টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অবশেষে চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম জাতিসংঘ পার্কের সুইমিং পুল

চট্টগ্রাম, ০৯ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: দুই বছর আগে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া চট্টগ্রাম জাতিসংঘ পার্কের সুইমিং পুলটি অবশেষে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করত যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এর অংশ হিসেবে গত শনিবার এই সুইমিং পুলেই আয়োজন করা হয়েছিল চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাঁতার প্রতিযোগিতা। খুব শীঘ্রই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সুইমিং পুলটি পুরোদমে নগরবাসীর জন্য চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘ পার্কের একটি অংশে সুইমিং পুল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন মেয়র এম মনজুর আলম। ২০১৫ সালে সুইমিং পুলটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। পরবর্তীতে মেয়র হিসেবে আ.জ.ম নাছির নির্বাচিত হওয়ার পর সুইমিং পুলটির বিভিন্ন নির্মাণ ত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি এ সুইমিং পুল এবং জাতিসংঘ পার্ককে ঘিরে বাণিজ্যিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। ওই সময় ২৫ বছরের ইজারা দেয়ার জন্য টেন্ডারও আহ্বান করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ২৯ জুন বিচারপতি এমদাদুল হক ও বিচারপতি জাফর আহমদ পার্কটির ২৫ বছরের ইজারা প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ দেন। সেই থেকে সুইমিং পুলটি ব্যবহার করা হয়নি। সর্বশেষ নতুন করে সুইমিং পুলটি চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মেয়র আ.জ.ম নাছির বলেন, ‘কোনো জিনিস ফেলে না রেখে ব্যবহার করাই ভালো। যদিও সুইমিং পুলটির গভীরতা বেশি, এক্ষেত্রে পানি কমিয়ে প্র্যাক্টিস উপযোগী করার চিন্তা করছি। কেউ সাঁতার শিখতে চাইলে শিখতে পারবে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এক্সপার্টের পরামর্শ নিয়ে যা করার করবো। এখানে জিমনেশিয়ামও আছে। সেটাকেও কিভাবে ব্যবহার করা যায় সেটির ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সুইমিং পুলটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনকালে তৎকালীন মেয়র এম মনজুর আলম বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীতে বিনোদন পার্কের সংকটের পাশাপাশি কিশোরদের সাঁতার শেখার কোনো সুযোগ নেই। তাই নগরবাসীর বিনোদন, শরীর চর্চা বা ব্যায়াম এবং কিশোরসহ সবার সাঁতার শেখার জনদাবি ও গুরুত্বকে অনুধাবন করে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

এদিকে চসিক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘ পার্কের একটি অংশে তিন কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একই ছাদের নিচে পাশাপাশি ২টি সুইমিং পুল এবং একটি জিমনেশিয়াম নির্মাণ করা হয়। ১২০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৫০ ফুট প্রস্থের সুইমিং পুলগুলোর একটি পুরুষদের এবং অন্যটি মহিলাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। জিমনেশিয়ামটিও ৭ হাজার বর্গফুটের।

জানা গেছে, ২০০২ সালে চসিক জাতিসংঘ পার্ক নামকরণ করে। শিশু কিশোরসহ বিনোদনপ্রেমী মানুষের কাছে এ পার্কটি সে সময় দর্শনীয় স্থান হিসাবে মন জয় করে নেয়। কিন্তু দিনে দিনে পার্কটির প্রতি অবহেলা আর অযত্নের চাপ পড়তে থাকে। এতে পার্কটি জৌলুস হারায়। এটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পৌঁছে যায়। ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে পার্কের পুকুরটিও। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম পার্কটিকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তখন বলা হয়েছিল, সুইমিং পুল নির্মাণের পাশাপশি পার্কটির উন্মুক্ত অংশটিও সাজানো হবে। গড়ে তোলা হবে নান্দনিক বিনোদন পার্ক। কিন্তু ২০১২ সালে প্রকল্প গ্রহণের ৪ বছর পরেও পার্কটি এখনো যেন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। জৌলুস হারিয়ে যেন বার্ধক্যে পৌঁছেছে।

মতামত