টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দেশের উন্নয়নের পথ ধ্বংস করাই বিএনপির কাজ

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো


চট্টগ্রাম, ০৬ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::দেশের উন্নয়নের পথ ধ্বংস করাই বিএনপির কাজ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সারাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছিল। দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের নাজুক অবস্থা ছিল। আমরা মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেছি। সরকারী সেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছি। আমরা গ্রামের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া শুরু করেছিলাম।

২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি সেটা বন্ধ করে দেয়। ওই সময় আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর মামলা হামলা চালায়। আমার ওপর গ্রেনেড হামলা করে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, বাংলা ভাই সৃষ্টি করে।

শনিবার বিকালে কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন করি, বিএনপি ক্ষমতায় এসে হ্ত্যাযজ্ঞ চালায়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে কক্সবাজার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের ৭ নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। তাদের পরিবারগুলোর ওপর নির্যাতন করেছে। উখিয়ার বৌদ্ধমন্দিরে আগুন দিয়েছে। ওই সময় বিদ্যুৎকেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়েছি। কক্সবাজারের হিন্দুপল্লীর বাড়িঘরে আগুন দেওয়াসহ পালপাড়া, টাইমবাজারে সংখ্যালঘুদের দোকান, বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে ওই সময়। ২০ হাজার একর বনভূমি বিএনপি ক্যাডাররা দখল করে নিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সেই শোক, সেই ব্যথা নিয়েও আমি আপনাদের কল্যাণে আপনাদের মাঝে ছুটে এসেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না গিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। এর আগে তারা নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে ১৬৫জনকে হত্যা করেছে। পরিবহন খাতে ৫৫জন চালক হেলপারকে হত্যা করেছেল, ৫৮২স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে সার্বিক উন্নয়নে আবারও কাজ শুরু করি।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফার সমভাপতিত্বে সভায় ঘড়ির কাঁটা বিকাল ঠিক ৩টা বেজে ৪৭ মিনিটে বক্তৃতা দিতে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ প্রায় ৫০ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো দেশের অনেক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেললাইনের দাবি পূরণ হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রাস্তা চারলেনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। মহেশখালী দ্বীপে চর জেগেছে, সেসব এলাকা উন্নত করে কক্সবাজারসহ যেন বাংলাদেশ উন্নত হয় সে ব্যবস্থা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর স¤প্রসারণ করতে যে মানুষগুলো আছে, তাদের আশ্রয়ণ প্রকল্প করে দেওয়া হবে। আমরা গ্যাস সঞ্চালন লাইনের কাজ শুরু করেছি। শিল্পায়নের জন্য সারা বাংলাদেশে আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। ট্যুরিস্ট জোন তৈরি করে দেওয়া হবে। নাফ ট্যুরিজম কেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সোনাদিয়া গভীর সমূদ্রবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।’ বাঁশখালীতে অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অবৈধভাবে যারা ক্ষমতা দখল করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতা দখল করে, তারা জনগণের কথা ভাবে না। তারা ক্ষমতা ভোগ করে আর কিছু এলিটকে লুটপাটের সুযোগ করে দেয়। ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে ঘোষণা দিয়েছিলাম, আমি শাসক না জনগণের সেবক হিসেবে বাংলাদেশ পরিচালন করব। আমার বাবা দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, আমি জানি এটা আমার জন্য কঠিন পথ। কারণ এই মাটিতে আমার বাবা-মা-ভাইসহ পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একইদিনে মেজ ফুফুর বাড়ি সেজ ফুফুর বাড়িতে আক্রমণ করে তার স্বামী ছেলেকে হত্যা করেছে, আমার ছোট ফুফুর বাড়িতেও আক্রমণ করে ফুফাকে না পেয়ে ফুফুকে গৃহবন্দি করেছে। এভাবে হত্যাযজ্ঞ চলেছে।

কক্সবাজারের একটা বদ নাম আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার থেকে নাকি ইয়াবা পাচার হয়। ইয়াবা পাচার বন্ধ করুন। যারা ইয়াবা পাচারে জড়িত তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তারা দেশের জন্য অভিশাপ।

তিনি বলেন, মাদক মানুষকে ধংস করে। সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। মাদকদ্রব্য থেকে সন্তানদের দূরে রাখার বিষয়ে মা-বাবাকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে রুঁখে দিতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। স্বাধীন জাতি ভিক্ষা করতে পারেনা। আমরা ভিক্ষুকমুক্ত জাতি গড়তে চাই। বঙ্গবন্ধু সে লক্ষ্যেই কাজ করেছিলেন। জাতির জনকের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের দল। মানুষের ভগ্যোন্নয়নে আমরা কাজ করি। আওয়ামী লীগের হসসয়ে কোন মানুষ নিঃস্ব থাকবে না। গৃহহারা হবেনা কেউ। আমরা প্রতিটি মানুষের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করে চলেছি। নিঃস্ব মানুষদের মাথাগুজার ঠাঁই করতে ‘গুচ্ছগ্রাম’ তৈরী করছি। আশ্রয়হীনদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি। শেখ হাসিনার মতে, নৌকায় ভোট দিলে উন্নয়ন হয়। মানুষের ভাগ্য খোলে যায়। আওয়ামী লীগের মেগা উন্নয়ন কর্মে দেশ এগিয়ে যায়। শুন্য অবস্থায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতা নিলেও আজকে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ন। বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফার সমভাপতিত্বে সভায় ঘড়ির কাঁটা বিকাল ঠিক ৩টা বেজে ৪৭ মিনিটে বক্তৃতা দিতে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ প্রায় ৫০ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো দেশের অনেক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের পরিচালনায় সভায় প্রধানমন্ত্রীর আগে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদ, সাংগঠনিক এনামুল হক শামীম।

বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহামদ, কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাংসদ আবদুর রহমান বদি, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিকসহ আওয়ামী লীগের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।

এর আগে দুপুরে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সকাল ১০টায় বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজ মেঘদূত এ চেপে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এসময় কক্সবাজারের স¤প্রসারিত রানওয়ে ব্যবহার করে নামার পর বিমানবন্দরে বড় আকারের উড়োজাহাজ চলাচল উদ্বোধন করেন তিনি।

মতামত