টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দুর্বল শিক্ষার্থীদের সবল করাই ক্যামব্রিয়ানের সফলতা

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১৯ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: আল রিয়াদ ব্যবসা শিক্ষা থেকে এসএসসি-২০১৪ তে জিপিএ ৪.৩৮ এবং শিববীর আহমেদ, বিজ্ঞান থেকে জিপিএ ৪.৫৬ নিয়ে ক্যামব্রিয়ান কলেজে ভর্তি হয়। সরকারী কলেজে ভর্তি হতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে তারা ভর্তি হয় ক্যামব্রিয়ান কলেজে। কিন্তু এইচএসসি ২০১৬ তে তারা দুজনই জিপিএ-৫ পেয়েছে।

তারা জানায়, ক্যামব্রিয়ানের পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ ও সম্মানিত শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতার কারণে তাদের প্রত্যাশিত জিপিএ-৫ পেয়েছে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের সবল করার জন্য বিকেল ৫ টার পরও ক্যামব্রিয়ানে শ্রেণিকক্ষে কিছু শিক্ষার্থীদের আলাদা করে পাঠদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পর্যন্ত খোলা রাখা হয় লাইব্রেরী।

এ প্রসঙ্গে ক্যামব্রিয়ান কলেজ চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ লায়ন মাহবুব হাসান লিংকন জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ক্যামব্রিয়ানের এটি একটি সাধারণ চিত্র। কারণ প্রতিবছর অপেক্ষাকৃত অনেক দুর্বল শিক্ষার্থী ক্যামব্রিয়ানে আস্থা রেখেই ভর্তি হয়। তাদের এই আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে এবং তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব সৃষ্টির মানসে যা যা করা দরকার আমরা তা করি। দুর্বলদের জন্য আলাদা কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা এবং সার্বিকভাবে পরিণত করে তোলাই আমরা দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি। আর তাদের সাফল্যে যদি একটি পরিবারে হাঁসি ফুটে তবেই আমাদের শ্রমের সার্থকতা।

লিংকন জানান, ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে ক্যামব্রিয়ান কলেজ যাত্রা শুরু করে। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে সর্বমোট ১২৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তন্মধ্যে ৪০ জন শিক্ষার্থী এপ্লাস, বাকি ৮৫জন শিক্ষার্থীই এ গ্রেড পেয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে সারা দেশে ক্যামব্রিয়ান কলেজ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

২০১৫ সালে কলেজটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ৯৮৬ জন পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে এসএসসি তে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ছিল ২৯৭ জন যা মোট শিক্ষার্থীর ৩৭%। এইচএসসির ফলাফলে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ৬৮৯-এ। যা মোট পরীক্ষার্থীর ৭০%।

২০১৬ সালের এইচএসসি-তে চট্টগ্রামে প্রথম শিক্ষা বছরেই সর্বাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে শতভাগ পাসের ভিত্তিতে প্রথম স্থান এবং শতকরা জিপিএ ৫ প্রাপ্তির ভিত্তিতে ৩য় স্থান দখল করেছে কলেজটি। বিগত সালের এই চিত্র বাংলাদেশে ডিজিটাল ও আধুনিক মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তনের পথিকৃত ক্যামব্রিয়ানের।

ক্যামব্রিয়ানে রয়েছেন শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশ ও শিক্ষায় তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে বিশেষ ট্টেনিংপ্রাপ্ত মাস্টার ট্টেইনার শিক্ষকবৃন্দ। নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের প্রধান পরীক্ষক এবং সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিষয়ক মাস্টার ট্টেইনার, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে রসায়ন বিষয়ের লেখক অধ্যক্ষ লায়ন মাহবুব হাসান লিংকন।

লিংকন বলেন, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও এগিয়ে চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ান কলেজ। রসায়ন অলি¤িপয়াড- ২০১৬ এ চট্টগ্রাম বিভাগের ২৩৪টি কলেজকে পেছনে পেলে চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ানের কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তাকসির আহমেদ প্রথম স্থান অর্জন করে। এছাড়াও গত ২০১৫ সালে প্রথম আলো-কনফিডেন্স সিমেন্ট আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ান কলেজ রানার্স আপ হয়েছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকি জাতিসংঘ-২০১৬তে চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ান কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছিল।

মাহবুব হাসান লিংকন আরও বলেন, আমরা ফলাফলে বিশ্বাসী। চট্টগ্রামে শুরু থেকেই সম্মানিত অভিভাবকরা ক্যামব্রিয়ানের উপর আস্থাশীল ছিলেন। আমি সবচেয়ে বেশি খুশি এ জন্য যে, আমরা সম্মানিত অভিভাবকদের আস্থার মর্যাদা রাখতে পেরেছি। আর ক্যামব্রিয়ানের এই সাফল্যের নেপথ্যে কাজ করার বিষয়ে আমাদের সম্মানিত চেয়ারম্যান মহোদয়ের সাথে আমি সহমত পোষণ করেই বলব যে, আমাদের শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, অভিভাবকদের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব, দক্ষ ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি।

একটি বিষয় আমি উল্লেখ করব সেটি হল আমাদের সুপাভাইজরি স্টাডি প্রোগ্রাম (এসএসপি) যেটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক। শিক্ষার্থীদের কোন বিষয়ে দুর্বলতা থাকলে তা কাটিয়ে তোলার মানসে কলেজ ছুটির পর সম্মানিত শিক্ষকদের সমন্বয়ে এসএসপি পরিচালিত হয়। যা স¤পূর্ণ বিনামূল্যে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থা রেখেছি। যা ক্যামব্রিয়ানের একক বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও আমাদের রয়েছে বিশেষ ট্টেনিং প্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী। শিক্ষা ক্ষেত্রে মান উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিবছর কলেজটির ঈর্ষনীয় সাফল্যের হার পৌণপোণিকভাবেই বেড়েই চলেছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ান কলেজে এই বছরেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলছে। এই পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি-তে জিপিএ ৪.০০ এবং ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে জিপিএ ৪.০০ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। বর্তমানে বিজ্ঞান বিভাগের আসন সংখ্যা ২০০ এবং ব্যবসা শিক্ষা আসন সংখ্যা ১৫০।

উল্লেখ্য যে সকল শিক্ষার্থী কোনো কলেজে ভর্তির রেজিস্ট্রেশন করে নাই কিংবা অনলাইনে প্রত্যাশিত কলেজে আসেনি তারাও সরাসরি ক্যামব্রিয়ান কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে।

তিনি জানান, ক্যামব্রিয়ান কলেজ হালিশহর ক্যা¤পাসের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যামব্রিয়ান কলেজ চট্টগ্রাম ক্যা¤পাসে রয়েছে ৬টি সুবিশাল ও অত্যাধুনিক ডিজিটাল শ্রেণি কক্ষ। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি শ্রেণি কক্ষে বসানো হয়েছে স্মার্ট বোর্ড, এসি, সিসি ক্যামেরা। রয়েছে আধুনিক ল্যাবসমৃদ্ধ লাইব্রেরি, ল্যাপটপ-ইন্টারনেট, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে ঢাকার মতো ক্যামব্রিয়ান কলেজ চট্টগ্রাম ক্যাম্পাস  অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সাজানো হয়েছে।

বিএসবি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন এম.কে. বাশার, পিএমজেএফ চট্টগ্রামে কলেজ স্থাপনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার যে ধারা ক্যামব্রিয়ান শুরু করেছে, তা সারা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ২য় ক্যা¤পাস প্রতিষ্ঠার জন্য চট্টগ্রামকেই বেছে নেয়া হয়েছে।

তাঁর মতে, আধুনিক ও যুগোপযোগী চিন্তার মনস্কধারায় বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের এ প্রতিষ্ঠানে রয়েছে আধুনিক শিক্ষার সর্বোত্তম ব্যবস্থা।

মতামত