টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

স্বপ্ন পূরণের সুতিকাগার সাউথ এশিয়ান কলেজ

চট্টগ্রাম, ০৯ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  এসএসসি পাশের পর শুরু হয় একজন শিক্ষার্থীর জীবন গড়া। তেমনি চোখে মুখে স্বপ্ন নিয়ে একসময় চট্টগ্রাম নগরীর সাউথ এশিয়ান কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন আফরোজা জান্নাত কোহেলী। তিনি এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

তিনি বলেন, সেদিন আমার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হব। এখন আমি ডাক্তার হওয়ার পথে হলেও মাঝে-মধ্যে ভাবি সাউথ এশিয়ান কলেজে ভর্তি না হলে সত্যিই আমি কি ডাক্তার হতে পারতাম ?

পড়ালেখার মাঝে আমার পরিবারে যে আর্থিক দৈন্যদশা শুরু হয়েছিল তাতে ডাক্তার হওয়া তো দূরের কথা; শতভাগ বৃত্তি প্রদান ও বিনামূল্যে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করার সুযোগ না পেলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পর্যন্ত আমার পক্ষে সম্ভব হতো না।

আফরোজা জান্নাত কোহেলীর মতো আরও অনেক শিক্ষার্থী সাউথ এশিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে উচ্চশিক্ষা অর্জন করছে দেশ ও বিদেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। যারা নিদ্বিধায় স্বীকার করে বলেছেন, সাউথ এশিয়ান শুধু কলেজ না, স্বপ্ন পুরণের সুতিকাগারও।

কেন এমন মন্তব্য জানতে চাইলে সাউথ এশিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডন এপ্লাস পাওয়া শিক্ষার্থী সাদমান বলেন, সাউথ এশিয়ান কলেজ স্বপ্ন পুরণের সুতিকাগার এ জন্যই যে, এ কলেজের শ্রেণীশিক্ষা পাঠদান শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই সহায়ক।

কলেজের পাঠদান যেমন সাবলিল, তেমনি ডিজিটাল পদ্ধতিতে একই ক্লাস বার বার দেখার কারণে তা সহজেই শেখা সম্ভব। এ কারণে কলেজের কোন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট বা কোচিং পড়তে হয় না। এমনকি পাঠদানের পরিবেশও খুবই আকর্ষণীয়।

গোল্ডেন এপ্লাস পাওয়া শিক্ষার্থী মাহবুব মাওলা বলেন, সাউথ এশিয়ান কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনের চেয়েও ঢের বেশি সময় দেন শিক্ষকরা। শিক্ষকদের পাঠদানের কৌশলও চমৎকার। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্কের মাঝেই চলে শিক্ষা। এতে শেখার দিকে ঝুঁকে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

তাহমিনা আরও বলেন, এ কলেজে প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে একজন শিক্ষক। এদের মধ্যেও কেউ যদি একটু পিছিয়ে পড়ে তাহলে তার জন্য এক্সটা কেয়ার নেন শিক্ষকরা। ফলে কলেজের সকল শিক্ষার্থী সমান ও সমষ্টিগতভাবে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়ে উঠে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কলেজের প্রকল্প পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন সিটিজি টাইমসকে বলেন, বিগত সময়ে সাউথ এশিয়ান কলেজের এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৯২ শতাংশের ওপরে। তাছাড়া কলেজের শিক্ষার গুণগত মানের কারনে শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষায় দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ও নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছে। এ কলেজের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এইচএসসি পাশের পর দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা বিদ্যায় পড়াশুনা করছে।

সাউথ এশিয়ান কলেজে পড়ার সুবিধাসমূহ :

শিক্ষা ক্ষেত্রে সাউথ এশিয়ান কলেজ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। এ কলেজে রয়েছে ২৪টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ। পাঠদান সম্পূর্ণ প্রযুক্তি নির্ভর। রয়েছে টাচস্ক্রীন স্মার্টবোর্ড। ফলে শ্রেণিশিক্ষা প্রদানে সময় অপচয় হয় না। শিক্ষার্থীর চাহিদা আনুযায়ী একাধিক বার পাঠদান সম্ভব হয়।

এছাড়া পুরো কলেজ শক্তিশালী ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত হওয়ায় যখন যেভাবে চাই বাড়তি কোন খরচ ছাড়াই যে কোন অবস্থায় শ্রেণিশিক্ষা গ্রহণ করতে পারে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া কলেজের পাঠদান ও শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও তাদেও অভিবাকদের নিয়মিত এসএমএসে অবহিত করা হয়। ফলে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে কোনরকম বেগ পেতে হয় না।

আর এসব সুবিধা ভোগের উপকরণ হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় ল্যাপটপ বা ট্যাব। যা ব্যবহার করে ঘরে বসে বা হরতাল, ধর্মঘট এমনকি যে কোন দুর্যোগেও কলেজে না এসে শ্রেণিশিক্ষা এমনকি অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যা কেবল সাউথ এশিয়ান কলেজেই রয়েছে।

ভর্তিতে নেই কোন ঘানি :

সাউথ এশিয়ান কলেজে ভর্তিতে কোন ঘানি নেই। নূন্যতম ফিতে ভর্তি হওয়া যায় এ কলেজে। মাসিক বেতনও খুব কম। ফলে এটি একটি সম্পূর্ণ অলাভজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ ও ড্রেস প্রদান করা হয়ে থাকে। এ জন্য বাড়তি কোন ফি দিতে হয় না।

চিটাগাং রিড ফাইন্ডেশন নামক একটি অলাভজনক সংস্থার অর্থায়নে এসব সুবিধা প্রদান সম্ভব হচ্ছে বলে জানান কলেজের প্রকল্প পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।

সাউথ এশিয়ান কলেজ, চট্টগ্রামের পরিচালক ও চবির ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুর বলেন, সাউথ এশিয়ান কলেজ চট্টগ্রাম প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল কলেজ। এ কলেজেই রয়েছে পাঠ্যবইয়ের ডিজিটাল ভার্সন। যার বৈচিত্রতা অনন্য। ফলে এখানে শিক্ষার্থীরা লিখবে পড়বে আনন্দের সাথে। গড়ে উঠবে যোগ্য, দক্ষ ও আদর্শিক মানুষ হিসেবে।

মতামত