টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ড্রেনেজ-স্যুয়ারেজ মাস্টারপ্ল্যান: ঐক্যমত্যে চসিক-ওয়াসা

চট্টগ্রাম, ১১ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন কল্পে ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে এক সঙ্গে কাজ করতে অবশেষে পানি সরবারহ এবং নর্দমা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ওয়াসার সঙ্গে ঐক্যমতে পৌঁছেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

বৃহস্পতিবার (১১ মে) দুপুরে চসিক সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন। ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে দু’পক্ষের মধ্যে একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।

২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। ২০৩০ সালে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে নগরবাসীর জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী এ.কে.এম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ সিস্টেম আলাদা করা না হলে হালদা ও কর্ণফুলী নদী দূষিত হয়ে মিঠা পানি সঙ্কটে পড়বে নগরবাসী।

এ সময় ওয়াসার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলামসহ ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ওয়াসার এমডি ফজলুল্লাহ বলেন, ‘স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা আলাদা না থাকায় প্রতিদিনি টনে টনে বর্জ্য হালদা ও কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে। জোয়ার ভাঁটার নদী হওয়ায় এখনও তার প্রভাব না পড়লেও এক সময় এ দুটি নদী বুড়িগঙ্গার মত হয়ে পড়বে। সঙ্কটে পড়তে হবে মিঠা পানির এ নদী।

এদিকে জলাবদ্ধতা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হলেও নির্বাচনের পর কেউ এ নিয়ে বাস্তবসম্মত কর্মকৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। ফলে জনগণ থেকে নেয়া কর, বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার অনুদান ও স্থানীয় সরকারের বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা জল অপসারণের নামে লোপাট হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জলবায়ুর পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, অপচনশীল পলিথিন এবং খাল-নালা ভরাটে হুমকির মুখে পড়েছে বন্দরনগরী। একই সঙ্গে পলিথিনের ব্যবহার রোধ, ভরাট খাল-নালা উদ্ধারের পাশাপাশি ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করা না গেলে চট্টগ্রাম নগরীতে ১২ মাসই থাকবে জলাবদ্ধতা!

জলাবদ্ধতাকে চট্টগ্রামের এক নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা নিরসনে চায়নার সাথে ৫ হাজার কোটি টাকার মেঘা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান মেয়র আ.জ.ম নাছির। জলাবদ্ধতা নিরসনে হাতে নেয়া ৫ হাজার কোটি টাকার এ মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন মেয়র।

সিটি কর্পোরেশনের এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, মহানগরে জলাবদ্ধতার তিনটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নালা ও খাল বেদখল এবং নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার রোধে প্রশাসনিক ব্যর্থতা।

ফলে অতিবৃষ্টিতে কর্ণফুলী নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানি চাক্তাই খাল, ডোম খাল, হিজড়া খাল, নয়া মির্জা খাল, শীতল ঝর্ণা খাল, বামুননয়া হাট খাল, গুলজার খাল, বীর্জা খাল, ইছান্যা খাল, মাইট্টা খাল, লালদিয়ার চর খাল, ত্রিপূরা খাল, নাছির খাল, গয়না ছড়া খাল, কাট্টলী খাল, চশমা খাল দিয়ে নগরীতে প্রবেশ করে থাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন এ ১৭টি খাল এক শ্রেণির খালখেকোর কবলে পড়ে এখন নালায় পরিণত হয়েছে।

নগরী মানচিত্রে খাল থাকলেও বাস্তবে অনেক খালের কোনও চিহ্ন নেই! ফলে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি হয় ভয়াবহ। প্রবেশ করা জোয়ারের পানি ও বৃষ্টিপাত একাকার হয়ে যায়। এ পানি ভরাট ও বেদখল হওয়া খাল ও নালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযান চালিয়েও তাদের অপশক্তির কাছে যেন ধরাশায়ী সিটি কর্পোরেশন!

রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতায় খাল ও নালাখেকোরা সব সময়ে থাকে শাস্তির বাইরে। কখনও কখনও কর্পোরেশন উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলেই এসব নালা ও খালখেকোরা আদালত থেকে নিয়ে আসে স্থিতি আদেশ। এর সঙ্গে যোগ হয়, কর্পোরেশনের কতিপয় কর্মকর্তার ধীরে চলা আমলাতান্ত্রিক কৌশল এবং আইন কর্মকর্তাদের গাফিলতি।

মতামত