টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে আইসক্রিমের সাথে শিশুরা খাচ্ছে বিষাক্ত কাঠি

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম


চট্টগ্রাম, ০৭ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: বিষাক্ত রং-ঘনচিনিসহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী আইসক্রিম জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে এটা কারও অজানা নয়। তবুও না বুঝে দোকান ও রাস্তা থেকে আইসক্রিম কিনে খাচ্ছে অবুঝ শিশুরা।

বাবারাও শিশুকে কিনে দেন আইসক্রিম। তবে এ জিনিষটি বেশি খাওয়ায় অসচেতন মায়েরা। এবার অসচেতন নয়, সচেতন মা-বাবারাও এই আইসক্রিমের সাথে আরও একটি মারাত্মক বিষ শিশুদের খাওয়ানোর কথা জানেন না। সেটা হচ্ছে আইসক্রিম ধরার কাঠি।

এ কাঠিটি আইসক্রিমের সাথে শিশুরা জিহŸা দিয়ে চেঁটে খেতে দেখা যায়। আইসক্রিম শেষ হওয়ার পরও চিনির মিষ্টন্নতা যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ চুষতে থাকে কাঠিটি। কিন্তু শিশুরা তো দুরের কথা সচেতন অভিবাবক মহলের অনেকে জানে না, এতে মারাত্মক বিষ রয়েছে।

এই কথাটি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বন গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, বনের ভেতর প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা পিটুলিগাছের কাঠি দিয়ে এক সময় আইসক্রিম তৈরী করা হতো। এই গাছ ভুমিক্ষয় রোধে সহায়ক। সেই সাথে এই গাছ ওষুধি গাছের শ্রেণীভুক্ত।

কিন্তু প্রাকৃতিক বন উজাড় হওয়ার পাশাপাশি এই পিটুলিগাছও বিলুপ্তর পথে। তবে খুলনা ও সুন্দরবন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বনভুমিতে এই গাছ এখনো পাওয়া যায়। যেখান থেকে কাঠুরিয়া কেঠে ওই অঞ্চলের আইসক্রিম কারখানাগুলোতে সরবরাহ করে। কিন্তু চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে এই গাছ এখন পাওয়া যায় না। আর আইসক্রিম তো তৈরী হচ্ছেই। তাহলে আইসক্রিমের ওই কাঠি কি গাছের।

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে আইসক্রিমের ওই কাঠি বানানো হচ্ছে সংরক্ষিত বনের বিষাক্ত গামারি, গর্জন, আকাশমনি, চাপালিশ, মেহগনিসহ নানা রকম গাছের উচ্ছিষ্ঠ থেকে। যেসব গাছের বিষাক্ত রস-কষ মানুষের পেটে গেলে নানা রকম রোগে লিভার, কিডনি আক্রান্ত হতে পারে। আর শিশু স্বাস্থ্যের জন্য এই কাঠি হতে পারে মারাত্মক প্রাণহানিকর।

তিনি বলেন, গামারি, গর্জন, মেহগনি, আকাশমনিসহ এসব বনজগাছ ঘরের আসবাব তৈরীর উপযোগী। এসব গাছ বিষাক্ত বলে সহজে ঘুণে ধরে না। পোকায় খাই না। যেসব গাছ বিষাক্ত নয় সেসব গাছ ঘুণে ও পোকায় খাই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন আইসক্রীম তৈরীর কারখানা এমনিতেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তার উপর বিভিন্ন প্রকার কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক ব্যবহার করে আইসক্রীম তৈরী করা হয়। যা খেয়ে নিত্য পেটের পীড়ায় ভুগে শিশুরা। তম্মধ্যে আইসক্রীম তৈরীর বিষাক্ত কাঠি সংগ্রহ করে তারা নগর ও জেলার বিভিন্ন করাত কল থেকে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথায় অবস্থিত এমন একাধিক করাতকলে তৈরী হয় আইসক্রীম তৈরীর কাঠি। মোহরা স‘মিল নামক কারখানার ম্যানেজার জসিম উদ্দিন আইসক্রীম তৈরীর কাঠি তৈরীর কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বাজারে কাঠের মূল্য অনেক বেশি। তাই ঘরের আসবাবপত্র (ফার্নিসার) তৈরী করে অপ্রয়োজনীয় কাঠ থেকে আইসক্রিমের কাঠি তৈরী করা হয়। প্রতি হাজার কাঠি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রয় করেন বলে জানান তিনি।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইসক্রিমের কাঠি ছোট, তাই নরম কাঠ দিয়ে এ কাঠি হয় না। ফার্নিচার তৈরীর কাঠ গামারি, গর্জন, আকাশমনি, সেগুন, মেহগনি, চাপালিশ থেকে নিয়ে বিভিন্ন প্রকার বনজ গাছের উচ্ছিষ্ঠ অংশ দিয়ে আইসক্রীমের কাঠি তৈরী করা হয়। তবে এসব গাছ বিষাক্ত কি না তিনি তা জানেন না বলে জানান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে এ রকম বহু স মিল রয়েছে যেখানে আইসক্রীমের কাঠি তৈরী করে বিক্রী করা হয়। কিন্তু এসব কাঠিতে বিষের ব্যাপারে কোন সময় শুনিনি। কেউ কোন সময় বলেনি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম ষ্টারল্যাবের লিভার বিশেষজ্ঞ সেলিম সরোয়ার বলেন, পিটুলিগাছ নামক এক ধরণের গাছ থেকে আইসক্রীম তৈরীর কাঠি তৈরীর কথা জানতাম। তবে বিভিন্ন বনজগাছ থেকে যে কাঠি তৈরী করে আইসক্রীম তৈরীতে ব্যবহার হচ্ছে তা সত্যিই উদ্বেগজনক। কারণ এসব গাছ বিষাক্ত হতেই পারে। যদিও এ বিষয়ে প্রমাণ করার সুযোগ আমার নেই।

তিনি বলেন, ওষুধি গাছ যেমন আছে, তেমনি বিষও তৈরী হয় গাছপালা থেকে। বিজ্ঞানের আলোকে তৈরী ওষুধের মূল নির্ঝাসই হচ্ছে গাছপালা। আর এই ওষুধ হচ্ছে বিষে বিষক্ষয়। তবে বিষয়টি বন গবেষকরাই নিশ্চিত করে বলতে পারবেন।

মতামত