টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সন্ধ্যায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হচ্ছেন হাসিনা-মোদি

চট্টগ্রাম, ০৫ মে ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: নিজ নিজ দেশে বসেই কথা বলবেন বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো কার্যসূচিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে জানানো হয়, বাসভবন গণভবনে বসে প্রধানমন্ত্রী এই ভিডিও কনফারেন্স করবেন সন্ধ্যা ছয়টায়।

দুই প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে কী নিয়ে কথা বলবেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানায়নি কোনো পক্ষ। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে যেসব বিষয়ে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে অগ্রগতি এবং তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গও প্রাধান্য পেতে পারে।

গত ৭ এপ্রিল চার দিনের সফরে ভারত যান প্রধানমন্ত্রী। সফরে মোট ৩৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয় বলে দেশে ফিরে জানিয়েছেন শেষ হাসিনা। এর মধ্যে চুক্তি ১১টি এবং বাকি ২৪টি সমঝোতা স্মারক। এসব চুক্তিতে আর্থিক বিষয়াবলী আছে মোট ৪০ হাজার কোটি টাকার।

এই সফরে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে তার চেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি না হওয়ার বিষয়ে। তবে মোদি আশ্বাস দিয়েছেন, বর্তমান সরকারের আমলেই এই চুক্তি হবে এবং এ নিয়ে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা ছিল ২০১১ সালেই। কিন্তু সে দেশের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর ঢাকা সফরের আগে আগে বেঁকে বসেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তার দাবি, বাংলাদেশকে যে পরিমাণ পানি দেয়ার কথা চুক্তির খসড়ায় বলা ছিল, সে পরিমাণ পানি পশ্চিমবঙ্গেই আসে না। উজানে গজলডোবায় ব্যারাজ নির্মাণ করে পানি প্রত্যাহার করে নেয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে মমতা আবার বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি তোর্সা নদীর পানি তিস্তায় এসে বাংলাদেশকে পানি দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাব বাংলাদেশ বা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার- কারও কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, প্রয়োজনে মমতাকে বাদ দিয়ে তিস্তা চুক্তি করার বিষয়ে মোদির আগ্রহ রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রী সে কথা গণমাধ্যমকে বলেছেনও।

ভারত সরকার বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি করলে এবং তাতে কোনো রাজ্যের স্বার্থ থাকলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করেই চুক্তি করে। তবে দেশের সংবিধানে কেন্দ্রীয় সরকারকে রাজ্যের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই চুক্তির ক্ষমতা দেয়া আছে।

মতামত