাল জুড়ে নার্স সুলতানার দৌরাত্ম দেখেও নিরব রয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুরুল করিম রাশেদ বলেন,‘ একজন নার্সের প্রথম দায়ীত্ব হল রোগীকে সুন্দর ব্যবহার দিয়ে সন্তুুষ্ট করা। আর এ সুন্দর ব্যবহারের জন্যে তো পয়সা খরচ হয় না। তবে সুন্দর পরিবেশ ও পরিবারের মানুষ থেকে সুন্দর কিছু আশা করা সম্ভব। জানি না আমার নার্সরা কোথায় থেকে এসেছে। কোনো মানুষ যদি নিজ থেকে সংশোধন না হয় তাকে যতই কথা বলা হোক না কেন, তার কানে ঢুকবে না।’ তাছাড়া এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে গেলেও নানা বাধাঁর সম্মুখীন হতে হয় বলে জানান তিনি।

মতামত