টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে একাদশে ভর্তি: আজ থেকে আবেদন শুরু

চট্টগ্রাম, ০৯ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: আজ ৯ মে থেকে শুরু হচ্ছে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া।

এ প্রক্রিয়ায় ওয়েবসাইট ও ফোনের এসএমএস-এর মাধ্যমে ২৬ মে পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। তবে পুনঃনিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা ৩০ ও ৩১ মে দুই দিন আবেদনের সুযোগ পাবে।

অবশ্য, পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদনকারীদেরও ২৬ মে’র মধ্যে আবেদন করতে হবে।

এবারও এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে শতভাগ কলেজেই অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্নের বিধান রেখে গত রোববার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট (www.xiclassadmission.gov.bd)এর মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে ভর্তিচ্ছুদের। আর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইন প্রক্রিয়ার বাইরে ম্যানুয়াল বা নিজেদের ইচ্ছে মতো অন্য কোন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না বলে নীতিমালায় উলেখ করা হয়েছে।

আবেদনের প্রক্রিয়া : গতবারের মতোই আবেদনের ক্ষেত্রে টেলিটকের মাধ্যমে আগে ফি জমা দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ১৫০ টাকা এবং মোবাইল ফোনে এসএমএস এর মাধ্যমে প্রতি আবেদনে ১২০ টাকা ফি দিতে হবে। ফি জমা হলে একটি ট্রানজেকশন আইডি দেয়া হবে। ওই ট্রানজেকশন আইডি দিয়েই পরবর্তীতে (www.xiclassadmission.gov.bd) এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এসময় ওয়েবসাইটে আবেদনকারীর রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের পাশাপাশি আবেদনকারীর জন্ম তারিখও দিতে হবে।

একজনের আবেদন যাতে অন্য কেউ করে দিতে না পারে, সে জন্যই এই নিয়ম করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক সুমন বড়ুয়া।

সর্বোচ্চ আবেদন ও মনোনয়ন : গতবারের মতো এবারও সর্বোচ্চ দশটি কলেজে আবেদনের সুযোগ থাকছে ভর্তিচ্ছুদের। অর্থাৎ অনলাইনে হোক আর মোবাইল ফোনের এসএমএস’র মাধ্যমে হোক সর্বোচ্চ দশটি কলেজেই আবেদন করা যাবে। এর বেশি সংখ্যক কলেজ পছন্দের সুযোগ থাকছে না।

ভর্তিচ্ছু চাইলে অনলাইনে একবার আবেদনের মাধ্যমে (পছন্দক্রম অনুযায়ী) একই সাথে দশটি কলেজে আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে ফিও দিতে হবে একবার (১৫০ টাকা)। কিন্তু অনলাইনের পরিবর্তে মোবাইল ফোনের এসএমএস’র মাধ্যমে করতে গেলে দশটি কলেজের জন্য দশবার আবেদন করতে হবে। এতে ফিও দিতে হবে দশবার (প্রতি কলেজের জন্য ১২০ টাকা)।

তাই আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অনলাইনকেই (ওয়েবসাইটের মাধ্যমে) বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক সুমন বড়ুয়া। এদিকে, গতবার একজন শিক্ষার্থীকে যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে আবেদন করা প্রতিটি কলেজেই ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। তবে এবার মনোনীত করা হবে একটি মাত্র কলেজে। আর মনোনীত ওই কলেজেই ভর্তি হতে হবে সংশিষ্ট শিক্ষার্থীকে।

মেধা তালিকা প্রকাশ ও ভর্তি : নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়া শেষে কলেজ ভর্তির প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে ৫ জুন। ১ম মেধা তালিকায় মনোনীতদের নিশ্চায়ন করতে হবে ৬ থেকে ৮ জুন।

১ম দফায় মনোনীতদের নিশ্চায়নের পর ২য় পর্যায়ে মাইগ্রেশনের আবেদন ও নতুন আবেদন করতে পারবে সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীরা। ৯ ও ১০ জুন তারা এ সুযোগ পাবে। ১৩ জুন প্রকাশ করা হবে ২য় মেধা তালিকা।

১৪ ও ১৫ জুনের মধ্যে ২য় মেধা তালিকায় মনোনীতদের নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হবে। ২য় তালিকায় মনোনীতদের নিশ্চায়নের পর ৩য় পর্যায়ে আবেদনের সুযোগ থাকছে ১৬ ও ১৭ জুন।

১৮ জুন সর্বশেষ বা ৩য় মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৩য় তালিকায় মনোনীতদের নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হবে ১৯ জুনের মধ্যে। আর ২০ থেকে ২২ জুন প্রথম দফায় এবং ২৮ থেকে ২৯ জুন দ্বিতীয় দফায় ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করবে কলেজগুলো। ভর্তি কার্যক্রম শেষে ক্লাস শুাং হবে ১ জুলাই।

ভর্তি ফি : কলেজ ভর্তিতে এলাকা ভিত্তিক ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে নীতিমালায়। নীতিমালা অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরের কলেজগুলো ভর্তির ক্ষেত্রে সেশন চার্জসহ তিন হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না। আর এই তিন হাজার টাকার বাইরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোন টাকাও নেয়া যাবে না। এমনকি উন্নয়ন ফি’র নামেও কোন টাকা আদায় করা যাবে না।

নীতিমালার ৫.০ অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ ৫.৫.১ অনুযায়ী- কলেজ ভর্তিতে সেশনচার্জসহ ভর্তি ফি বাবদ সর্বসাকুল্যে মফস্বল বা পৌর (উপজেলা) এলাকায় ১ হাজার টাকা, পৌর /জেলা সদর এলাকায় ২ হাজার টাকা ও ঢাকা ব্যতীত অন্যান্য মেট্ট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকার বেশি নেয়া যাবে না। একই অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ-৫.৫.২ অনুযায়ী- ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকার অতিরিক্ত আদায় করতে পারবে না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত আংশিক এমপিওভুক্ত বা এমপিও বহির্ভূত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং এমপিও বর্হিভূত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য শিক্ষার্থী ভর্তির সময় ভর্তি ফি, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফিসহ বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করতে পারবে। উন্নয়ন খাতে কোন প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না। অবশ্য, এ অনুচ্ছেদটি শুধুই ঢাকা মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য।

অনুমতি বা স্বীকৃতিবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিষিদ্ধ : নীতিমালায় অনুমতি বা স্বীকৃতিবিহীন কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি নিষিদ্ধ করেছে মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় এ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ৮ এর উপ-অনুচ্ছেদ ৮.১ ও ৮.২ এ বলা হয়েছে- পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি বিহীন কোন কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে কোন অবস্থাতেই ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা যাবে না।

একই ভাবে পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতিপ্রাপ্ত বা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোন কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত শাখা এবং অননুমোদিত কোন বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা যাবে না। সকল শিক্ষাবোর্ডকে এ সংক্রান্ত সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে নীতিমালায়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম  বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আমরা ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। পত্রিকায়ও দিয়েছি। বোর্ড অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে। ভর্তি হওয়ার আগে সংশিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন আছে কিনা তা ওয়েবসাইট থেকে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আমরা আহ্বান জানিয়েছি বিজ্ঞপ্তিতে।

মতামত