টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে বাসের আলাদা লেইনের সুপারিশ

চট্টগ্রাম, ১৫ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  বন্দর নগরী চট্টগ্রামে গণপরিবহনের মধ্যে বাসে সবচেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন হয় বলে বাস চলাচলের জন্য আলাদা লেইনের তাগিদ দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাস ও অযান্ত্রিক যানবাহনের জন্য আলাদা লেইন তৈরি করলে বন্দর নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে ।

রোববার চট্টগ্রামের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং বিশ্ব ব্যাংক বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের অংশীদার সংস্থাগুলোর সঙ্গে এক কর্মশালায় এ তথ্য উঠে আসে।

কর্মশালায় বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, গণপরিবহনের মধ্যে বাস সবচেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করে।একই সড়কে চলাচল করা বিভিন্ন অযান্ত্রিক যানের কারণে বাসের মতো পরিবহনগুলোর গতি অনেক ধীর হয়ে যায়। তাই উন্নত বিশ্বের মতো এখানেও বাসের জন্য সড়কে ডেডিকেটেড লেইন রাখতে হবে। আগে থেকে পরিকল্পনা করলে ফ্লাইওভারের নিচের অব্যবহৃত জায়গায় বাসের জন্য আলাদা লেইন করা সম্ভব হত বলে তিনি মনে করেন; এক্ষেত্রে চীনের উদাহরণ দেখান তিনি।

চট্টগ্রামে নির্মিত ফ্লাইওভারগুলো কোন কাজে আসছে না বলে আলোচনায় মত জানান বেসরকারি ইস্ট-ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মু. সিকান্দার খান।

অসংখ্য মালিক গ্রুপের অধীন থেকে পরিবহন ব্যবস্থাকে বের করে আনার তাগিদও দেন সামছুল হক বলেন, চট্টগ্রামের অসংখ্য পরিবহন মালিক গ্রুপের পরিবর্তে পরিবহন খাতে বড় বিনিয়োগ করে একক কোম্পানির অধীনে নিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার পরিবহনে সড়কের উপর চাপ কমাতে রেল ও জলপথে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

চট্টগ্রামের ৮৬ শতাংশ যাত্রী গণপরিবহন হিসেবে বাস ব্যবহার করেন বলে সিডিএ ও বিশ্ব ব্যাংকের করা গবেষণায় দেখা গেছে।

‘ই-জেন কনসালটেন্ট ফার্ম’ নামে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এ গবেষণাটির দায়িত্বে ছিল।

চট্টগ্রামের পরিবহন ব্যবস্থার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা করতে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ গবেষণা শুরু হয়।

তবে অন্য গণপরিবহনের ভাড়া বেশি হওয়ায় বাসে চড়া মানুষের সংখ্যা বেশি বলে গবেষকদের দাবি।

ই-জেনের পরামর্শক ডি জে ইংহাম বলেন, চট্টগ্রামে বাস ছাড়া বিকল্প গণপরিবহনের সঙ্কট নেই। কিন্তু এসব বাহনের ভাড়া বেশি হওয়ায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে লোকাল বাসে চড়েন।গবেষণার অংশ হিসেবে মাসিক গড় আয় ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা এমন দুই হাজার যাত্রীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা সড়ক পথের উপর চাপ কমাতে স্বল্প গন্তব্যের রুটে কমিউটার ট্রেন চালুর কথা বলেন। এছাড়া নদী পথের সুবিধা পুরোপুরি ব্যবহারের কথা তুলে ধরেন তারা।

অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ রেজাউল করিম, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশ্ব ব্যাংকের নগর পরিবহন বিশেষজ্ঞ শিগি সাকাকি, ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াসউদ্দিন, হাসান মুরাদ বিপ্লব, চট্টগ্রাম জেলা পরিবহন মালিক গ্রুপের অতিরিক্ত মহাসচিব গোলাম রসুল, সিডিএ’র প্রাক্তন প্রধান প্রকৌশলী জিয়া হোসেন, ক্যাব চট্টগ্রামের সভাপতি নাজের হোসেন ও পরিবহন শ্রমিক নেতা ছিদ্দিক আহমদ কর্মশালায় বক্তব্য দেন।

মতামত