টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে আজ ৭ প্রকল্পের উদ্বোধন ৮ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো

চট্টগ্রাম, ০৬ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিনের সফরে আজ শনিবার কক্সবাজার আসছেন। এদিন সাতটি প্রকল্পের উদ্বোধন ও আটটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সকাল ১০টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রথমে ৭৩৭-৮০০বোয়িং বিমান চলাচল উদ্বোধন করবেন। ১১২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স¤প্রসারিত বিমানবন্দরের অংশ এটি। সকাল ১১টায় ইনানীতে সেনাবাহিনী আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি উদ্বোধন করবেন।

তাকে স্বাগত জানাতে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, আওয়ামী লীগ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে।

প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর পক্ষে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের উদ্বোধনসহ সাতটি প্রকল্প উদ্বোধনের প্রস্তুতি শেষ করেছে। আর কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জনসভার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

জনসভায় উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন থেকে ২ লক্ষাধিক লোক সমাগম হবে বলে জানান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা।

কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়কটি কক্সবাজার জেলাবাসীর স্বপ্নের সড়ক। আর ওই সড়কটি উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার এ সফর।

জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ ছাড়াও সাত প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া আটটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর মধ্যে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তিনি নিজের একটি আন্তর্জাতিক বিমানে এসে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের উদ্বোধন করবেন। এরপর তিনি ইনানীস্থ মেরিন ড্রাইভ সড়কের ২৬ কিলোমিটার এলাকায় সেনাবাহিনীর অধীনে নির্মিত মেরিন ড্রাইভ সড়কের উদ্বোধন করবেন।

এছাড়া কক্সবাজার সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবন, কক্সবাজার সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী নিবাস, মহেশখালী আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন, উখিয়ার বঙ্গমাতা মুজিব মহিলা কলেজের ভবন উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে বাঁকখালী নদীর ওপর বক্সগার্ড ব্রিজ, কক্সবাজার আইটি পার্ক, নাফ ট্যুরিজম পার্ক, এলএনজি টার্মিনাল, এসপিএম প্রকল্প, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় ও কুতুবদিয়া কলেজের ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে বরণে কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গসংগঠন। প্রধানমন্ত্রীকে বরণে কয়েক দিন ধরে জোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথকভাবে এই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর ‘ঐতিহাসিক’ জনসভায় যোগ দেবেন দু’লক্ষাধিক মানুষ। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তোরণে তোরণে ভরে গেছে কক্সবাজার শহর। দু’দিন ধরে জেলা ও উপজেলাতে হয়েছে স্বাগত র‌্যালী। জনসভা নিয়ে তুমুল চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনে। প্রধানমন্ত্রীর আগমণ এবং জনসভাকে সফল করতে সব দলীয় সব সংগঠনের নেতাকর্মীরা দারুণ উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য কক্সবাজারের দায়িত্বরত ছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পুলিশসহ বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অতিরিক্ত নিয়োজিত করা হয়েছে। একই সাথে এসেছে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যও। পুরো কক্সবাজারকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে তারা। কক্সবাজার শহর ও উখিয়ার ইনানীতে কয়েকদিন আগে থেকেই বিভিন্ন পয়েন্ট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশী ও নজরদারি জোরদার করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমণে আয়োজিত দলীয় ‘ঐতিহাসিক’ বিশাল জনসভা ২ লক্ষাধিক লোকের সমাগমের টার্গেট নিয়ে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৫টায় মঞ্চ প্রস্তুত করে এসএসএফকে হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর দলীয় ‘ঐতিহাসিক’ বিশাল জনসভাকে সফল করতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগসহ আরো কয়েকটি অঙ্গসংগঠনের তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে। নিরাপত্তার জন্য পুরো জনসভাস্থল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘেরাও করে রাখবে।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে সফল জেলা ছাত্রলীগ আলাদা করে প্রস্তুতি সভা করেছি। তবে আওয়ামী লীগের সাথে সমন্বয় করে আমরা জনসভা সফল করতে নিষ্ঠার সাথে কাজ করবো।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারের মানুষকে লাখো কোটি টাকার উন্নয়ন দিয়েছেন। তার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এখন আমাদের উচিত প্রধানমন্ত্রীকে সেভাবে অভ্যর্থনা জানানো। সে লক্ষ্যে আমরা ২লাখ মানুষ সমাগমের টার্গেট নিয়ে জনসভা আয়োজন করেছি। আশা করি এটি কক্সবাজারের বিরল ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক জনসভা হবে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘নয় বছরের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রী তিনবার কক্সবাজারে আসছেন। এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার। আরো সৌভাগ্য তিনি আমাদেরকে উন্নয়ন দিয়ে যাচ্ছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর আগমণকে সার্থক করে তুলতে আমরা অন্যরকম একটা জনসভা উপহার দেবো।’ জনসভায় প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচন নিয়ে বিশদ কথা বলবেন। দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা নিয়ে আগামী জন্য প্রস্তুতি নেবেন বলে আশা করেন তিনি।

জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।’

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা দু’ মেয়াদে কক্সবাজারে দেড় লাখ কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে মেগা প্রকল্প। এছাড়াও কক্সবাজার বিমানবন্দর স¤প্রসারণ, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল, মেডিকেল কলেজ, নাফ ট্যুরিজম পার্ক প্রকল্পও বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকল্প। এসব প্রকল্পের অর্ধেক বাস্তবায়ন হয়েছে। অবশিষ্টগুলো বাস্তবায়নের পথে। সব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে একটি স্বপ্নের কক্সবাজারকে দেখতে পাবে বাংলাদেশ।

মতামত