টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম বন্দরে চলছে শতবর্ষী গাছের নির্মম হত্যাযজ্ঞ!

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১৪ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  হাত-পা কেটে, পেটে ছুরি চালিয়ে বা গলা কেটে মানুষ খুন করাকে নির্মম হত্যাকান্ড বলা হয়। ঠিক একই কায়দায় নির্মম হত্যাকান্ড চালানো হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের মনোহরখালী আবাসিক এলাকার শতবর্ষী গাছগুলোর ওপর। কিন্তু এ নিয়ে কারও কোন আপসোস নেই। নেই কোন দায়বদ্ধতাও।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনেকের সাথে আলাপ করেও এ বিষয়ে পাওয়া যায়নি দায়িত্বশীল কোন বক্তব্য। বরং এ বিষয়ে জানে না বলে দায়মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছেন অনেকে।

এরমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভুমি ও ভু-সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ভুমি বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার জিল্লুর রহমানকে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায় তাঁর মুঠোফোন। অথচ যেখানে গাছ কাটা হচ্ছে সে আবাসিক এলাকায় থাকেন তিনি। এমনকি তার বাসার পাশেও কাটা হচ্ছে একটি গাছ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ ১৪ মে রোববার সকাল পর্যন্ত চারটি গাছের ডালপালা এমনকি গোড়া কেটে পুরো গাছ মাটিতে ফেলে খন্ড-খন্ড করা হচ্ছে। আরও কয়েকটি গাছ কাটার প্রস্তুতি চলছে। তবে মোট কয়টি গাছ কাটা হবে এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান গাছ কাটার শ্রমিকরা।

আবদুল মাবুদ নামে এক শ্রমিক জানান, ৪০-৪২ জন শ্রমিক গাছ কাটার কাজ করছে। দলবদ্ধ হয়ে তারা একসাথে তিন-চারটি গাছ কাটছে। যখন যে গাছ কাটার জন্য বলছে তখন সে গাছ কাটা হচ্ছে। কয়টি গাছ কাটতে হবে তা তারা জানেন না।

তিনি বলেন, গাছগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই রেইনট্রি। প্রতিটি গাছের বয়স শত বছরেরও বেশি। গাছগুলো অনেক বড়। তাই কাটতেও বেশ সময় লাগছে। এসব গাছের এক একটির দাম ৫ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে বলে জানান তিনি।

গাছগুলো কেন কাটা হচ্ছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম বলেন, গাছ কাটার বিষয়েই আমি জানি না। তবে গাছ কাটার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কঠোর নীতিমালা রয়েছে। তাছাড়া পরিবেশের কথা ভেবে গাছ কাটার আগে ১০ বার ভেবে দেখা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ভু-সম্পদ রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বে রয়েছে ভুমি বিভাগ। কোন গাছ কাটতে হলে অডিট বিভাগের সাথে বসে যৌক্তিকতা নির্ধারণ করে তা মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে মুক্ত নিলামে বিক্রী করতে হয়। কিন্তু অডিট বিভাগের কেউ গাছ কাটার বিষয়ে জানে না বলে জানান।

বন্দরের চিফ অডিট অফিসার মো. রফিকুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, নিয়ম মেনেই গাছ কাটা হচ্ছে বলে তাকে জানিয়েছেন প্রকৌশল বিভাগ। একই কথা বলেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রকৌশল) কমোডোর জুলিফিকার আজিজ। তবে কি কারনে গাছ কাটা হচ্ছে তিনি তা স্পষ্ট না করে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অভিযোগ উঠেছে, বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, পরিবেশের ভারসাম্যের তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মনোহরখালি আবাসিক এলাকার শতবর্ষী এসব গাছ কেটে ফেলছে প্রকৌশল বিভাগ। আজ রোববার পর্যন্ত মোট চারটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

প্রকৌশল বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী থাকতে পারে, ঝড়-ঝাপটায় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে এমন কারণ দেখিয়ে শতবর্ষী এসব গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে একই এলাকায় কেটে ফেলা হয় আরও দুটি গাছ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনোহরখালি আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর বাংলোর দুটি এবং ৫ নম্বর বাংলোর দুটি শতবর্ষী রেইনট্রি কেটে ফেলার জন্য গোপন নিলাম ডাক হয় গত ২৩ মার্চ। দর ওঠেছে ৩ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ভ্যাটসহ তা হবে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। বন্দরের হিসাব বিভাগের এক কর্মচারী টেন্ডারের নামে পানির দরে তিনটি বিশাল গাছ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে।

মতামত