টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ওষুধ, নিরব প্রশাসন

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ১৬ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: মিরসরাই উপজেলার পথে-ঘাটে এখন অবাধে বিক্রি হচ্ছে নানা ধরনের যৌন উত্তেজক ঔষধ। এতে করে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এসব ঔষুধ খেয়ে ভালো হওয়া তো দুরের কথা উল্টো শরীওে দানা বাঁধছে জটিল ও কঠিন ধরনের রোগ। এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের কখনও কোম্পানীর প্রচারের জন্য, আবার কখনও বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি, কখনও কখনও ডাক্তারদের ভূয়া সার্টিফিকেট দেখিয়ে দেদারছে এসব যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রি করছে ফুটপাত কিংবা সড়কের দ্বারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বারইয়ারহাট, মিঠাছড়া বাজার, জোরারগঞ্জ, ঠাকুরদিঘী বাজার, বামনসুন্দর বাজার, আবুতোরাব বাজার, বড়তাকিয়া বাজার, হাদিফকির হাট, নিজামপুর, কমলদহ, করেরহাট, বড়-দারোগারহাটসহ উপজেলার সড়কের প্রবেশমুখে এসব ঔষধ প্রাইভেটকার ও বাজারে বসে পসরা সাজিয়ে মাইকিং করে বিক্রি করছে একশ্রেণীর সিন্ডিকেট। ‘হাইমাক্স ইউনানী ফার্মা সিউটিক্যাল’ কোম্পানীর ব্যানারে ব্যাবহার করে ‘হাব্বে নিশাত’ মুসলিম ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির ‘মুকাব্বী খাছ’ ইন্ট্রা ফার্মাসিউটিক্যালস এর ‘জিনসিন প্লাস’ ‘এনজয় পাওয়ার অয়েল’ ও নানা রকম ক্ষতিকর যৌন উত্তেজক ঔষধ তারা বিক্রি করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। সরেজমিন দেখতে গেলে প্রতিবেদককে দেখে তারা অনেক যৌন উত্তেজক ঔষধ লুকিয়ে ফেলে।

মিঠাছড়া বাজারে এসব যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রেতার কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমরা পেট বাঁচানোর জন্যই ফুটপাতে ঔষধ বিক্রি করি। ঔষধ খেয়ে মানুষ উপকার পায় বলেই এধরনের ঔষধ চলছে খুব বেশি। এছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই।’

এদিকে আবুতোরাব বাজারে বিক্রি করতে আসা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা সরকারের অনুমতি নিয়েই এসব ঔষধ বিক্রি করছি। আমাদের ডাক্তারি কাগজপত্রও আছে।’ যদিও তারা তাদের কোন রকম কাগজপত্রই দেখাতে পারেননি। বরং কাগজপত্রের বদলে শ’খানেক পর্ন দৃশ্যে ভরা ছবির একটি এ্যালবাম পাওয়া যায় তাদের কাছে। যা দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে এসব দুষ্ট চক্র।

সাংবাদিক পরিচয় দিলে স্থানীয় এক পথচারি মোঃ রাশেদুল আকাশ এগিয়ে আসেন। তিনি তাদের দ্বারা প্রতারিত শিকার হওয়ার বিষয়টি বর্জকণ্ঠে বললেন সকলের সামনে। তিনি বলেন, ‘আমাকে কয়েকটি পর্ণ ছবি দেখিয়ে আকৃষ্ট করে তারা। পরে ২ হাজার টাকার নানা ধরনের ঔষধ দেয়। এসব ঔষধের অর্ধেক খাওয়ার পরেই আমার শরীরের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে পড়ে। আমি চট্টগ্রাম এক অধ্যাপককে দেখানোর পর তিনি বললেন, আমার কিডনিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেয়ার পর তা হয়তো সেরে উঠতে পারে। আমি এখন খুব অসুস্থ।’
এমনই আরেকজন তাদের দেয়া ঔষধ সেবনকারী মোঃ ইমাম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের মন ভুলানো কথাবার্তায় ভুলে গিয়ে ১ হাজার টাকার ঔষধ কিনে খেয়েছি। ওই ঔষধ খেয়ে আমার ভাল হওয়া তো দূরের কথা, শরীর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি লজ্জায় কারো কাছে বিষয়টি জানাইনি।’

চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, এধরনের ঔষধ সেবনে মানুষের কিডনি, লিভার, হার্ট ও মুত্রনালীর ক্ষতিসহ নানা রকম জটিল সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এসব ঔষধ থেকে সকলকে দূরে থাকা পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরসরাই সদর মাতৃকা হাসপাতালের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর ডা. জামশেদ আলম বলেন, ‘ফুটপাতে বিক্রি করা ঔষুধ কিনা মোটেও ঠিক নয়। এইসব ঔষুধ সেবনে মানুষের দেহে মারাত্মক ক্ষতি করে। চিকিৎসকওে পরামর্শ ব্যতিত কোন ঔষুধ সেবন জীবনের জন্য অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসন এই সকল ফুটপাতে ঔষুধ বিক্রেতাদেও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।’

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন বলেন, সচেতন মানুষ কখনো ফুটপাতে বিক্রি করা ঔষুধ সেবন করেনা। কিছু অসচেতন ব্যক্তি ওই চক্রের পাল্লায় পড়ে এইসব ঔষুধ সেবন করে। যা তার শরীরের জন্য কত ক্ষতিকর সে জানেনা। অসাধু ফুটপাতে ঔষুধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই অভিযান চালাবেন বলে জানান তিনি।

মতামত