টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তত্ত্বাবধায়ক ফেরানোর অঙ্গীকার নেই খালেদার রূপকল্পে

চট্টগ্রাম, ১১ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: রাষ্ট্রপরিচালনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে ভিশন ২০৩০ তে অনেকগুলো পদক্ষেপ এবং আইনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও যে দাবিতে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছে দলটি সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নেই। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের কথা বলা আছে তার এই পরিকল্পনায়। আর বলা আছে, বর্তমান সরকারের ‘বিতর্কিত’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’ সিদ্ধান্ত পুন:পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের কথা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার না থাকলেও খালেদা জিয়া সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বাতিল হওয়া গণভোট পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। একই ভাবে বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের সুষ্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন।

বুধবার রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেত্রী রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রথমবারের মত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের আগেই ঘোষণা করে প্রথম রূপকল্প বা ভিশন ২০২১। পরে ঘোষণা করা হয় রূপকল্প ২০৪১।

খালেদা জিয়ার এই রূপকল্প আওয়ামী লীগের নকল বলে দাবি করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, বিএনপির অজ্ঞতার প্রকাশ তাদের এই রূপকল্প। কারণ, খালেদা জিয়া যেসব প্রসঙ্গ তুলেছেন তার অনেকগুলোই রূপকল্প ২০২১ অনুযায়ী এ বাস্তবায়ন হয়ে গেছে, কিছু কাজ বাস্তবায়নের পথে আছে।

খালেদা জিয়া তার রূপকল্পে দেশের উন্নয়নে বেশ কিছু কর্মসূচি নেয়া ছাড়াও সংসদীয়, বিচার প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সংস্কারের কথা বলেছেন। এর মধ্যে উঠে আসে আওয়ামী লীগ সরকারের আগের আমলে বেশ কিছু সাংবিধানিক ও আইনি সংস্কারের প্রসঙ্গ।

এর মধ্যে উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের প্রসঙ্গও আসে। এই ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে ২০১৩ সাল থেকে আন্দোলনে যায় বিএনপি এবং সহিংস বিক্ষোভে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন প্রতিহতের চেষ্টা করে। এর অংশ হিসেবে যানবাহনে পেট্রল বোমা ও অন্যান্য হামলায় প্রাণ হারায় বিপুল সংখ্যক মানুষ। নির্বাচনের পর আন্দোলন স্থগিত করলেও ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের এক বছর পূর্তিতে আবারও আন্দোলনে যায় বিএনপি। আবার শুরু হয় জ্বালাও-পোড়াও। তবে এই আন্দোলনেও খালি হাতে ফেরে বিএনপি।

দুই দফা আন্দোলনে ব্যর্থতার পর বিএনপি এখন আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলছে না। তবে তারা ‘নিরপেক্ষ’ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সহায়তার জন্য নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি জানাচ্ছে।

গত ১৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন গঠনে ১৩ দফা প্রস্তাব তোলার সময়ই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রথম নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কথা জানান। এ বিষয়ে যথা সময়ে রূপরেখা নিয়ে হাজির হওয়ার কথাও জানান তিনি। এরপর থেকে বিএনপি নেতারা এই বিষয়ে কথা বলে আসছেন।

রাষ্ট্র পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ভিশন ২০৩০ তে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর সংবিধানের পঞ্চদশ ও ষষ্ঠদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোট ব্যবস্থা বাতিল, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, সংসদ বহাল রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান প্রবর্তন, সংবিধানের কিছু বিষয় সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ এবং সংবিধানের কতিপয় ধারা-উপধারা সংশোধনের অযোগ্য করার বিধান প্রবর্তন, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্তকরণের বিধানসহ কয়েকটি অগণতান্ত্রিক বিধান প্রণয়ন করেছে।’

‘বিএনপি এসব বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক বিধানাবলী পর্যালোচনা ও পুন:পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার করবে।’

তত্ত্বাবখায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য না থাকলেও খালেদা জিয়া এরপর পর সুনির্দিষ্টভাবেই বলেন, ‘বিএনপি সংবিধানে গণ-ভোট ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃস্থাপন করবে।’

এ ছাড়াও ন্যায়পাল ব্যবস্থা কার্যকর, বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিল, বিচারপতি নিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মানদ- সম্বলিত আইন প্রণয়ন করে বাছাই কমিটি ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। নিয়োগের জন্য বাছাইকৃত/সুপারিশকৃত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য ও সম্পদ বিবরণী জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা, অধঃস্তন আদালতকে নির্বাহী বিভাগের আওতামুক্ত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় স্থাপন, প্রবীণদের জন্য পেনশন ফান্ড গঠন, ২০৩০ সালের মধ্যে মফস্বলে ফোর জি চালুসহ দুই শতাধিক সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতির কথা বলা আছে খালেদার ভিশন ২০৩০ তে।

বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনের বিষয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর সুষ্পষ্ট ঘোষণা খালেদা জিয়ার দেয়া রূপকল্পে নেই কেন- জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ভিশন-২০৩০ এর রূপরেখায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয় স্পষ্ট বক্তব্য নেই। তারমানে বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে আগের অবস্থা থেকে সরে আসছে বিষয়টি তেমন না। আমাদের দাবি স্পষ্ট নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই, দিতে হবে।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ভিশন-২০৩০ এবং তত্ত্বাবধায়ক বা সহায়ক সরকার ভিন্ন বিষয়। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চাই, দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, প্রশাসনসহ সব ক্ষেত্রের উন্নয়নে কি কি কাজ করতে চাই সেই পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। আর সহায়ক সরকারের বিষয় যখন আসবে তখন ওই ব্যবস্থার জন্য আলাদা করে প্রস্তাব তুলে ধরা হবে।’- ঢাকাটাইমস

মতামত