টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে নি:স্ব এক পরিবার

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় ফটিকছড়ির যুবক নিহত

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

চট্টগ্রাম, ১৭ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  পাঁচ সদস্যের পরিবারটির একমাত্র উপার্জনকারী আবদুল হালিম (৪৩)। পরিবারের চার সন্তানই স্কুল কলেজে পড়ছে। বড় মেয়ে ডিগ্রীতে। মেজটা এবার এইচ.এস.সি দিলো, বড় ছেলেটি সবেমাত্র দশম শ্রেনিতে, ছোটটা সবেমাত্র স্কুলে যাচ্ছে। বসতঘরটা নড়বড়ে। সহায় সম্ভল বলতে শুধু ভিটে মাটি। পরের জমিতে কামলা না দিয়ে ভাগ্যবদলের উদ্দেশ্যে ১৭ বছর পূর্বে পাড়ি দিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের ওমানে। সেখানে রং মিস্ত্রীর কাজ করতেন। একসময় এসে নিজেই ঠিকাদারী করেছেন। সন্তানদের পড়ালেখার খরচসহ যাবতীয় খরচ বহন করে কোনভাবেই সংসার চলছিল তার। হঠাৎ পাল্টে গেল চিত্র। চীরতরে পৃথিবী থেকেই হারিয়ে গেলেন নিজে। ওমানের হামিরিয়ার গালাল নামক একটি স্থানে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর দুইটার দিকে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান হারান তিনি। জানা যায়, রাস্তার ধারে হাটার সময় পেছন থেকে বেপরোয়া একটি প্রাইভেট কার তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আবদুল হালিম (৪৩) ফটিকছড়ি উপজেলার ফটিকছড়ি পৌরসভাধীন রাঙ্গামটিয়া মুহাম্মদ জামান চৌধুরী বাড়ির মৃত ইউনুছের একমাত্র পুত্র।

বুধবার সরেজমিনে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা যেন বাকরুদ্ধ। বড় মেয়ে মাহমুদা আকতার জিন্নাত বাবার এমন করুণ মৃত্যুর সংবাদ শুনে দেওয়ালে মাথা টুকে ফেটে ফেলেছেন।

আব্বু বলতেন দুবেলা ভাত খেতে পারলেই হবে, আর কিছু লাগবে না । সব উপার্জন দিয়ে তুকে ডাক্তার বানাবো। বাবার এমন স্বপ্নের কথা জানিয়ে বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন এবার ফটিকছড়ি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচ.এস.সি পরীক্ষা দেওয়া নিহতের মেজ মেয়ে ফারজানা আকতার সুমি ।

নিহতের বড় ছেলে দশম শ্রেনীতে পড়–য়া আল শাহরিয়ার রুখন আট বছরের ছোট ভাই আজবিকে শান্তনা দিতে ব্যস্ত।

নিহতের স্ত্রী আকতার বেগম বলেন, ‘মারা যাওয়ার দু‘ঘন্টা পূর্বেও পরিবারের সবার সাথে ভিডিও কল দিয়ে কথা বলেন তিনি। সামনের রমজানের দশ তারিখ বাড়ি আসার প্রস্তুতিও নিয়েছেন। এ কেমন নিয়তি। আমি এখন সন্তানদের মানুষ করবো কিভাবে ?’

নিহত অব্দুল হালিমের ভাগিনা মো. সাহেদুল ইসলাম বলেন,‘ একমাত্র উপাজর্নকারী ছিলেন আমার মামা। সন্তানদের পড়ালেখাকে গুরুত্ব দিতেন সবসময়। স্বপ্ন দেখতেন সন্তানদের মানুষ করবেন। সবকিছু এক নিমেশেই শেষ হয়ে গেল। নি:স্ব হয়ে গেল পরিবারটি।

মতামত