টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে গহিরা-হেঁয়াকো সড়কে সেতু ভেঙ্গে ট্রাক খালে

উত্তর ফটিকছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

মীর মাহফুজ আনাম
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম, ০২ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):ফটিকছড়ি উপজেলায় বেইলি সেতু ভেঙ্গে একটি মাল বোঝাই ট্রাক খালে গিয়ে পড়েছে। ঘটনায় চালক আহত হয়েছেন। উপজেলার গহিরা-হেঁয়াকো সড়কের নারায়নহাট ইউনিয়নের শৈলকুপা গ্রামের বালুখালী খালের উপর নির্মিত বেইলি সেতুটি শুক্রবার (আজ) সকাল আটটায় ট্রাকসহ ভেঙ্গে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকে সড়ক যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে বিপাকে পড়েছেন ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল আটটার দিকে ভূজপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া হেঁয়াকোগামী গ্যাসের সিলিন্ডার বোঝাই একটি ট্রাক (চট্রমেট্টো ট-১১.৫৬২১) ওই এলাকায় বেইলি সেতুতে ওঠার পরপরই তা ভেঙে খালে পড়ে যায়। এতে চালক সামান্য আহত হন। এলাকাবাসী তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। তবে তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর জানান, সেতুটি ভেঙে পড়ায় উত্তর ফটিকছড়ির সঙ্গে ফটিকছড়ি সদর ও চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। উপজেলার হেঁয়াকো ও পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রামগড়ের জালিয়া পাড়া হয়ে খাগড়াছড়ি মহাসড়ক ধরে কমপক্ষে ৩০ কিলোমিটার ঘুরে দু-একটি যানবাহন চলাচল করছে। উপজেলার বাগান বাজার, নারায়ণহাট ইউনিয়নের অন্তত লক্ষাধিক লোকজন পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। তাদের ১৫-২০ কিলোমিটার ঘুরে গাড়িতে করে চট্টগ্রাম জেলা শহরে যেতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির উত্তর দক্ষিণ পাশ পুরোপুরি ভেঙ্গে নিচে পড়ে যায়। ভারী বর্ষণের ফলে বালুখালী খাল ও পাশের হালদা পানিতে কানায় কানায় ভরপুর। লোকজন একপাশ থেকে অন্যপ্রান্তে নৌকাযোগে সাময়িক পারাপার হচ্ছেন।

নারায়ণহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ হারুন অভিযোগ করেন, ‘গত বছরও একবার সেতুটি ভেঙে পড়ে। এরপর পুরোনো লোহার পাটাতন দিয়ে আবার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। মজবুত না হওয়ার কারনে আবারও তা ভেঙে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগের ফটিকছড়ি উপজেলা কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুহাম্মদ শাহে আরেফীন বলেন,‘ সেতুটির ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৭ টন ওজন নিয়ে যানবাহন চলাচলের কথা। কিন্তু মাল বোঝাই প্রায় ১৫-২০ টন ওজনের গাড়ি পার হওয়ার কারণে সেতুটি ভেঙে পড়ে। তিনি আরো বলেন, এ ছাড়াও সেতুর দুই পাশের রক্ষা দেওয়াল না থাকায় সেতু ধ্বসে পড়ার একটি কারণ। এটি দ্রুত মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে মেরামত কাজ শেষ হবে।’

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন, আমি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেতুটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। আশা করি খুব দ্রুত এটি সংস্কার করে সড়ক যোগাযোগ সচল করা সম্ভব হবে।’

মতামত