টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এরশাদের নতুন সমীকরণ

চট্টগ্রাম, ০৭ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন জোটের ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণের চেষ্টা করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এটাকে আবার রাজনৈতিক কূট-কৌশল হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ। রাজনীতিতে আলোচনায় থাকতে এবং নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতেই এমন কৌশল অবলম্বন করেছেন সাবেক এই স্বৈরশাসক-এমন অভিযোগ আছে জোট এবং খোদ নিজ দলের মধ্যেই। যদিও এই নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে নারাজ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং রাজনীতিবিদরা বলেছে, নির্বাচনকে সমানে রেখে এটা এরশাদের নতুন কৌশল হতে পারে। নিজেকে আলোচনায় রাখতেই হয়ত এমনটা করছেন। যেভাবেই হোক মহাজোটের সঙ্গে থেকে জাতীয় পার্টি, বিরোধীদল ও মন্ত্রিসভা আছে। প্রধানমন্ত্রীর দুত হিসেবে এরশাদ নিজে আছেন। এখনও সরকারের সহযোগিতায় টিকে আছে জাতীয় পার্টি। আগামী দিনে সুবিধা নিশ্চিত করতে যে কোনো কৌশল থাকতে পারে এটা অবশ্য দোষের কিছু নেই বলেও মত দিয়েছেন কেউ কেউ।

জোটের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা পর্যবেক্ষণ করব। তারপর বুঝে শুনে আগাবো। কারণ উনি (এরশাদ) সকালে বলে এক কথা বিকেলে বলে আরেকটা। তাই উনি যদি আবার আমাদের ফেলে মহাজোটে চলে যান তাহলে আমাদের অবস্থা কী হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে দেখার বিষয়, আমাদের দিয়ে তিনি মহাজোটের সঙ্গে দরকষাকষির জন্য একটা ক্ষেত্র তৈরি করছেন কি-না। নাকি আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির জন্য আওয়ামী লীগের কাছে থেকে আসন বাগিয়ে নেওয়ার সুবিধাজনক জায়গা তৈরি করছেন।’

রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এরশাদ জোটে স্বাধীনতার চেতনা, ইসলামি মূল্যবোধ তথা সকল ধর্মের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আদর্শের অনুসারী এবং ধারক ও বাহক অঙ্গীকার নিয়ে সম্মিলিত জাতীয় জোট নামে নতুন প্লাটফর্মের ঘোষণা দেন।

এরশাদের নতুন জোট গঠন নিয়ে জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মিজানুর রহমান শেলী বলেন, ‘জোটবদ্ধ হওয়াটা বাংলাদেশে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য বলা যায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেও জোটবদ্ধ রাজনীতি ছিল। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আছে। এরশাদ নতুন জোট করেছে এখানে আশ্চার্য হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু এরশাদ সাবেক রাষ্টপতি।’

‘এখানে প্রশ্ন হলো খণ্ড-বিখণ্ডিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিয়ে রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন সেটাই বড় কথা। এটা নিয়ে সন্দেহ থাকবেই,’ যোগ করেন।

শেলী বলেন, ‘আসলে এরশাদকে নিজ দল সংগঠিত করেই আগাতে হবে হয়তোবা এই দলগুলো মানসিক শক্তি জোগাতে পারে। কিন্ত বাস্তবে কি ফল হবে। তা সকলেই অনুমান করতে পারে।’

বিরোধীদল ও মন্ত্রী সভায় থেকে জাতীয় পার্টি সুবিধা পেয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে যেভাবে জাতীয় পার্টি সহযোগিতা পেয়ে আসছে, আগামী দিতে সহযোগিতা পেলে আশচায় হওয়ার কিছু নেই। আগা, কিছু বলার কিছু নেই। হতেও পারে এটা আরেকটি রাজনৈতিক কূটচাল।’
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল আমীন ব্যাপারী বলেন, ‘আসলে এরশাদের জোট নিয়ে কি মন্তব্য করব। কারণ তিনি সকালে কি আবার বিকালে কি বলে তা নিজেই জানেন না।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতির এরশাদের জোট কোনো গুরুত্ব বহন করবে না। যদি ভালো কোনো দল তার জোটে নিতে পরতেন তাহলে কোনো ফলাফল আশা করা যেত।’

সম্মিলিত জোট নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জোট শরিক বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ) চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি  বলেন, ‘নানা ধরনের কথা বলতে পারে। কিন্তু আমরা চাচ্ছি জোটের মাধ্যমে রাজনৈতিতে নতুন সমীকরণ। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে।’

তিনি বলেন, ‘এরশাদ সরকারের আমলে দেশে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে আবার আমরা উনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি–আওয়ামী জোটে অনেক দল আছে যাদের নাম খুঁজে পাওয়া যায় না। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

এরশাদের জোট গঠন প্রসঙ্গে ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘এরশাদ ডিগবাজি লোক, এরশাদ সবসময় ডিগবাজি দেয়। এটা তো নতুন কিছু নয়।’

তিনি বলেন, ‘ডিগবাজি, স্ট্যান্ডবাজি এরশাদ সাহেবের কাজ। এ নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।’

এদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নতুন জোট প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘অযথা বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা করবেন না। বিএনপি যদি কোথাও না থাকে তাহলে সকল কর্মকাণ্ডে এত বিএনপি ভীতি কেন? এদিকে আজকে তথাকথিত বিরোধী দল ৫৯টি দল নিয়ে একটি নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। অথচ তারা নিজেরাই কি না, এখনও মহাজোট সরকারের শরীক হিসেবে রয়েছেন। তাছাড়া জোটকৃত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র দুইটা দলের নিবন্ধন রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে দুটি নিবন্ধিত দল ও দুটি জোট নিয়ে চারটি শরিক দল ঘোষণা করছি আমরা। আমাদের নীতি ও আদর্শের সাথে যারা একমত পোষণ করবে তাদের জন্যও আমাদের এ জোটের দরজা খোলা থাকবে। তবে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী দলকে আমাদের জোটে নেওয়া হবে না।’

জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ) এবং জাতীয় ইসলামী মহাজোটের সমন্বয়ে এ জোট গঠিত হয়। এ জোটের মধ্যে ৫৯টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী মহাজোটের সঙ্গে ৩৪টি দল এবং বাংলাদেশে জাতীয় জোটের সঙ্গে রয়েছে ২২টি দল রয়েছে বলে  জানান এরশাদের পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায়। তিনি বলেন, ‘আরও দল এ জোটে আসবে। আমরা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানিয়ে দেব।’ -পরিবর্তন

মতামত