টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

প্রধানমন্ত্রী আসছেন, তাই

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো

চট্টগ্রাম, ০৫ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: শনিবার এক দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফল রাষ্ট্রনায়কের আগমনকে ঘিরে নেয়া হয়েছে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চারিদিকে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। ইতোমধ্যে কক্সবাজার শহরজুড়ে পোস্টার, ব্যনার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। শহরের মূল সড়কে আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের নামে শতাধিক তোরণ নির্মিত হয়েছে।

শহরের প্রবশে দ্বার লিংকরোড় থেকে শুরু করে লাবনী পয়েন্ট পর্যন্ত শুধু তোরণ আর তোরণ। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত নারা রঙ আর বাহারী ডিজাইনের ব্যনার আর ফেস্টুন সবার নজর কাড়ছে। একেই বলে শ্রদ্ধা। একেই বলে ভালবাসা।

কক্সবাজার এর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ছবি সংযুক্ত করে জেলা ছাত্রলীগের পোস্টার সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নজর কাড়ছে স্বাগত ও শ্রদ্ধা জানিয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী ওলামা লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আল আবরার ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল হকের তোরণ।

শনিবার সকাল ১০ টায় তিনি বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছবেন। ১১ টায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক উদ্বোধন করবেন। দুপুর সাড়ে ১২ টায় কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জনসভায় ভাষণ দেবেন। সমাবেশে অন্তত ২ লাখ মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা জানান, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে তাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। তিনি জানান, জনসভায় ৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক, পাঁচটি মেডিকেল টিম নিয়োজিত করা হয়েছে। পর্যাপ্ত টয়লেট ও খাবার পানির জন্য ১০টি টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিটি উপজেলা থেকে বিপুল লোকজন জনসভা যোগ দেবেন বলে আশা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

কক্সবাজারের কলাতলি থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাগরের তীর দিয়ে মেরিন ড্রাইভ নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে। সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু করে। নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় সড়কটি তৈরির কাজে। ঠিক সময়ে ব্যয় বরাদ্দ না পাওয়া তো আছেই, উপরন্তু প্রচন্ড ঢেউয়ের সাথে রীতিমতো যুদ্ধ করেই সড়কটি তৈরিতে ধীর গতিতে এগিয়ে যান ইসিবি সদস্যরা। পরে কাজের সুবিধার্থে মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের কাজটি তিন ভাগে ভাগ করা হয়। ২০০৮ সালের জুনে সড়কটির প্রথম পর্যায়ের কাজ সমাপ্ত হয়। ২০০৮-০৯ বছরে প্রয়োজনীয় অর্থছাড়ে বিলম্ব হওয়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজেও নেমে আসে ধীরগতি। ২০১৫ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে সড়কটির দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ ইনানি থেকে শীলখালী পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়। ২০১৪ সালের এপ্রিলে ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন সড়কটির অসমাপ্ত কাজের দায়িত্বে আসে। সদর দফতরের স্পেশাল ওয়ার্ক অর্গনাইজেশনের সার্বিক তত্ত¡াবধানে ব্যাটালিয়ন সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করার ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর আগেই মোট ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণকাজ সমাপ্ত হলো। ১৭টি ব্রিজ ও ১০৮টি কালভার্টসহ মোট ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে সহস্রাধিক কোটি টাকা। সড়কটি পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত যে খুলে দেবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কক্সবাজার জেলায় বর্তমান সরকারের গৃহীত প্রায় ২৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার হবে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চল। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর একটি হচ্ছেÑ মাতারবাড়ি তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প। জাপান উন্নয়ন সংস্থা জাইকা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা মৌজায় ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রায় ২৬০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জমির দখল হস্তান্তর করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের ৮০ ভাগ টাকা প্রদান করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। এ প্রকল্পটি জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হবে। ছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক এলএনজি ও কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক, হেতালিয়া, কালারমারছড়া, হরিয়ারছড়া, পানিরছড়া, অমাবস্যাখালী মৌজায় ৫৬৪৭ একর জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য মৌজা মূল্য অবিশ্বাস্যভাবে কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তজমির মালিকদের প্রকৃত ক্ষতিপূরণ প্রদানের লক্ষ্যে মূল্য নির্ধারণের জন্য মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। প্রতিবেদনটি অনুমোদনের পর প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এ প্রকল্প থেকে প্রায় ৮৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে বলে আশা করছে সরকার। পর দিকে ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য পেকুয়া উপজেলার করিয়ারদিয়া মৌজায় ১৫৫৭.৩৪ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের কাজও দ্রæত এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে ৮৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মহেশখালী উপজেলায় ৩১ কিলোমিটার এবং পেকুয়া উপজেলায় ১৪ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংযোগ সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চকরিয়া একতা বাজার হয়ে পেকুয়া-ইটমনি-বদরখালী-মহেশখালীর ইউনুচখালী থেকে কোহেলিয়া নদী পার হয়ে মাতারবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়ক প্রকল্প ইতোমধ্যেই একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০২ কোটি টাকা। এতে কোহেলিয়া নদীর ওপর ৬৪০ মিটার দীর্ঘ একটি ব্রিজ ও ৪৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে বলে সড়ক বিভাগ জানায়। এ ছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটির ৩০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় এক হাজার ১২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ, সড়ক ও ব্রিজ এবং বেড়িবাঁধ নির্মাণ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরের পশ্চিম পাশে সরকারি খাস জমিতে বসবাসরত চার হাজার ৪০৯টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে খুরুস্কুলে ২৫৩.৩৫ একর জমিতে বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে রাখার জন্য ইতোমধ্যে মহেশখালী উপজেলাকে ডিজিটাল আইল্যান্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কোরিয়ান টেলিকম নামক প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নের কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে। আইওএম এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। রামু উপজেলায় দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে ৮.১৬ একর জমিতে হাই টেকপার্ক স্থাপনের জন্য প্রকল্পের জমি ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়েছে। কক্সবাজারে অন্যতম প্রকল্প হচ্ছে দোহাজারী কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প। চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রেললাইনটি শুরু হয়ে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া ও রামু উপজেলা হয়ে কক্সবাজার শহরে চলে আসবে। ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এডিবি প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে। আগামী মাসের মধ্যেই ভূমি অধিগ্রহণপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। এ ছাড়া টেকনাফের সাবরাংয়ে এক্সকুসিভ জোন প্রতিষ্ঠা, টেকনাফের জালিয়ার দ্বীপ ও সোনাদিয়ায় পর্যটনের জন্য বিশেষ অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলছে।

মতামত