টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে কলেজে ভর্তিবানিজ্য বন্ধে ছাত্রলীগের ৬ অভিযোগ বাক্স

চট্টগ্রাম, ১০ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: একাদশ শ্রেনীতে ভর্তিবানিজ্য বন্ধে চট্টগ্রাম মহানগর বিভিন্ন এলাকার ৬টি পয়েন্টে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করার ঘোষনা দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ।

বর্তমান সরকারের ঐতিহাসিক জাতীয় শিক্ষানীতি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্টানে কার্যকর করার ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর আজ বুধবার নগরীর প্রেস ক্লাব চত্বরে বেলা সাড়ে ১২ ঘটিকায় “কলেজ ভর্তি দূর্নীতি” রুখে দিতে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে নগরীর ৬টি গুরুত্বপূর্ন এলাকায় “অভিযোগ বাক্স” স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষনা করেন।

নগরীর প্রেসক্লাবে বাতিঘর বইয়ের দোকান, চকবাজার মোড়ের মতি টাওয়ার, নগরীর জিইসি মোড়ের সানমার ওশ্যান সিটি, নগরীর আগ্রাবাদের হোটেল জামান, নগরীর নিউ মার্কেট মোড়ের ফুলকলি মিষ্টির দোকান ও বহদ্দারহাট মোড়ের ওয়েলফুডের শোরুমে নগর ছাত্রলীগের এই ৬টি অভিযোগ বাক্স সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে জানিয়ে সমাবেশে বক্তারা বলেন, “এ বছরের শুরুতে স্কুল ভর্তি অনিয়ম ঠেকাতে দীর্ঘ তিন মাস আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর একই পন্থায় কাজ করেছি।

এ সময় স্কুল ভর্তি বানিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে সরকার বর্তমানে চট্টগ্রামের ৬টি স্কুল বন্ধ করার যে ঘোষনা দিয়েছে তা যেমনি সাধুবাদ পেয়েছে ঠিক তেমনি শিক্ষা বানিজ্য প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীক শাস্তির বিষয়টি পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান পরিচালনাতে সম্পৃক্তদের কিভাবে শাস্তির আওতায় আনা যায় তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেন বক্তারা।

সমাবেশে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, আমরা ৬টি অভিযোগ বাক্সের মাধ্যমে অভিভাবকদের কলেজ ভর্তি বানিজ্য প্রতিরোধে সম্পৃক্ত করছি।আমরা মনে করি শেখ হাসিনার শিক্ষাবান্ধব সরকার শিক্ষা প্রশাসনের ঘুণে ধরা অব্যবস্থাপনায় আজ ঝাঁকুনি দিয়েছে।আর ঠিক এই সময় শিক্ষা বানিজ্য রুখতে ছাত্র শিক্ষক অভিভাবকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা চট্টগ্রামের সকল কলেজের ভর্তি কার্যক্রমকে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা নজরদারীর আওতায় নিয়ে আসব। ভর্তি কার্যক্রমের আবেদন পত্র শতভাগ অনলাইনে হতে হবে।কলেজ ভর্তিতে অনলাইনে আবেদন করার পূর্বে ভর্তিচ্ছুদের অনুরোধ করব আপনার পছন্দের কলেজটি অনুমোদন বা স্বীকৃতি প্রাপ্ত কিনা তা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে যাচাই করুন।  কলেজ ভর্তিতে যে কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে কিংবা চট্টগ্রাম মহানগরে সরকার নির্ধারিত ৩০০০ টাকার অতিরিক্ত কোন কলেজ ভর্তি ফি সংগ্রহ করলে তা অভিযোগ আকারে আমাদের কাছে লিখে জমা দিন।আমরা অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

সমাবেশে সংগঠনের সাধারন সম্পাদক নূরুল আজিম রনি বলেন, চট্টগ্রামের কোন কলেজ একাদশ শ্রেনীতে ভর্তির জন্য উন্নয়ন ফি নিতে পারবেনা।সর্বসাকূল্যে ৩০০০ টাকার উদ্ধে ভর্তি ফি সংগ্রহ করলে আমাদের জানাবেন।অনলাইনে ভর্তি ফর্ম পূরনে সময় নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে কলেজগুলো আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারে।এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন।

তিনি আরো বলেন, এমপিওভূক্ত স্কুল সমূহের অনেকগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব, সরকারের বেতন ভুক্ত শিক্ষকদের নিশ্চয়তার বিজ্ঞাপন সাটিয়ে আপনাদের মস্তিস্কে কলেজের প্রতি একটা কৃত্রিম আগ্রহ তৈরীর চেষ্টা করতে পারে যা পরবর্তীতে নানা খাতে টাকা সংগ্রহের মাধ্যম ও শিক্ষা বানিজ্য বলে বিবেচিত হবে।তাই বলছি সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক কলেজ ভর্তিতে ৩০০০ টাকার অতিরিক্ত একটা টাকাও আপনারা ভর্তি ফি হিসাবে প্রদান করবেন না।আপনাদের সকল অভিযোগ ছাত্রলীগের অভিযোগ বাক্সে জমা দিন।

এসময় নগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ওমরগণি এম.ই.এস কলেজ, ইসলামিয়া কলেজ, মিউনিসিপ্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অবকাঠামোগত দিক বিবেচনা করে সরকারীকরনের দাবী জানান।

মতামত