টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছোঁয়া প্রশাসনের মনিটরিং নেই

এম মাঈন উদ্দিন
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম, ০৪ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::   চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চিনি ছোলা চাল ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছোঁয়া। পবিত্র মাহে রমযানে দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন উপজেলা উপজেলায় টিসিবির মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী বিক্রি করার পরিকল্পনা খাতা কলমে চূড়ান্ত দেখানো হলেও মিরসরাইয়ে তার দেখা নেই। দোকানগুলোতে দ্রব্যমূল্যের তালিকা তৈরি করে ঝুলিয়ে রাখার কথা থাকলেও হাতে গুনা কয়েক জন ছাড়া তা মানছেন না ব্যবসায়ীরা। আবার কোন-কোন ব্যবসায়ী মূল্য তালিকা বোর্ড ঝুলিয়ে রাখলেও তাতে দ্রব্যের সঠিক মূল্য লেখা নেই। এই নিয়ে প্রশাসনের কোন ধরনের মনিটরিং চোখে পড়েনা। অতিরিক্ত দাম হওয়ার ফলে গরীব-দুস্থসহ সাধারণ মানুষদের সংসার চালাতে দারুণভাবে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পবিত্র মাহে রমযান মাসে মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলোতে দৃশ্যপট রাতারাতি পাল্টে গেছে। রাতারাতি বেড়ে গেছে রমযানের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম। কয়েকদিনের ব্যবধানে চাল, ডাল, ছোলা, মুড়ি, ময়দা, বেশম কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশী ভোজ্যতেল, পিঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক। অপরদিকে সরকার রমযানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে টিসিবিসহ বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রির বিশেষ উদ্যোগ নিলেও এখনো পর্যন্ত মিরসরাইয়ে তার কোন দেখা মেলেনি। হু-হু করে বেড়েই চলছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। যা এখন আকাশচুম্বি, সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

সরজমিনে উপজেলার বড়দারোগাহাট, কমলদহ, নিজামপুর কলেজ, বড়তাকিয়া, আবুতোরাব, মিঠাছড়া, মিরসরাই সদর, বারইয়ারহাট,করেরহাট, হাদিফকিরহাট বাজারসহ অন্যান্য বাজার ঘুরে জানা গেছে, বাজারগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম রাতরাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোলার দাম কেজিতে বেড়েছে ৮-১০ টাকা। যা ইতোপূর্বে ছিল ৭৭ টাকা। চিড়া ও সেমাই-এর দাম বৃদ্ধ পেয়েছে দ্বিগুণ। মসুরের ডাল ৮০ টাকা থেকে বেড়েছে ১’শ ২০ টাকা। খেসারীর ডালের দাম কেজিতে ৫৫ টাকা থেকে বেড়েছে ৭০ টাকা। সয়াবিন তেল বেশ কিছুদিন ধরে ৭৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমান মূল্য ৮৮ টাকা। পরিষ্কার চিনির দাম কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ টাকা। বিদেশি চিনি ৬৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি হয়ে এখন ৭৩ টাকা। চাল, আটা, ময়দা ও বেশমের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকটাই। এছাড়া মুরগী, গরু ও ছাগলের গোস্ত ও মাছের দাম সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। কথা হয় বড়দারোগাহাট বাজারে বাজার করতে আসা শিক্ষক মাষ্টার নুরুচ্ছালামের সাথে। তিনি জানান, পবিত্র রমযান উপলক্ষে বাজারে এসেছিলাম ইফতারির উপকরণ ছোলা, চিড়া, মুড়ি, সেমাই, চিনি, আটা, ময়দা, বেশম ও ফলফলাদী সদায় করতে কিন্তু বাড়ি থেকে যে পরিমান টাকা এনেছিলাম তাতে বাজারের অর্ধেকও হয়নি। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়ে মধ্যবিত্তদের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।

উপজেলার মধ্যম ওয়াহেদপুর গ্রামের রিক্সা চালক ওবায়দুল হক বলেন চাল, তরিতরকারির যে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। বাজারে জিনিস পত্রের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে মানুষ নাভিশ্বাস হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে সবজির বাজারেও উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে বেগুন আলু, শশা কেজি প্রতি ৮-১০ টাকা বৃদ্ধি হয়ে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি করলা ৪৫ টাকা বিক্রি করছেন। কঁচু বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা। মিষ্টিকুমড়া কেজিতে ১২-১৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা। লাউ প্রতি পিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০৩০ টাকায়। প্রতি কেজি বেগুন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা। গরু গোস্ত কেজি প্রতি ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬শ ৫০ টাকা, খাসি ৮শ টাকা, দেশি মুগরী ৩শ ৫০ থেকে ৪শ টাকা, সোনালী মুরগী ২শ ১০ থেকে ১শ ৪৫ টাকা, পোলট্রি ১শ ৩০ থেকে ১শ ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে গরু ও খাশির মাংসে কেজিতে ৮শ থেকে ৯ গ্রাম ওজনে পাওয়া যায়। প্রতি কেজিতে ১শ থেকে দেড়শ গ্রাম কম দিয়ে থাকেন দোকানিরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় অধিক মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা ওজনে কম ও তেল, চিনি, ময়দা, বেশমসহ রমযানে প্রয়োজনীয় সকল জিনিসে নিন্মমানের পণ্য দিয়ে ভেজাল করে ভাল মানের পণ্য বলে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন জানান, গত ৩১ মে মিরসরাই বাজাওে অভিযান পরিচালনা করেছি। মুল্য ঝুলিয়ে না রাখা, ভেজাল খাদ্য রাখার দায়ে কয়েকটি দোকানে জরিমানা করেছি। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মতামত