টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ভূজপুরে ১২ বছরের শিশু ধর্ষণ: পলাতক ধর্ষক

মীর মাহফুজ আনাম
ভূজপুর থেকে ফিরে

চট্টগ্রাম, ০৫ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানাধীন ভুজপুর ইউনিয়নে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ধর্ষক পলাতক রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় মহিলা ইউ.পি সদস্য আয়েশা বেগম ও ভূজপুর ইউ.পি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ধর্ষিত শিশু শান্তা (ছদ্দ নাম) স্থানীয় আল মাহাদুল ইসলাম বালক-বালিকা মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সে পশ্চিম ভূজপুর গ্রামের ২ নং ওয়ার্ডের কাতা বেচার বাড়ীতে নানীর সাথে বসবাস করে আসছে। ঘটনার দিন গত ২৮ এপ্রিল (শুক্রবার) ধর্ষিত শিশুটি নানীর সাথে একই গ্রামের পার্শ্ববর্তী ৩ নং ওয়ার্ডের কাসেম মেম্বারের বাড়ীতে জনৈক শামসুল আলমের মেয়ের বিয়ের অনুষ্টানে গেলে সেখানেই ধর্ষনের ঘটনাটি ঘটে। ইউ.পি সদস্য আয়েশা বেগম জানান, ‘শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় সবাই নামাজ এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে পার্শ্ববর্তী ঘরে সুযোগের সন্ধানে উৎপেতে থাকে ইসমাঈল হোসেন মানিক (২৩)। সে ওই এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের দ্বিতীয় ছেলে। ধর্ষিত শিশুটি মানিকের ঘরের পাশ দিয়ে বিয়ের অনুষ্টানে যেতে চাইলে, মানিক শিশুটিকে ঘরের বাইরে থাকা একটি চেয়ার ঘরে ঢুকিয়ে দেয়ার কথা বলে কৌশলে শিশুটিকে ঘরে ঢুকিয়ে নেয়। এরপর ঘরের সব দরজা-জানলা বন্ধ করে শিশুটিকে উপর্যপুরী ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে শিশুটির আত্মচিৎকারে সবাই ছুটে আসে। ততক্ষণেই পালিয়ে যায় ধর্ষক মানিক।’

ঘটনার পরদিন শনিবার সকালে ইউ.পি সদস্য আয়েশা বেগম শিশুটিকে দেখতে গেলে, তার মুখ ও শরীরের কয়েকটি অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায় বলে জানান।

তিনি জানান, আইনি আশ্রয়ের জন্য ধর্ষিতার পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদ অথবা থানা পুলিশে অভিযোগ করার পরামর্শ দিলেও তারা কোন ধরনের অভিযোগ করেনি। আজ শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে শিশুটির পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। থালা ঝুঁলানো অবস্থায় দেখা যায় নানী মালেকা বেগমের ঘর। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার দু’দিন পর থেকেই ঘর থালা ঝুঁলানো অবস্থায় রয়েছে। তারা কোথায় রয়েছে কারোরই জানা নেই।’

এ ব্যাপরে জানতে চাইলে ভূজপুর ইউ.পি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে ধর্ষক মানিক পলাতক রয়েছে। অপরদিকে, ধর্ষিতার পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু তারা কোন ধরনের সহায়তা নেয়নি।’

মতামত