টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে সুপার শপ গুলোতে ‘সুপার ভেজাল’

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ০২ জুন ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: পণ্য আছে যত। তা রাখার জন্য চাকচিক্যতা অনেক বেশি। আর এই চাকচিক্যতাই দৃষ্টি কাড়ে ক্রেতাদের। যারা মনে করেন সাধারণ দোকানের চেয়ে চাকচিক্যময় সুপারশপের পণ্য ভাল।

মনে করে বা কানে শুনে যেসব ক্রেতা এমনটা করেন তাদের জন্য দু:সংবাদ এটাই যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বিভিন্ন আকর্ষণীয় নামে গড়ে উঠা সুপার শপগুলোতেও চলছে ভেজাল ও নিম্মমানের ভোগ্য পণ্য বিক্রয়।

এমন তথ্য উঠে আসে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের একাধিক ভ্রাম্যমানের অভিযানে। এরমধ্যে রয়েছে হালের নামকরা স্বপ্ন বাজার, খুলশী মার্ট, সেফওয়েসহ নামকরা একাধিক সুপারশপ।

গতকাল বৃহ¯পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ¯েপশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌসের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মাছে ফরমালিন, ফ্রিজে পঁচা মাছ, নিম্মমানের ফল, সমুচা সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে স্বপ্ন ফোরাম সেন্টারের আসিক বেলালকে তিন লাখ টাকা এবং মাছে ফরমালিন মিশ্রণের দায়ে খুলশী মার্ট শপিং মলকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেন।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চসিকের ফুড টেস্ট ল্যাবরেটরির কেমিস্ট ইলিয়াস জাহেদী স¤পদ, চসিকের ইন্সপেক্টর ইয়াসিন চৌধুরী। তাছাড়া চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সনজীদান শরমিনের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে নগরের রেয়াজুদ্দিন বাজার এলাকার বিভিন্ন দোকানে অভিযান পরিচালিত হয়।

একইদিনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলী চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ কুকিজ বিক্রি করায় সেফওয়ে নামের এক সুপারশপকে ৫০ হাজার টাকা ও অতিরিক্ত মুনাফা করায় লিয়াকত স্টোরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে একই এলাকায় মূল্য তালিকা না টাঙানোয় জেবি স্টোরকে পাঁচ হাজার টাকা, নগরীর কোতোয়ালি বক্সিরহাট ও রিয়াজউদ্দিন বাজারে আরেকটি অভিযানে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনবিহীন পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার, মূল্য তালিকা না টাঙানো ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় করায় ১৩ দোকানদের মোট ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাদ শিকদার ও শান্তা রহমান।

এর আগে চাঁন্দগাও আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠা স্বপ্ন বাজারকে ভেজাল মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রী করার দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলী বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন আবাসিক ও অভিজাত এলাকায় সুপারশপ গড়ে তোলে নিম্মমানের মেয়াদোত্তীর্ণ ভোগ্যপণ্য বিক্রী করছে। অনেক ক্রেতা এসব সুপারমশপের চাকচিক্য দেখে মনে করেন সুপারশপগুলোর পণ্যের গুণগত মান ভাল। ক্রেতাদের এ বিশ্বাসকে পুঁিজ করে প্রতিণিয়ত ঠকাচ্ছে সুপারশপগুলো। এ ব্যাপারে ক্রেতাদের সচেতন হওয়ার উপর জোর দেন তিনি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় একাধিক ক্রেতার সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সুপারশপগুলো পণ্য রাখার জন্য চাকচিক্যময় আসবাব সাজিয়ে ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। তাছাড়া তাদের পণ্যের মান কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত বলায় ক্রেতারা বিশ্বাস করে তা কিনছে। বিশেষ করে প্রবাসী ক্রেতারা নিজেদের অজ্ঞতার কারনে এসব সুপারশপ থেকে চোখ বন্ধ করে পণ্য কিনে থাকে।

সচেতন মহলের ভাষ্য, সুপারশপগুলো যত টাকার পণ্য রাখে না, তার চেয়ে বেশি খরচ করে বহুতল ভবন ভাড়া ও চাকচিক্যময় পরিবেশ সৃষ্টিতে। কিন্তু অন্তরালে নিম্মমানের মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য তারা নির্বিচারে বিক্রী করছে। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ধরা পড়ে জরিমানা গুণাই হচ্ছে তার প্রমান।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার স্বপ্ন বাজারের ব্যবস্থাপক আরিফ এ প্রসঙ্গে বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীক পণ্যে কোন জিনিষ মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তা দোকানের অভ্যন্তরে কোথাও না কোথাও রাখতে হয়। কারন এসব পণ্য উৎপাদিত কোম্পানী ফেরত নেয়। এরমধ্যে অভিযানে পড়লে জরিমানা গুনতে হয়। তার মানে এই নয় যে, আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রী করি।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে স্বপ্ন বাজারের একটি শাখায় ফ্রীজার্ব করা পঁচা মুরগির মাংস বিক্রীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা ওই শাখার লোকজনের অসাবধানতার কারনে হতে পারে। তাই বলে সবশাখায় এমনটা হবে তা নয়। বরং যে কোন সাধারণ দোকানের চেয়ে স্বপ্ন বাজারের পণ্য অনেক বেশি সংরক্ষিত।

কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, তার নিজ শাখায় সংরক্ষিত সবজির অধিকাংশই বাঁসি। এরমধ্যে বেগুন, শসা, চিচিঙা, আলু, করলা ও ফলমুল নরম (ফোতা) হয়ে গেছে। পুকুর, খামার ও সামুদ্রিক মরা মাছে বরফ দিয়ে রাখলেও তার অধিকাংশই পঁচা। এসব মাছ কিনে বাসায় নিয়ে যেতেই তা পঁচা গন্ধ বের হয় বলে জানান কয়েকজন ক্রেতা। একইভাবে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ অনেক বিদেশি জুস, বিস্কিট, চকলেট। যা খেলে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বেই।

মতামত