টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সেলিম-জাকারিয়াকে গ্রেফতার করলে খুনের রহস্য বের হবে: নিহতের স্ত্রী

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

চট্টগ্রাম, ১০ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: ফটিকছড়িতে অপহরণ হওয়ার দু‘দিন পর যুবলীগ নেতা এনামের (৩৫) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত দু‘টার দিকে নিহতের মা হালিমা বেগম অজ্ঞাত আসামী করে ফটিকছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ঘটনার রহস্যও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তবে, সরেজমিনে নিহতের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী শাহানা আকতার জিন্নাত এ প্রতিবেদকের কাছে দাবী করে বলেন,‘ আমার স্বামী আমাকে প্রায় বলতেন, তার একমাত্র শত্রু হচ্ছে একেএম সেলিম উদ্দিন ও জাকারিয়া জিকু। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, প্রশাসন তাদের গ্রেফতার করলে এ হত্যাকান্ডের রহস্য বের হবে।’

জানা যায়, একেএম সেলিম ইউনিয়ন আ.লীগের সদস্য। তিনি গত ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নে উপ-নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করে হেরে যান। অপরদিকে জাকারিয়া জিকুও আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িতি। তিনি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিমের পক্ষে কাজ করেছিলেন।’ নিহত এনাম নির্বাচনে তাদের বিরোধী অবস্থানে ছিলেন।

এ ব্যাপারে একেএম সেলিম উদ্দিন মঠোফোনে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমার জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। এনাম আমার বিপক্ষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও নির্বাচনের পর আমার সাথে সুসম্পর্ক ছিল। আমি তার এমন নির্মম হত্যাকান্ডে খুবই মর্মাহত। প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার দাবী জানাই’।

অপরদিকে জাকারিয়া জিকুর ব্যবহৃত মঠোফোনটি বন্ধ থাকায় এ ব্যাপারে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আজ (বুধবার) সন্ধ্যায় এনামের জানাজা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শুরু হওয়ার প্রায় দশ মিনিট পূর্বে জানাজাস্থলে যাওয়ার পথে জাকারিয়াকে মারধর করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য হোসেনসহ এনামের আরো কয়েকজন বন্ধু। এ সময় উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী তাকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

জানাজা পূর্ব বক্তব্যে উপস্থিত আ.লীগ নেতারা এ হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেন। তারা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার করার দাবী জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আ.লীগের সদস্য মোহাম্মদ শাহজান, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী, উপজেলা আ.লীগ নেতা এইচ.এম আবু তৈয়ব, আবদুল্লাহপুর চেয়ারম্যান অহিদুল আলম প্রমুখ।

এদিকে সরেজমিনে নিহতের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, স্বজনরা কান্নায় বুক ভাসাচ্ছেন। মাত্র আট মাস পূর্বে বিয়ে করেন এনাম। চার ভাই চার বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। বাবা মারা গেছেন আট বছর পূর্বে। এনাম টুকটাক বালুর ব্যবসা করে কেতান রকমে সংসার চালাতেন।

নিহত এনামের মা হালিমা আকতার বলেন, আমার ছেলে কোন লাখপতি নয় যে তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবী করবে? আমার ছেলে ছোটকাল থেকে রাজনীতি করতো। সে রাজনীতি বলি হয়েছে। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবু ইউছুফ মিয়া বলেন, ‘লাশের অবস্থা দেখে বুঝা যায়, তিনি যেদিন নিখোঁজ হন; সেদিনই তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে যা মুক্তিপণ দাবী করেছিল তা ছিল ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা। আমাদের টিম কাজ করছে, শীঘ্রই ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় সনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে।’

উলে­খ্য, গত রোববার বিকালে আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. এনাম বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। ঘটনার দিন রাত বারোটা পর্যন্ত তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিকে কল গেলেও কেউ রিসিভ করেননি। পরের দিন সন্ধ্যার দিকে ওই নাম্বার থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি এনামের স্ত্রীর কাছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মুক্তিপণ দাবী করে। মুক্তিপণ না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। নিখোঁজের দু‘দিন পর পাশ্ববর্তি জাফতনগর ইউনিয়নের তেলপারই খালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দি তার লাশ দেখতে পান পথচারীরা।

মতামত